kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ভোলার তজুমদ্দিনের চাঁচড়া

প্রতিপক্ষের ২০০ সমর্থকের ওএমএস বন্ধ করলেন চেয়ারম্যান

ভোলা প্রতিনিধি   

৫ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিপক্ষের ২০০ সমর্থকের ওএমএস বন্ধ করলেন চেয়ারম্যান

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের নির্বাচনে প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষ নেওয়ায় দুই শতাধিক ওএমএস কার্ডধারীকে চাল দিচ্ছেন না বর্তমান চেয়ারম্যান। অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান চেয়ারম্যান আবু তাহের এসব কার্ডধারীকে চাল না দিয়ে ডিলারের মাধ্যমে তাঁদের কার্ড আটকে রেখেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তাকে বিষয়টি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

চাঁচড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কৃষক আব্দুল মালেক ও মো. জাকির, জেলে আব্দুর রব, মো. মনির, মো. কাঞ্চনসহ অন্য ওয়ার্ডের ১৪-১৫ জন ভুক্তভোগী জানান, প্রথম ধাপে চাঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে তাঁরা সাবেক চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রিয়াদ হোসেন হান্নানের পক্ষে ভোট করেন।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। জয়লাভ করেন বর্তমান চেয়ারম্যান আবু তাহের। ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি জেলে কার্ডের চাল ও বিশেষ ওএমএস কার্ডধারীদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। এই কার্ডধারীদের সবাই দিনমজুর, জেলে ও কৃষক।

তাঁরা আরো অভিযোগ করেন, গত মাসে ডিলার নতুন কার্ড দেওয়ার কথা বলে তাঁদের পুরনো কার্ড রেখে দেন। গত ২৫ অক্টোবর থেকে ওএমএসের চাল বিতরণ শুরু হলে চাল আনতে গেলে ডিলার তাঁদের বলেন, ‘আপনাদের নাম চেয়ারম্যান কেটে দিয়েছেন, আপনারা আর চাল পাবেন না’। এরপর তাঁদের কেউ কেউ চেয়ারম্যানের কাছে গেলে তিনিও জানিয়ে দেন, তাঁদের আর চাল দেওয়া হবে না। শেষে তাঁরা উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। চাঁচড়া ইউনিয়নের ওএমএস ডিলার মাকসুদুর রহমান সুমন বলেন, ‘এক মাস হলো আমি নতুন ডিলারশিপ নিয়েছি। আমাদের ইউনিয়নে ৯৯৪ জন ওএমএস কার্ডধারী আছেন। ইউনিয়নের দক্ষিণ অংশের ৫০০ কার্ডের দায়িত্ব আমার। এর মধ্যে চলতি মাসে ৩৭০ জনের বেশি কার্ডধারীকে চাল দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা একটি তালিকা দিয়ে বলেছেন লাল দাগ দেওয়া নামগুলো ছাড়া অন্যদের চাল দিতে। ১১৪ কার্ডের চাল এখনো আমার গুদামে মজুদ আছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, খাদ্য কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যান বিষয়টি জানেন। তাঁরা নির্দেশ দিলেই এই চাল বিতরণ করা হবে। ’

অভিযোগ সম্পর্কে চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যাঁরা একাধিক সুবিধাভোগী, প্রবাসী, মৃত এবং যাঁদের নামে ভিজিডি আছে, মূলত তাঁদের নাম বাদ দিয়ে সুবিধাবঞ্চিতদের নাম দেওয়া হয়েছে। যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা সরকারের অন্য সুবিধা ভোগ করছেন। আমি কোনো অন্যায় করিনি। ’

উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা অবনী মোহন দাস বলেন, বিতরণ না করা চাল ডিলারের কাছে আছে। যাঁরা একাধিক সরকারি সুবিধা পান, তাঁদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই হচ্ছে। যাচাই-বাছাই করে দ্রুত এই চাল বিতরণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘ওএমএস তালিকা সংশোধন একটি চলমান প্রক্রিয়া। এসংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে সদস্যসচিব করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ’



সাতদিনের সেরা