kalerkantho

শুক্রবার । ৭ মাঘ ১৪২৮। ২১ জানুয়ারি ২০২২। ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ঢাকার গণপরিবহন

৪ কারণে বিনিয়োগ হচ্ছে না

লায়েকুজ্জামান   

১৯ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৪ কারণে বিনিয়োগ হচ্ছে না

এ রকম লক্কড়ঝক্কড় বাসও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রাজপথ। ছবি : কালের কণ্ঠ

চার কারণে বাস মালিকরা রাজধানীর পরিবহন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী নন। তাই গত পাঁচ বছরে রাজধানীতে ব্যক্তি মালিকানায় নতুন কোনো বাসও নামেনি। চলাচলে ফিটনেসহীন লক্কড়ঝক্কড় বাসই এখন রাজধানীবাসীর ভরসা। মাঝে মাঝে বিআরটিএ ও সিটি করপোরেশন ফিটনেসহীন বাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও তাতে বাসের পরিবর্তে দেখা হয়  কাগজপত্রের ফিটনেস।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর সড়কে চলাচল করা বেশির ভাগ বাসের পেছনে দিকনির্দেশক বাতি নেই, নেই লুকিং গ্লাস, রং জ্বলে বিবর্ণ। বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে, জানালার গ্লাস ভাঙা, ভেতরের আসনগুলো জরাজীর্ণ, তাতে বাসা বেঁধেছে ছারপোকা। অনেক বাসের ব্রেক কাজ করে না ঠিকমতো। কোনো কোনো বাসের নাম্বার প্লেটও নেই। সব মিলে অতিমাত্রার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে এসব বাস।

বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে নিবন্ধিত বাসের সংখ্যা সাড়ে সাত হাজার হলেও রাস্তায় চলছে পাঁচ হাজার। এসব বাসের বেশির ভাগের নেই ফিটনেস।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, রাজধানীতে চলাচল করা ৪০ শতাংশ বাসের কাগজপত্রের ফিটনেস থাকলেও ৬০ শতাংশ বাসের ফিটনেসই নেই। আবার যে ৪০ শতাংশের কাগজপত্রের ফিটনেস আছে তার মধ্যেও অনেক বাসের ফিটনেস নেই।

রাজধানীর সড়কে মালিকরা কেন গণপরিবহনে বিনিয়োগ করতে চাইছেন না তা নিয়ে কথা হয় একাধিক মালিকের সঙ্গে। তাঁরা  এর পেছনে থাকা চারটি কারণের কথা জানান।

প্রথমত, রাজধানীর সড়কে যানজট বেশি। এই যানজটের কারণে একটি বাস নির্ধারিত রুটে দুই থেকে তিনবারের বেশি যাতায়াত করতে পারে না। কোনো কোনো দিন সেটাও সম্ভব হয় না। অথচ বাসটির পাঁচবার যাতায়াত করার কথা ছিল। এর ফলে বেশির ভাগ সময় বাসের জ্বালানিসহ চালক ও সহকারীদের মজুরি তোলাই কষ্টকর হয়ে ওঠে।

দ্বিতীয়ত, বর্তমানে কম্পানি গঠন করে রাজধানীর সড়কে বাস পরিচালনা করা হয়। এ কারণে বাসের মালিকদের নির্ভর করতে হচ্ছে কম্পানির নেতাদের ইচ্ছার ওপর। ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাই এসব কম্পানির শীর্ষ পদে রয়েছেন। এঁদের ইচ্ছার বাইরে গিয়ে সড়কে বাস নামানো সম্ভব নয় বাস মালিকদের। আবার যেসব বাস সড়কে নামানোর অনুমতি দেওয়া হয় সেগুলোয় আয় হোক বা না হোক প্রতিদিন নির্ধারিত হারে কম্পানিকে চাঁদা দিতে হয়। রুটভেদে দৈনিক এই চাঁদার পরিমাণ ৮০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা। আর রাজধানীর প্রতিটি এলাকা থেকে প্রতিদিন সকালে বাস চলাচল শুরুর আগে বাধ্যতামূলক নিতে হয় ভাঙতি টাকা। এই ভাঙতি টাকা নেওয়ার সময় স্থানীয় মাস্তানরা ২০ শতাংশ হারে কমিশন কেটে রাখে।

তৃতীয়ত, বাস রুট রেশনালাইজেশন নিয়ে এক ধরনের ভীতি রয়েছে মালিকদের মধ্যে। সম্প্রতি ঢাকা সিটি করপোরেশন গঠিত বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেরানীগঞ্জ থেকে কাঁচপুর রুটে প্রথম ধাপে ১২০টি বাস চলাচল করবে। মালিকদের ভয়, নতুন এই উদ্যোগে তাঁরা বাস নামানোর সুযোগ পাবেন কি না। বেশ কজন বাস মালিক জানান, তাঁরা ভয়ে আছেন। ক্ষমতাসীনদের কারণে নতুন উদ্যোগে তাঁরা যদি বাস নামানোর সুযোগ না পান। এ কারণে তাঁরা পরিস্থিতি বুঝে নতুন বিনিয়োগ করতে চাইছেন।

চতুর্থ কারণ, রাজধানীতে মেট্রো রেল চালু নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন তাঁরা। অনেক মালিক মনে করছেন, মেট্রো রেল চালু হলে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবসা আরো সংকুচিত হবে। সে কারণে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন না তাঁরা।

এই পরিস্থিতিতে কয়েকজন বাস মালিক বলছেন, রাজধানীতে নতুন একটি বাস নামাতে যে পরিমাণ টাকার প্রয়োজন তা দিয়ে গ্রামে ৫০টির বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নামালে অনেক বেশি লাভবান হওয়া যায়। এ কারণে কেউ আর নতুন করে রাজধানীর গণপরিবহন খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ পাচ্ছেন না।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতউল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, রাজধানীতে পুরনো বাস চলছে এবং নতুন বাস নামছে না এটা ঠিক। এর কারণ সরকার রাজধানীর সড়কে নতুন করে রুট পারমিটও দিচ্ছে না। এ কারণে পুরনো বাসের ওপরই ভরসা করতে হচ্ছে। তবে মালিকরা ব্যবসার সুষ্ঠু পরিবেশ পেলে নতুন বিনিয়োগ করবেন।

 



সাতদিনের সেরা