kalerkantho

শনিবার । ৮ মাঘ ১৪২৮। ২২ জানুয়ারি ২০২২। ১৮ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বধির সংঘে সংঘর্ষ

দুই প্রতিবন্ধী ছুরিকাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দুই প্রতিবন্ধী ছুরিকাহত

রাজধানীর বিজয়নগরের সরকারি ঢাকা বধির হাই স্কুলের (বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের স্কুল) সামনে গত বুধবার রাতে বধির সংঘ ক্লাবে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুজন ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। জনি বাবু (২৫) ও মোবারক হোসেন (৪০) নামের ওই দুই বাকপ্রতিবন্ধীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, গত বুধবার রাত ৮টার দিকে আকবর রানার নেতৃত্বে তিন বাকপ্রতিবন্ধী ছুরি নিয়ে দুজনের ওপর হামলা চালায়। তারা সবাই বধির সংঘ ক্লাবের সদস্য।

বিজ্ঞাপন

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে জাতীয় বধির সংস্থা বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি।

একটি সূত্র জানায়, হামলাকারী আকবর রানার মা সরকারদলীয় একজন নেতা। বধির সংঘ ক্লাবটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রানার সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরোধ শুরু হয়। এর জের ধরেই হামলা চালান তিনি। এখন প্রভাব খাটিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে হামলাকারীরা।  

জানতে চাইলে জাতীয় বধির সংস্থার নির্বাহী কর্মকর্তা মজনু শেখ বলেন, ‘সরকারি বধির হাই স্কুল কমপ্লেক্সের মধ্যেই জাতীয় বধির সংস্থাসহ বাকপ্রতিবন্ধীদের সংগঠন রয়েছে। স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও ৬০ থেকে ৬৫ জন আবাসিক হলে থাকে। ভেতরেই আছে বধির সংঘ ক্লাবটি। বুধবার রাতে হামলার ঘটনার সবাই এই ক্লাবের সদস্য। কয়েক বছর আগে এক পক্ষ অন্য পক্ষের ওপর হামলা চালায়। এর শোধ নিতে গত বুধবার আবার হামলার ঘটনা ঘটে। ’ এক প্রশ্নের জবাবে মজনু শেখ বলেন, ‘দুজনের মধ্যে একজনের মাথায় আঘাত গুরুতর। শরীরে স্ক্রু ঢোকানো হয়েছে। আমরা এখন পরিস্থিতি শান্ত রাখছি। আজ (গতকাল) কেউ আর আসেনি এখানে। ’

সরকারি বধির হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবারের ঘটনায় আমাদের কোনো শিক্ষার্থী ছিল না। বধির সংস্থা ও ক্লাবে বিভিন্ন বয়সের প্রতিবন্ধীরা আসে। সেখানেই ঘটনা। এ ব্যাপারে সংস্থাই ব্যবস্থা নিতে পারে। ’

পল্টন থানার ওসি সালাহউদ্দিন মিয়া বলেন, ‘মারামারির পর কোনো পক্ষই থানায় জানায়নি। বধির স্কুল ও সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, কিছু বাকপ্রতিবন্ধী মেজাজ হারিয়ে মারামারি করে। ছুরি নিয়ে হামলার ঘটনাটি উৎকণ্ঠার। তবে তাঁরা পরিস্থিতি সামাল দিয়ে সমঝোতা করতে চাইছেন। এর পরও যদি কোনো সমস্যা হয় তবে আমাদের জানাবেন বলেছেন। ’



সাতদিনের সেরা