kalerkantho

শুক্রবার । ৭ মাঘ ১৪২৮। ২১ জানুয়ারি ২০২২। ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

অতিথি পাখি

ডানা মেলে আসছে অতিথি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জলাশয়গুলোতে শত শত অতিথি পাখি দেখা যাচ্ছে এখনই’

শুভ আনোয়ার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়   

১৪ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডানা মেলে আসছে অতিথি

গাছগাছালিতে ঘেরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শীতের আমেজ যেন একটু আগেই নামে। এর সঙ্গে মিতালি করে আসতে শুরু করেছে পরিযায়ী বা অতিথি পাখি। ছবি : কালের কণ্ঠ

হেমন্ত এসে শীতের আগমনী গান শোনাচ্ছে বেশ কয়েক দিন হলো। তবে ভূগোলকের উত্তরের দেশগুলোতে এরই মধ্যে শীত রীতিমতো জেঁকে বসেছে। আর সে কারণেই তুলনামূলক কম শীতের আরাম খুঁজতে অতিথি পাখিরাও ডানায় ভর করে হাজির হচ্ছে এই গাঙ্গেয় বদ্বীপের চরাচরে। বরাবরের মতোই তাদের ভিড় জমছে রাজধানীর অদূরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণেও।

বিজ্ঞাপন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জলাশয়গুলোতে শত শত অতিথি পাখি দেখা যাচ্ছে এখনই। কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকালে লাল শাপলার মধ্যে অতিথি পাখির বিচরণ ও কলকাকলি মুগ্ধ করছে প্রকৃতিপ্রেমীদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ থেকে ১৫টি লেকে সাময়িক নিবাস গড়ে এ পাখির দল, যাদের কেতাবি নাম পরিযায়ী পাখি। জলাশয়সহ সবুজ এ ক্যাম্পাসে দেখা মেলে স্থানীয় বিহঙ্গকুলেরও।

প্রতিবছর অতিথি পাখি আসা নিয়ে নভেম্বরের শুরু থেকেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্যাম্পাসজুড়ে থাকে বাইরে থেকে আসা দর্শনার্থীর পদচারণ। বিরাজ করে এক উৎসবের আমেজ। বাইনোকুলার দিয়ে পাখি দেখানোর আয়োজনও করে অনেকে। তবে গত দুই বছর উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন আর করোনাভাইরাসের কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় অতিথি পাখি নিয়ে ছিল না কোনো আয়োজন। এত দিন পর স্বাভাবিকতা ফিরেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলছে ভর্তি পরীক্ষার ব্যস্ততা। পাখিরাও কলরবে মুখর। সব মিলিয়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছে জাহাঙ্গীরনগর।

মূলত অক্টোবরের শেষ দিক থেকে সাইবেরিয়া ও চীনের মতো সুদূর উত্তরের শীতপ্রধান অঞ্চল থেকে দক্ষিণ এশিয়ার উষ্ণতার টানে এদিকে পাড়ি দেয় অসংখ্য অতিথি পাখি। প্রচণ্ড শীত আর খাদ্যের অভাবের কারণেই তাদের এই সফর। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ওরা ফিরে যেতে শুরু করে নিজস্ব নীড়ে।

দেশের যেসব জায়গায় পরিযায়ী পাখি আসে, সেগুলোর মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রথম দিকেই। এখানকার নিরিবিলি সবুজ প্রকৃতি, ছোট-বড় লেক, খাবারের সহজপ্রাপ্যতা পাখিদের টানে। এ ছাড়া কর্তৃপক্ষ জলাশয়গুলো পরিষ্কার এবং কোলাহল ও দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করায় অতিথি পাখির জন্য বেশ অনুকূল হয়ে উঠেছে এখানকার পরিবেশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর লেক, বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশের লেক, ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টার লেক ও সুইমিংপুলসংলগ্ন লেকে সবচেয়ে বেশি পাখি আসে। এর মধ্যে তিনটি জলাশয়কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণা করেছে।

এ বছরও অতিথি পাখি বরণে প্রস্তুতি নিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখা জানিয়েছে, অতিথি পাখির নিরাপদ বিচরণ, খাদ্যের জোগান ও আবাসস্থলের ব্যবস্থা  করতে বরাবরের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি লেক লিজমুক্ত রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের নির্দিষ্ট দূরত্বে রাখার জন্য কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। তারা যাতে পাখিদের বিরক্ত না করে, সে জন্য সচেতনতামূলক পোস্টারও লাগানো হয়েছে। পাখির আবাসস্থল এলাকায় গাড়ির হর্ন ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ।

পরিযায়ী পাখির আসা উপলক্ষে সাধারণ মানুষকে পাখি বিষয়ে সচেতন করতে আয়োজন করা হয় পাখি মেলার। গত বছর করোনাভাইরাসের কারণে সম্ভব না হলেও সম্প্রতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসায় আগামী জানুয়ারিতে পাখি মেলা আয়োজনের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ জানায়, ক্যাম্পাসের লেকগুলোতে ১৯৮৬ সাল থেকেই অতিথি পাখি আসছে। আগে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ২০০ প্রজাতির পাখির দেখা মিলত এখানে। এগুলোর মধ্যে আছে ছোট সরালি, বড় সরালি, ডাহুক, মুরহেন, খঞ্জনা, নর্দান পিনটেইল, কোম্বডাক, পোচার্ড, জলপিপি, শামুকভাঙা, লেসার হুইসলিং ডাক, নাকটা, মানিকজোড়সহ আরো বহু প্রজাতির পাখি। তবে সাম্প্রতিককালে এখানে আসা পাখির প্রজাতির সংখ্যা কমে গেছে।

পাখি বিশেষজ্ঞ ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান বলেন, ‘কোলাহলমুক্ত পরিবেশ পাখির পছন্দ। ওদের কেউ বিরক্ত না করলে সংখ্যা আরো বাড়বে। মাত্র আসতে শুরু করেছে। শীত বাড়লে আরো পাখি আসবে। আমাদের প্রকৃতিকে ভালোবাসতে হবে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রকৃতি সংরক্ষণে উদ্যোগ নিতে হবে। ’



সাতদিনের সেরা