kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ মাঘ ১৪২৮। ২০ জানুয়ারি ২০২২। ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন

বিশ্বে পাঁচ বছরে ধূমপায়ী কমেছে দুই কোটি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্বে পাঁচ বছরে ধূমপায়ী কমেছে দুই কোটি

বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর ধূমপায়ীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমেছে। গেল পাঁচ বছরে বিশ্বে ধূমপায়ী ও তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমেছে দুই কোটি। এ রকম প্রেক্ষাপটে ভয়াবহ এই আসক্তি কমাতে দেশগুলোকে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আরো জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)।

গত মঙ্গলবার প্রকাশিত সংস্থার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২০ সালের হিসাবে বিশ্বে ১৩০ কোটি মানুষ তামাকপণ্য ব্যবহার করে, যেখানে ২০১৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৩২ কোটি। সেই হিসাবে এ সময়ে ধূমপায়ীর সংখ্যা কমেছে দুই কোটি।

সংস্থা আশা করছে, ২০২৫ সাল নাগাদ ধূমপান ও তামাকপণ্য ব্যবহারকারীর সংখ্যা আরো কমে হবে ১২৭ কোটি। বিশ্বে জনসংখ্যা দ্রুত বাড়লেও আগামী সাত বছরে তামাক ব্যবহারকারী আরো পাঁচ কোটি কমে যাবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তামাকের ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনার বিষয়ে ৬০টি দেশ স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসেছে। দুই বছর আগে এ তালিকায় ছিল ৩২টি দেশ। তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর এবং সমন্বিত ‘ডাব্লিউএইচও ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (ডাব্লিউএইচও এফসিটিসি)’ নীতির মাধ্যমে লাখো মানুষের জীবন রক্ষা করা গেছে জানিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, তামাকজনিত মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এটা বড় অর্জন।

সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস বলেন, ‘প্রতিবছর কমসংখ্যক মানুষকে তামাক ব্যবহার করতে দেখাটা খুবই উৎসাহব্যঞ্জক, বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে আরো দেশ এই কাতারে যোগ দিচ্ছে।’ দেশগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের আরো অনেক দূর যেতে হবে। তামাক কম্পানিগুলোও তাদের বিপজ্জনক পণ্য ফেরি করে বিশাল মুনাফা ধরে রাখার সব কৌশল ব্যবহার করবে। তামাক সেবন ছেড়ে দেওয়ার কাজে সহায়তা করে মানুষের জীবন রক্ষায় নানা ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা সব দেশকে উৎসাহ দিচ্ছি।’

ডাব্লিউএইচওর প্রতিবেদনে ধূমপানে ব্যবহৃত তামাক, সিগারেট, পাইপ, সিগার, ওয়াটারপাইপ, চুরুট, বিড়ি, তামাকজাত পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক সিগারেটের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, ২০২০ সালে বিশ্বের জনসংখ্যার ২২.৩ শতাংশ তামাকজাত পণ্য ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে ৩৬.৭ শতাংশ পুরুষ এবং ৭.৮ শতাংশ নারী। বেশির ভাগ দেশেই কম বয়সীদের কাছে বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও বিশ্বের প্রায় তিন কোটি ৮০ লাখ শিশু তামাকজাত পণ্য ব্যবহার করে বলে জানানো হয়। এসব শিশুর বয়স ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতিবছর বিশ্বে ৮০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে প্রায় ১২ লাখ মানুষ সরাসরি ধূমপান না করেও ধূমপায়ীদের সংস্পর্শে থাকার কারণে মারা যাচ্ছে।

 



সাতদিনের সেরা