kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

আমাদের ছায়াপথের বাইরে প্রথম গ্রহ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমাদের ছায়াপথের বাইরে প্রথম গ্রহ

এম ৫১ গ্যালাক্সিতে নতুন আবিষ্কৃত গ্রহের (বক্স চিহ্নিত) অবস্থান

মিল্কিওয়ে ছায়াপথের বাইরে প্রথমবারের মতো কোনো গ্রহের লক্ষণ দেখতে পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। সূর্যের  চারদিকে যেমন গ্রহগুলো ঘোরে, সেভাবে বিভিন্ন নক্ষত্র ঘিরে ঘুরতে থাকা প্রায় পাঁচ হাজার গ্রহ এর আগে শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু সেগুলোর সবই মিল্কিওয়ে ছায়াপথে দেখা গেছে। এই প্রথমবারের মতো ছায়াপথের বাইরে কোনো গ্রহের লক্ষণ  শনাক্ত করা হলো।

মেসিয়ের ৫১ (এম ৫১) ছায়াপথের এই সম্ভাব্য গ্রহকে আবিষ্কার করেছে নাসার চান্দ্রা এক্স-রে টেলিস্কোপ। আমরা যে ছায়াপথে রয়েছি, সেই মিল্কিওয়ে ছায়াপথ থেকে গ্রহটির দূরত্ব দুই কোটি ৮০ লাখ আলোকবর্ষ। অর্থাৎ আলো যে গতিতে ভ্রমণ করে, সেই গতিতে গেলে এই গ্রহে পৌঁছতে দুই কোটি ৮০ লাখ বছর সময় লাগবে।

নক্ষত্র থেকে আলো বিকিরিত হতে থাকে। কিন্তু যখন কোনো নক্ষত্রের সামনে দিয়ে গ্রহ প্রদক্ষিণ করে, তখন সেই আলোর কিছু অংশ ঢেকে যায়, সেটির এক্স-রে রশ্মি বিকিরণ বাধাগ্রস্ত হয়। তখন সেটির সামনে থাকা গ্রহটির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়, যা টেলিস্কোপের মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে এর আগে হাজার হাজার গ্রহ শনাক্ত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিকস ইন কেমব্রিজের ড. ডি স্টেফানো বলেছেন, ‘আমরা যে পদ্ধতিতে কাজ করছি, এটিই হলো এখন পর্যন্ত অন্য কোনো ছায়াপথে থাকা গ্রহ-নক্ষত্র খুঁজে বের করার কার্যকর উপায়।’

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা যেসব তথ্য-উপাত্ত পেয়েছেন, তা থেকে ধারণা করছেন যে এই সম্ভাব্য গ্রহের আকার হবে শনির মতো। যে নিউট্রন স্টার বা ব্ল্যাক হোল ঘিরে এটি ঘুরছে, সেটির সঙ্গে দূরত্ব সূর্য থেকে শনির দূরত্বের প্রায় দ্বিগুণ।

তবে গবেষকরা স্বীকার করছেন, এ বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে তাঁদের আরো তথ্য-উপাত্ত দরকার।

এ ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা হলো, বিশাল কক্ষপথের কারণে যে নক্ষত্র বা ব্ল্যাক হোল ঘিরে এটি ঘুরছে, আবার সেটির সামনে আসতে প্রায় ৭০ বছর সময় লেগে যাবে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে এই আবিষ্কারের একটি ফলো আপ পর্যবেক্ষণ করার আপাতত উপায় নেই।

বিজ্ঞানীরা এটাও বিবেচনায় রেখেছেন যে আলোর বিকরণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আরেকটি সম্ভাব্য কারণ থাকতে পারে যে হয়তো কোনো গ্যাস ও ধুলার মেঘ সেটির সামনে পড়তে পারে, যা এক্স-রে রশ্মি বিকিরণে বাধা দিয়েছে।

গবেষকদের একজন প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির জুলিয়া বার্নটসন বলছেন, ‘আমরা জানি যে আমরা একটি উত্তেজনাপূর্ণ ও সাহসী দাবি করেছি। আমরা আশা করব, অন্য জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এটি সতর্কতার সঙ্গে দেখবেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, আমাদের পক্ষে শক্ত যুক্তি আছে। বিজ্ঞান যেভাবে কাজ করে, আমরা সেভাবেই কাজ করেছি।’

সূত্র : বিবিসি।



সাতদিনের সেরা