kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

রিহ্যাবের আশঙ্কা

নতুন ড্যাপে ফ্ল্যাটের দাম বাড়তে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নতুন ড্যাপে ফ্ল্যাটের দাম বাড়তে পারে

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ২০১৬ থেকে ২০৩৫ সালের জন্য বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) প্রণয়ন করছে। এর আলোকে ঢাকা ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-২০২১ হচ্ছে। আবাসন খাতের সংগঠন রিহ্যাব বলছে, এই বিধিমালা চূড়ান্ত হলে একটি ফ্ল্যাটের ভাড়া কিংবা ফ্ল্যাট কেনার ব্যয় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাবে। এতে মানুষকে বাসাভাড়া নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে হবে, একই সঙ্গে আবাসন খাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব আশঙ্কার কথা জানান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন। তিনি বলেন, নতুন প্রবিধানমালা বাস্তবায়ন করা হলে জমির ওপর ভবন নির্মাণ করতে জায়গা কমে আসবে। আগে পাঁচ কাঠা জমির ওপর গ্রাউন্ডফ্লোরসহ ১৩ হাজার ৫০০ বর্গফুটের আটতলা ভবন নির্মাণ করা হতো, কিন্তু নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে পাঁচ কাঠা জমির ওপর মাত্র ৯০০০ বর্গফুটের পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করা যাবে। এতে জমির মালিকদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হবে।   

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাবের সহসভাপতি (ফিন্যান্স) প্রকৌশলী মোহাম্মদ সোহেল রানা, প্রথম সহসভাপতি কামাল মাহমুদ, সহসভাপতি-২ নজরুল ইসলাম দুলাল, সহসভাপতি-৩ শরীফ আলী খান এবং বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএলডিএ) সেক্রেটারি জেনারেল মোস্তফা কামাল মহিউদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত বিধিমালা বাস্তবায়িত হলে অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ। গত ৭ মার্চ স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে ড্যাপ সম্পর্কিত এক সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং ড্যাপ রিভিউ কমিটির আহ্বাহক মন্ত্রী তাজুল ইসলাম ও বিএলডিএর মতামত এবং সুপারিশ গ্রহণের লক্ষ্যে একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছিল। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ড্যাপ গেজেট প্রকাশ হবে। কিন্তু এই ওয়ার্কিং কমিটির কোনো সভা ডাকা হয়নি এবং স্টেকহোল্ডারদের কোনো রকমের সুপারিশও গ্রহণ করা হয়নি। ফলে স্টেকহোল্ডারদের এড়িয়ে এই পরিকল্পনা কতটুকু বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা।

রিহ্যাব সভাপতি বলেন, ‘প্রস্তাবিত প্রবিধানমালায় কিছু জায়গায় সর্বোচ্চ আটতলা ভবন তৈরি করা যাবে। আগে ঢাকার গুলশান এলাকায় এক বিঘা জমির ওপর প্রায় ৯০ হাজার বর্গফুট জমির ভবন নির্মাণ করা যেত। কিন্তু নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত হলে মাত্র ৫০ হাজার বর্গফুটের ভবন তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে নির্মাণ অংশের জায়গা কমে ফ্ল্যাটের দাম বহু অংশে বেড়ে যাবে। ’

তিনি বলেন, ‘নতুন প্রবিধানমালায় প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত আয়তন হ্রাস পাবে। এতে বসবাসের জন্য অনেক বেশি ভবন নির্মাণ করতে হবে; খাল বিল ও ফসলের জমিতে ভবন নির্মাণ করতে হবে। ’

আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, ‘এর বদলে ঢাকা শহরসংলগ্ন অন্যান্য শহরের সঙ্গে হাইস্পিড কমিউনিকেশন সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট এবং অন্যান্য নগরীতে প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধাসহ নির্মাণ খাতে আরো উন্নয়ন করা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরাও এ বিষয়ে একমত। ’ তিনি বলেন, নতুন প্রবিধানমালা বাস্তবায়ন হলে জমির মালিকদের মধ্যে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হবে। এটা ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে আঘাত হানবে। এই প্রবিধানমালা অবশ্যই জমির মালিকদের বিরুদ্ধে যাবে। ফলে এটি কেও সমর্থন করবেন না।

এ ছাড়া ব্যাপকভাবে ভবনের আয়তন হ্রাসের ফলে সিরামিক, টাইলস, ইলেকট্রিক কেবল ইন্ডাস্ট্রিজ, রড, সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ, পাথর, বালি, পেইন্টসহ অন্যান্য ২৬৯টি লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি গভীর সংকটে পড়বে। সর্বোপরি আবাসন শিল্প মুখ থুবড়ে পড়বে এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অশনিসংকেত দেখা দেবে।

রিহ্যাবের প্রথম সভাপতি কামাল মাহমুদ বলেন, ‘পূর্বাচলে এখন পর্যন্ত ভালো মানের স্কুল, কলেজ কিংবা হাসপাতাল তৈরি করা সম্ভব হয়নি। বিনিয়োগকারীরাও সাহস পাচ্ছে না সেসব জায়গায় বিনিয়োগ করার। ’ তিনি আরো বলেন, ‘বেসরকারি খাতে গাজীপুর এলাকায় একটি হাসপাতাল তৈরির কথা বলা হলে কোন কম্পানিই করবে না, কারণ সেখানে অবকাঠামো তৈরি হয়নি। ’  

রিহ্যাবের প্রকৌশলী মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, ‘শহর বিকেন্দ্রীকরণ করার কথা বলা হয়। কিন্তু শহরের পাশের অঞ্চল তো অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হতে হবে। কিন্তু এখনো তা হয়নি। ’

 

 



সাতদিনের সেরা