kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

ডিকাব টকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার

নির্বাচন কেমন হওয়া উচিত তা বিদেশিরা বলে দেবে না

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৮ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নির্বাচন কেমন হওয়া উচিত তা বিদেশিরা বলে দেবে না

রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন

বাংলাদেশে নির্বাচন কেমন হওয়া উচিত তা বিদেশিরা বলে দেবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন। তাঁর মতে, বাংলাদেশে নির্বাচন সম্পর্কিত যেকোনো কিছু বাংলাদেশ পরিচালিত ও বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রক্রিয়াতেই হওয়া উচিত। গতকাল বুধবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ডিকাব এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের মূল্যবোধকে প্রতিফলিত করে এমন নিজস্ব প্রক্রিয়ায় নির্বাচন করার মতো অনেক দক্ষতা ও প্রতিভা বাংলাদেশে আছে।

স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হওয়া ভালো বলেও মন্তব্য করেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার। তিনি বলেন, সব মত ও রাজনৈতিক দলের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আস্থা খুঁজে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।

তিনি এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক লক্ষ্য পূরণের ওপর জোর দেন।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, এ দেশে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সব দলের অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আগামী জাতীয় নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাজ্য। অবাধ ও সুষ্ঠু

নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) কিভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে সেটি যুক্তরাজ্য আগ্রহের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে বহু মত ও গণতান্ত্রিক চর্চা সমুন্নত রাখার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, সেই অনুযায়ী ভোটার ও প্রার্থীদের সুরক্ষা দিয়ে সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচন আয়োজনে বিদেশি বন্ধু হিসেবে যতটা সম্ভব সমর্থন দিয়ে যাবে যুক্তরাজ্য।

বাংলাদেশে দুর্গাপূজার সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে রবার্ট ডিকসন বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী মত প্রকাশ, ধর্মীয় স্বাধীনতার চর্চা সমুন্নত রাখার প্রতি যাঁদের সমর্থন রয়েছে, আমরা যে তাঁদের পাশে রয়েছি, তা আমরা জনসমক্ষে এবং সরকারের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখ করেছি।’

যুক্তরাজ্যে বসে কিছু ব্যক্তির বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণার বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, যুক্তরাজ্য বিদ্বেষ ছড়ানোকে সমর্থন করে না। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যে পরিষ্কার নিয়ম আছে। কেউ যদি ঘৃণা বা উসকানিমূলক মন্তব্য করে তবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যখন কেউ ‘লাল দাগ’ অতিক্রম করে এবং তা আমাদের জানানো হয়, তখন আমরা বিষয়টি তদন্ত করি।”

যুক্তরাজ্যে বসে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা চালানো বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে সরকারের অনুরোধ ও পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তি সই করার উদ্যোগ সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, যুক্তরাজ্য থেকে কোনো ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি পুরোপুরি ব্রিটিশ আদালতের ওপর নির্ভর করছে।

তিনি বলেন, প্রত্যাবর্তন একটি আইনি প্রক্রিয়া। অনেক ব্যক্তির প্রত্যাবর্তন হয়তো দেশের জনগণ চায়, কিন্তু তা ব্রিটিশ সরকারের ওপর নির্ভর করে না। নির্ভর করে আদালতের ওপর। সরকারের ওপর নির্ভর করে আদালত রায় দেন না। প্রত্যাবর্তনের বিরুদ্ধে এর সঙ্গে জড়িত পক্ষগুলো বেশ শক্ত লড়াই করে বলেও তিনি জানান।

হাইকমিশনার ডিকসন বলেন, আদালত অনেক কিছু বিবেচনা করেন। যেমন অভিযোগ কী আছে বা ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানো হলে তার কী শাস্তি হতে পারে ইত্যাদি। কাউকে ফেরত পাঠানোর কিছু কাঠামো আছে। যেমন পারস্পরিক আইনি সহায়তা।

বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের কাছে কাদের ফেরত পাঠাতে বলেছে জানতে চাইলে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, ‘কাদের ফেরত চাওয়া হয়েছে সে বিষয়ে কিছু বলব না। কারণ এটি বলা ঠিক হবে না।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের পাশে আছে। মিয়ানমারকে তাদের জনগণকে ফিরিয়ে নিতে হবে।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার মনে করেন, মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের ফলে প্রত্যাবাসন আলোচনা ব্যাহত হয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গা শিবিরে সহিংসতায় উদ্বেগ জানান।

গ্লাসগোতে আসন্ন জলবায়ু সম্মেলন প্রসঙ্গে ডিকসন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রাপ্য সহায়তা পাওয়া উচিত। এবারের জলবায়ু সম্মেলনে চারটি লক্ষ্য রয়েছে। এগুলোর বিষয়ে বিশ্বনেতারা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবেন বলে প্রত্যাশা করি।’

অনুষ্ঠানে ডিকাব সভাপতি পান্থ রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মঈনুদ্দীন বক্তব্য দেন।



সাতদিনের সেরা