kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বুকার পুরস্কার ২০২১

এবারের বুকার যেভাবে ডেমন গ্যালগটের হলো

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এবারের বুকার যেভাবে ডেমন গ্যালগটের হলো

ডেমন গ্যালগট। ছবি : এএফপি

স্বস্তি, উত্তেজনা আর যথেষ্ট পরিমাণ উৎকণ্ঠা—এই ছিল বুকার পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় নাম ওঠার খবরে ডেমন গ্যালগটের অনুভূতি। দুইবার বিশ্বের অন্যতম সেরা এই সাহিত্য পুরস্কারের শর্টলিস্টে নাম ওঠার পরও পুরস্কার আঙুলের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাওয়ার তথ্যটা জানা থাকলে খুব একটা দোষ দেওয়া যাবে না তাঁকে। ২০০৩ আর ২০১০ সালে সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকলেও পুরস্কার অধরা থেকে গিয়েছিল। গত বুধবার রাতে যখন জানলেন সেরার স্বীকৃতি এবার তাঁর ঝুলিতেই যাচ্ছে, তখন গ্যালগটের অনুভূতিটা ছিল সত্যি অনির্বচনীয়—যেন স্বস্তি, উত্তেজনা আর উৎকণ্ঠার আজব মিশেল।

বিজ্ঞাপন

‘দ্য প্রমিজ’ উপন্যাসের জন্য এবারের বুকার পুরস্কার জিতেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক ডেমন গ্যালগট। বর্ণবাদ-পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকার সমাজ তাঁর এ উপন্যাসের মূল উপজীব্য। কাহিনির কেন্দ্রে এক শ্বেতাঙ্গ পরিবার, যারা সারা জীবন তাদের সেবা করে যাওয়া গৃহকর্মীকে একটি বাড়ি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ হয়। ডাচ বংশোদ্ভূত পরিবারটি বর্ণবাদ-পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকায় নিজেদের পারিবারিক খামার, একই সঙ্গে মর্যাদাও ধরে রাখার মরিয়া চেষ্টায় রত।

বিচারকমণ্ডলী উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন গ্যালগটের উপন্যাসটির। তাঁরা এর ভিন্নধর্মী বয়ানের তারিফ করেছেন। বিচারকদের ভাষায়, এতে রয়েছে ফকনারের উচ্ছলতা আর নবোকভের সূক্ষ্মতার মিশেল।

‘দ্য প্রমিজ’ ডেমন গ্যালগটের নবম বই। এরই মধ্যে পাঠক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে এটি। সাহিত্য সমালোচকরা তাঁর নিরীক্ষাধর্মী গদ্যকে তুলনা করেছেন ভার্জিনিয়া উলফ, জেমস জয়েস আর উইলিয়াম ফকনারের মতো প্রথিতযশা আধুনিক লেখকদের সৃষ্টির সঙ্গে। কেউ আবার বলছেন, স্বদেশি জে এম কোটজির কাছেই ঋণ বেশি গ্যালগটের।

যুক্তরাষ্ট্রে বইটি প্রকাশিত হয়েছে গত এপ্রিলে। ‘দ্য প্রমিজ’-এর পুস্তক সমালোচনায় সে দেশের নিউ ইয়র্ক টাইমস বুক রিভিউ বলেছে, গ্যালগট এক সহজাত ব্যঙ্গকার, যিনি কিনা নিজের চরিত্রগুলোর দায়িত্বহীনতা আর ভণ্ডামিকে বিদ্ধ করেন তীব্রভাবে।

উপন্যাসটির ছকটি লেখকের মাথায় গাঁথে এক বন্ধুর সঙ্গে কথোপকথনের পর। বন্ধুটি বেশ কয়েকটি শেষকৃত্যে যাওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছিলেন তাঁর কাছে। একটি পরিবারের গাথা লেখার জন্য একে এক দারুণ কায়দা মনে হয়েছিল গ্যালগটের। তাঁর ভাষায়, এটি ‘স্রেফ একদল সাধারণ শ্বেতাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকানের গল্প। ’ গল্পের সোয়ার্ট পরিবারের বর্ষীয়সী কর্ত্রী ১৯৮৬ সালে ক্যান্সারে মারা যান। ওই সময় দক্ষিণ আফ্রিকায় চলছিল ব্যাপক রাজনৈতিক ডামাডোল। উপন্যাসটির নাম দুটি বিষয়ের ইঙ্গিতবহ। প্রথমত, বর্ণবাদের অবসানের পর দেশে সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার অপূর্ণ অঙ্গীকার আর সেই বর্ষীয়সী কর্তামায়ের বাড়ির দীর্ঘদিনের কৃষ্ণাঙ্গ কাজের মানুষটিকে একটি বাড়ি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, যা নিয়ে বাধে পারিবারিক কলহ। কাহিনির জায়গাটি হচ্ছে গ্যালগটের নিজের বেড়ে ওঠার শহর প্রিটোরিয়া। লেখকের কথায়, ওই অঞ্চলের বর্ণবাদ ও জাতিগত সহিংসতার অন্ধকার ইতিহাস আর তাঁর শৈশবের ওপর এর প্রভাব খতিয়ে দেখার ইচ্ছা থেকেই প্রিটোরিয়াকে বেছে নেওয়া। পুরস্কার অনুষ্ঠানের পর ফোনে দেওয়া এক সাক্ষাত্তারে গ্যালগট নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, আশা আর হতাশার মধ্য দিয়ে পথচলার অনুভূতিটি ঠিক কেমন তার সুলুক সন্ধান করতেই বর্ণবাদ-পরবর্তী আফ্রিকাকে ছিঁড়েখুঁড়ে দেখতে চেয়েছিলেন তিনি।

বিচারকমণ্ডলীর সভাপতি ইতিহাসবিদ মায়া জাসানফ ‘দ্য প্রমিজ’-এর ভূয়সী প্রশংসা করে একে এক অসাধারণ কাজ আখ্যা দিয়েছেন। জাসানফের ভাষায়, ‘দারুণ গল্প, সমৃদ্ধ ভাব আর দক্ষিণ আফ্রিকার গত ৪০ বছরের ইতিহাসকে দুর্দান্তভাবে গুছিয়ে উপহার দিয়েছেন তিনি। ...কাহিনির কাঠামো আর লেখার কেতার ওপর দিয়েছেন বিশেষ মনোযোগ। ’ সূত্র : বিবিসি ও নিউ ইয়র্ক টাইমস।

 



সাতদিনের সেরা