kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

বাজারে দাম বাড়ার শঙ্কা

► চালের দাম এক মাসে সোয়া ২ শতাংশ বেড়েছে
► তেলের দাম এক বছরে বেড়েছে ৪৭ শতাংশ
► ১৪ ধরনের পণ্যের দাম কমেছে

রোকন মাহমুদ   

৫ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাজারে দাম বাড়ার শঙ্কা

রাজধানী ঢাকার খিলগাঁও বাজারের আলু ও পেঁয়াজ বিক্রেতা মোতালেব বাজারে পণ্যের যে দাম তার চেয়ে দু-এক টাকা কম রাখেন ক্রেতাদের কাছ থেকে। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর কাছ থেকে সেই ছাড় পাওয়া গেল না। তিনি বললেন, ‘বাজারের যা অবস্থা, তাতে কাল-পরশু হয়তো এর চেয়ে চার-পাঁচ টাকা বেশি লাগতে পারে দাম। সুতরাং এখন যে দাম নিচ্ছি এটাই কম।

বিজ্ঞাপন

মোতালেবের ইঙ্গিতটা ছিল এলপিজি ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, সেই সঙ্গে পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণার দিকে। গতকাল দোকানদাররা যখন বিক্রি শুরু করেন তখনো সেই আতঙ্ক ছিল না বাজারে। বেলা বড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি বাজারময় ছড়িয়ে পড়লে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা যায়। জ্বালানি তেল ইস্যুতে পণ্যের সরবরাহ ঘাটতি ও উৎপাদন খরচ বাড়লে দাম আরো বাড়তে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা। গতকাল অবশ্য পণ্যের দাম তাত্ক্ষণিকভাবে বাড়েনি। যা বাড়ার আগেই বেড়েছে। তবে গতকাল সকালের চেয়ে বিকেলের দিকে ক্রেতাদের পণ্য কেনার পরিমাণ বেশি ছিল বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন। দাম বাড়ার আতঙ্ক রয়েছে খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যেও। কারণ দাম বাড়লে তাঁদের বিক্রি কমে যায় অনেকাংশে।

মালিবাগ বাজারে কথা হয় ক্রেতা আনোয়ারের সঙ্গে। মধ্যবিত্ত পরিবারের এই সদস্য বলেন, প্রতিবারই জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বাজারে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে। কারণ তেলের দাম বাড়লে বিদ্যুৎ, পানি, পরিবহন ব্যয় বাড়ে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় যতটা উৎপাদন বাড়ে পণ্যের দাম বাড়ে তার দ্বিগুণ, যা সরকার মনিটর করতে পারে না।

বিশ্লেষকরাও বলছেন একই কথা। কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন ছড়াবে। নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে, বিশেষ করে ভোজ্য তেল, চাল, চিনি, সবজির দামের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকায় নাভিশ্বাস। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মূল্যও দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে। অস্বাভাবিক বেড়েছে ডলারের দামও। কয়েক দিন আগে সীমিত আয়ের মানুষের ভরসাস্থল টিসিবির পণ্যের দামও বাড়ানো হলো। এ অবস্থায় কেরোসিন ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তা পর্যায়ে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলবে।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম কমার লক্ষণ নেই। তেল, চিনি, ডাল, আটা, ময়দাসহ নিত্যপণ্যের দাম আগে থেকেই বাড়তি রয়েছে। আগামী ৭ নভেম্বর থেকে সরকারিভাবে আমন ধান ও চাল কেনা শুরু হবে। অর্থাৎ আমন ধান উঠেছে কৃষকের ঘরে। বাজারে নতুন চালও আসছে কিছু কিছু, কিন্তু চালের দাম নামেনি। বরং মাসখানেক আগের তুলনায় চালের দাম সোয়া ২ শতাংশ পর্যন্ত বেশি রয়েছে। গত বছরের তুলনায় বেশি রয়েছে ১০ শতাংশ। তেল, চিনি, ডালের দাম এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। ভোজ্য তেল সয়াবিনের দাম বেড়ে প্রতি লিটার ১৬০ টাকায় উঠেছে। তেলের দাম গত বছরের তুলনায় বাড়তি রয়েছে ৪৭ শতাংশ। প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮২ টাকায়।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে গত এক সপ্তাহে আটা, ময়দা, তেল, এমএস রডসহ আট ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে ১৪ ধরনের পণ্যের দাম কমেছে। কিন্তু জ্বালানি তেল ইস্যুতে এই চিত্র উল্টে যেতে পারে বলে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা।

গোপীবাগের মরিয়ম স্টোরের বিক্রেতা আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যে কয় দিন চাল আমদানি হয়েছে, সে কয় দিন দাম কিছুটা কম ছিল। এখন আবার বেড়েছে। নতুন ধানে দাম কিছুটা কমার কথা। কিন্তু পাইকারি বাজারে না কমলে আমরা কমাই কী করে। এখন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সামনের দিনে কী হয় তা বলা মুশকিল। ’

সবজির বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সপ্তাহ দুয়েক আগেও যে টমেটো কেনা যেত সর্বোচ্চ ১৩০ টাকা কেজি দরে, এখন তা ১৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। অথচ টমেটো শীতকালীন সবজি হওয়ায় এ সময়ে দাম কম থাকে। এভাবে বেড়েছে আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ অন্যান্য শীতের সবজির দামও। মাছ, মাংস, ডিম, দুধসহ আমিষজাতীয় খাদ্যের দামও আগের মতো বাড়তি রয়েছে।

পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় নেমেছে। তবে ভালো মানের পেঁয়াজের পরিমাণ কমে গেছে বাজারে।

 



সাতদিনের সেরা