kalerkantho

শনিবার । ৮ মাঘ ১৪২৮। ২২ জানুয়ারি ২০২২। ১৮ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

১২ সিনেটরের চিঠি

রোহিঙ্গারা না ফেরা পর্যন্ত সুরক্ষার দায়িত্ব বাংলাদেশের

মেহেদী হাসান   

১২ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রোহিঙ্গারা না ফেরা পর্যন্ত সুরক্ষার দায়িত্ব বাংলাদেশের

রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে না ফেরা পর্যন্ত তাদের সুরক্ষার দায়িত্ব ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে’ বাংলাদেশের বলেই জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ১২ জন সিনেটর। গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে লেখা চিঠিতে তাঁরা এ কথা বলেন।

চিঠিতে তাঁরা রোহিঙ্গা নেতা মহিব উল্লাহ হত্যাকাণ্ড এবং রোহিঙ্গাদের সম্মতি ছাড়া ভাসানচরে স্থানান্তরের খবরে উদ্বেগ জানান। একই সঙ্গে তাঁরা উদ্বেগ জানিয়েছেন কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার কর্মীদের ওপর বিধি-নিষেধ নিয়ে।

বিজ্ঞাপন

যৌথভাবে লেখা চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্র সিনেটের প্রভাবশালী সিনেটর জেফরি মার্কলে, মার্কো রুবিও ছাড়াও স্বাক্ষর করেছেন সিনেটর বেঞ্জামিন কাডিন, সুসান কলিন্স, রিচার্ড ডারবিন, রজার উইকার, ক্রিস্টোফার কুনস, রন উইডেন, ক্রিস হলেন, অ্যাডওয়ার্ড জে মার্কি, কোরি বুকার ও এলিজাবেথ ওয়ারেন।

জানা গেছে, গত ৫ নভেম্বর লেখা চিঠির শুরুতেই মিয়ানমারে ভয়ংকর সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা ৯ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে তুলনামূলক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে সিনেটররা ধন্যবাদ জানিয়েছেন। রোহিঙ্গা সংকট ও রোহিঙ্গা শিবিরে কভিড সংক্রমণ মোকাবেলায় সরকারের প্রশংসা করেন তাঁরা।

সিনেটররা কভিড মহামারির কারণে রোহিঙ্গা শিবিরে মানবিক সহায়তা কর্মীদের চলাচলের ওপর বাংলাদেশের বিধি-নিষেধ আরোপের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে সুরক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চলাচলের ওপর বিধি-নিষেধে তাঁদের বাড়তি উদ্বেগ আছে।

রোহিঙ্গা শিবিরে জঙ্গিবাদ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং আগুনের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে সিনেটররা রোহিঙ্গা নেতা মহিব উল্লাহ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। সিনেটররা বলেছেন, অপরাধীরা যাতে দায়মুক্তি না পায় সে জন্য সরকারকে তার প্রচেষ্টা বহুগুণ জোরদার করতে হবে। সিনেটররা রোহিঙ্গা শিবিরে মানবিক সহায়তা কর্মী ও সুরক্ষা কর্মীদের অবাধ প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সিনেটররা রোহিঙ্গা শিবিরে শিক্ষা ও জীবিকার সুযোগসহ আরো কিছু কর্মসূচি সীমিত করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শিশুদের অধিকারবিষয়ক জাতিসংঘ সনদের আওতায় রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার অধিকারের বিষয়টিও তাঁরা তুলে ধরেছেন।

চিঠিতে সিনেটররা লিখেছেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচরে বাংলাদেশ সরকারের বিপুল বিনিয়োগের বিষয়টিও সিনেটররা আমলে নিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁরা ভাসানচর থেকে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে যাওয়া এবং পরে তাদের আবার সেখানে ফিরিয়ে আনার খবরে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন। রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের বিষয়টি সম্মতির ভিত্তিতে করার জন্য তাঁরা আহবান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভাসানচর বসবাস উপযোগী কি না, সে বিষয়ে জাতিসংঘকে কারিগরি সমীক্ষার সুযোগ দিতেও তাঁরা আহবান জানিয়েছেন।

চিঠিতে সিনেটররা স্পষ্ট বলেছেন, ‘আমরা রোহিঙ্গাদের জোর করে ভাসানচরে নেওয়া সমর্থন করি না এবং আমরা এ ধরনের নীতিতে সহযোগিতা করতে অর্থায়নও নিষিদ্ধ করেছি। ’ চিঠির শেষের দিকে সিনেটররা লিখেছেন, ‘রোহিঙ্গারা নিরাপদে বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের বিশাল সংখ্যার লোকদের সুরক্ষার দায়িত্ব বাংলাদেশকে পালন করতে হবে। ’

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে সিনেটররা বেশ কিছু দায়িত্ব পালনে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এগুলো হলো বাংলাদেশের পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পাওয়া, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় সম্প্রদায়কে সহায়তা দেওয়া, রোহিঙ্গাদের তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, রাখাইন রাজ্যে সংকটের মূল কারণ ও নৃশংসতার জন্য মিয়ানমারকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের বিষয়ে জোরালো ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানানো।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতির চেয়ে বরং মিয়ানমারে তাদের ফেরার পরিবেশ সৃষ্টিতে জোর দেওয়ার আহবান জানিয়েছে। বাংলাদেশ সাময়িকভাবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। তাদের মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে।

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশ তার দায়িত্ব পালন করছে। বাংলাদেশ ছাড়া কোনো দেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়নি। রোহিঙ্গারা যাতে মিয়ানমারে ফিরতে পারে, সে জন্য রাখাইন তথা মিয়ানমারে তাদের দৃষ্টি দেওয়া উচিত।



সাতদিনের সেরা