kalerkantho

রবিবার । ৯ মাঘ ১৪২৮। ২৩ জানুয়ারি ২০২২। ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সংসদ অধিবেশন

টিকা কেনার খরচ জানাননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টিকা কেনার খরচ জানাননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে প্রতিযোগিতামূলক দামে ভ্যাকসিন কেনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি টিকার সংখ্যা জানালেও তা কিনতে কত খরচ হয়েছে তা জানাননি। তিনি বলেছেন, এ পর্যন্ত ২১ কোটি ১৭ লাখ ৩০ হাজার ডোজ টিকা কেনা হয়েছে। নন-ক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্টের মাধ্যমে টিকা কেনার কারণে সংসদে টাকা খরচের হিসাব প্রকাশ করা সমীচীন হবে না।

বিজ্ঞাপন

গতকাল বৃহস্পতিবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য উল্লেখ করেন মন্ত্রী। এর আগে সরকারি দলের আবুল কালাম আজাদ তাঁর প্রশ্নে কতসংখ্যক টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এ জন্য কত টাকা খরচ হয়েছে তা জানতে চান।

লিখিত জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চীন থেকে সাত কোটি ৭০ লাখ ডোজ সিনোফার্ম, সাত কোটি ৫১ লাখ ডোজ সিনোভ্যাক, ভারত থেকে তিন কোটি কোভিশিল্ড এবং কোভ্যাক্সের আওতায় দুই কোটি ৯৭ লাখ ২০ হাজার ডোজ সিনোফার্মের টিকা কেনা হয়েছে। তিনি জানান, চীন, ভারত ও কোভ্যাক্স থেকে সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতামূলক দরে সততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে টিকা কেনা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, সিসিজিপি ও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে এ টিকা কেনা হয়।

সরকারি দলের সদস্য আলী আজমের প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে ২৯ কোটি ৪৪ লাখ ১০ হাজার ডোজ ভ্যাকসিনের সংস্থান করা হয়েছে। গত ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত আট কোটি ৪১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে; এর মধ্যে পাঁচ  কোটি ১৩ লাখ ৩২ হাজার ৮৬৪ জনকে প্রথম ডোজ এবং তিন কোটি ২৮ লাখ পাঁচ হাজার ১৯০ জনকে দ্বিতীয় ডোজ।

বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক জানান, মাদকসেবীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে দেশের প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে আলাদা ইউনিট চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গত আগস্ট পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ড্রাগ লাইসেন্সহীন ওষুধের দোকান ১২ হাজার ৫৯২টি। লাইসেন্সহীন দোকান শনাক্ত ও লাইসেন্স দেওয়া চলমান প্রক্রিয়া। ৫৫ জেলা কার্যালয় ও আট বিভাগীয় কার্যালয়ের মাধ্যমে সারা দেশে ঔষধ প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিয়মিত দোকান পরিদর্শন করেন। লাইসেন্সহীন দোকান শনাক্ত হলে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য কাজিম উদ্দিন আহম্মেদের প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তার স্বার্থে ওষুধের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। নকল-ভেজাল ওষুধ বিক্রি প্রতিরোধে সরকার কঠোর। নকল ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক হাজার ৭১৫টি মামলা করেছে। এতে সাত কোটি ৫৮ লাখ ১০০ টাকা জরিমানা আদায় হয়েছে। তিনি জানান, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৪৬টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে হোমিও ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ১৭টি, হারবাল ওষুধ উৎপাদনকারী চারটি, অ্যালোপ্যাথিক পাঁচটি, ইউনানি ছয়টি এবং আয়ুর্বেদিক ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ১৪টি। একই সময়ে ১৪টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ স্থগিত করা হয়।

 



সাতদিনের সেরা