kalerkantho

রবিবার । ৯ মাঘ ১৪২৮। ২৩ জানুয়ারি ২০২২। ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আ. লীগ ও বিদ্রোহী সংঘর্ষ, আহত ৩২

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আ. লীগ ও বিদ্রোহী সংঘর্ষ, আহত ৩২

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নিজেদের মধ্যে সংঘাত চলছে। শনিবার বিকেল থেকে গতকাল রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সাত জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলের মনোনীত প্রার্থী ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতা হয়েছে। এ সময় অন্তত পাঁচটি নির্বাচনী কার্যালয় ও ক্যাম্প, ২২টি বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আগুন দেওয়া হয়েছে টাঙিয়ে রাখা প্রতীকী নৌকায়।

বিজ্ঞাপন

বগুড়ায় বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকের হাত-পায়ের রগ কেটে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে একজন বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ওই সাত জেলায় ৩২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে পটুয়াখালীতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

আগামী ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন সামনে রেখে সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১১ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কয়েক শ।

ঢাকার ধামরাই উপজেলার সুয়াপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী কফিল উদ্দিন ও বর্তমান চেয়ারম্যান ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাফিজুর রহমান সোহরাবের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ২০ জন আহত হয়। সোহরাবকে সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নান্নার ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী আলতাফ হোসেন মোল্লার চারটি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করেছে নৌকার সমর্থকরা। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার খবর পাচ্ছি। ’

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ধানাইদহ বাজারে শনিবার রাতে আওয়ামী লীগ মনোনীত ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা পাল্টাপাল্টি কার্যালয় ভাঙচুর করেছে। নৌকার কর্মী-সমর্থকের দুটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল নৌকার প্রার্থী নীলুফার ইয়াসমিন ও বিদ্রোহী প্রার্থী শামসুজ্জোহার পক্ষ থেকে দুটি মামলা হয়েছে। সদর উপজেলার হালসা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থী জহুরুল ইসলামের সমর্থকরা তাঁর পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে। কর্মীদের প্রাণনাশের হুমকিও দিচ্ছে। জহুরুল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তেবাড়িয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী সারোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, একডালা বাজারের পাশে তাঁর নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা ও তাঁর সমর্থকদের মারধর করেছে দুর্বৃত্তরা।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়নে শনিবার রাতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কামাল হোসেন বিশ্বাস ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান শাহজাদা হাওলাদারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ১০ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন সজিব নামের একজন। বাউফল থানার ওসি আল মামুন বলেন, ‘গুলি ছোড়ার বিষয়টি সত্য না। ’

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নের দেউলি মোড়ে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী শরিফুর রহমান মিল্টনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। বগুড়ার শিবগঞ্জের বিহার ইউনিয়নে গতকাল রবিউল ইসলাম (২৮) নামের এক যুবকের হাত-পায়ের রগ কেটে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ২০টি বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মহিদুল ইসলাম ও তাঁর সমর্থকরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আহত রবিউলের ভাই আবু রায়হান। রবিউল আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী যুবলীগ নেতা মতিউর রহমানের কর্মী।

মাদারীপুরের কালকিনির চরদৌলত খান ইউনিয়নে গতকাল ভোরে একটি বাড়ির সামনে কাপড় মুড়িয়ে টাঙিয়ে রাখা আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. চান মিয়া সিকদারের প্রতীক নৌকায় আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজুর রহমান মিলন মিয়াকে দায়ী করছেন চান মিয়া। তবে মিলন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এদিকে কালকিনি উপজেলার আলীনড়র ইউনিয়নের চরলক্ষ্মীপুর গ্রামে একটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলায় ওই ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নান্নু মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার থানায় করা ওই মামলায় আসামি ২৪ জন। গতকাল সকাল ১১টার দিকে তাঁরা জামিনের আবেদন করে আদালত চত্বরে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সদস্যরা নান্নুকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যান। এ ঘটনায় বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে আইনজীবী সমিতির সভাপতি ওবাইদুর রহমান কালু খান দাবি করেন, আইন-শৃঙ্খলা প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা এভাবে কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেন না। তবে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাইলাউ মারমা ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, আদালত চত্বরে নয়, রাস্তা থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সাতক্ষীরার সদর উপজেলার বৈকারী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু মো. মোস্তফা কামালের মিছিলে হামলা, মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আসাদুজ্জামান ও তাঁর দুই ছেলেসহ ৩০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দের দিন ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

(প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা)

 



সাতদিনের সেরা