kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

চট্টগ্রামের উড়ালসেতু

বিশেষজ্ঞদের দাবি পিলারে কোনো ফাটল নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৮ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশেষজ্ঞদের দাবি পিলারে কোনো ফাটল নেই

চট্টগ্রামের এম এ মান্নান উড়ালসেতুর (ফ্লাইওভার) একমাত্র র‌্যাম্পের দুই পিলারের ফাটল অংশ দেখতে গতকাল বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে যান বিশেষজ্ঞরা। পিলার দেখার পর তাঁরা দাবি করেছেন, র‌্যাম্পের পিলারে কোনো ফাটল নেই। পিলারের জয়েন্ট থেকে ফোম সরে যাওয়ায় ফাটল মনে হচ্ছে। এটা সংস্কার করলে ঠিক হয়ে যাবে। র‌্যাম্প নকশা প্রণয়নকারী ডিজাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (ডিপিএম) কনসালট্যান্ট লিমিটেড এবং নির্মাণকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স গ্রুপের বিশেষজ্ঞরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে র‌্যাম্পের দুই পিলারে ফাটল দেখা দেওয়ায় গতকালও বন্ধ রাখা হয় যান চলাচল। এর প্রভাব পড়ে আরাকানসহ বিভিন্ন সড়ক ও উপসড়কে। মূল উড়ালসেতুতে সব ধরনের গাড়ি চললেও তা থেকে আরাকান সড়কমুখী (র‌্যাম্প) যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় গত সোমবার রাত থেকে ওই এলাকায় প্রচণ্ড যানজট দেখা দিয়েছে। এতে দুর্ভোগের মুখে পড়েছে পথচারী ও যাত্রীরা।

এদিকে গতকাল সকাল থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে র‌্যাম্পের দুই পথে গেট নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রথমে আরাকান সড়ক থেকে র‌্যাম্পে প্রবেশদ্বারে গেট করা হচ্ছে। এ গেট নির্মাণের পর মূল উড়ালসেতু থেকে আরাকান সড়কমুখী পথে আরেকটি গেট নির্মাণ করা হবে। জানা গেছে, আট ফুট উচ্চতার এই দুটি গেট দিয়ে র‌্যাম্পে হালকা যানবাহন চলাচল করবে।

জানতে চাইলে স্থানীয় কাউন্সিলর এসসারুল হক বলেন, “আগামী শনিবার পর্যন্ত আমাদের গেট লাগানোর কাজ চলবে। এর মধ্যে র‌্যাম্প নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে ওই পিলার দুটির সংস্কারকাজ করার কথা রয়েছে। এরপর যৌথ সিদ্ধান্ত নিয়ে আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে র‌্যাম্পে যান চলাচল শুরু হবে। শুরুতে ভারী যানবাহন চলবে না।”

একই বিষয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, “আজ (গতকাল) বিশেষজ্ঞরা গেছেন। উনাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন : র‌্যাম্প পরিদর্শন করার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মনির হোসেন বলেন, “ডিজাইনার প্রতিষ্ঠান দল পরিদর্শন করেছে। উনাদের অবজারভেশন হলো, পিলারগুলোতে যা দেখা যাচ্ছে, সেটা ফাটল নয়। এটা কনস্ট্রাকশন জয়েন্ট। পিলারের সঙ্গে এটেক্সচারের কাস্টিংয়ের যে জয়েন্ট, সেই শাটারিং প্রপার পজিশনে ছিল না। কাস্টিং করার সময় ডিসপ্লেস হয়ে গিয়েছিল। এ কারণে একটা স্পেস সৃষ্টি হয়েছে। শাটার টু শাটার জয়েন্টে ফোম ব্যবহার করা হয়, যাতে পানি লিকেজ না হয়। সেই ফোম আছে। কাজ শেষে পরিষ্কার করা দরকার ছিল। এত দিন হয়তো চোখে পড়েনি। আসলে এটা কোনো ফাটল নয়।”

তিনি আরো বলেন, “যেহেতু এটা ক্যান্টিলিভার, ১৩ মিটার প্রায়। এটার প্রান্তে কিছু সেটলমেন্ট হবেই। উনাদের পর্যবেক্ষণ এখনো শেষ হয়নি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে লিখিতভাবে সিডিএকে জানাবে। হালকা গাড়ি চলাচলে এখনই খুলে দেওয়া যেতে পারে। স্ট্রাকচারাল কোনো ফল্ট পায়নি।”

বিশেষজ্ঞদলের সদস্য নকশাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপিএমের পরিচালক শাহ জাহান আলম বলেন, “ওপরে উঠে দেখলাম যে ওটা ক্র্যাক নয়, কনস্ট্রাকশন জয়েন্ট। কংক্রিট করার সময় সেটা এক্সপোজ হয়ে যায়। মূল স্ট্রাকচারে কোনো সমস্যা নেই। নির্মাণ ত্রুটির কিছু নয়। হয়তো আরো পলিশ হতে পারত কাজটা। বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে সেটা ফোম। সাড়ে তিন বছর আগেও সেটা ছিল। হয়তো কেউ খেয়াল করেনি।”

 



সাতদিনের সেরা