kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

পুলিশের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষ টিয়ার শেল, গুলি

আহত ৬০ ও শতাধিক নেতাকর্মী আটকের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পুলিশের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষ টিয়ার শেল, গুলি

রাজধানীর নয়াপল্টনে গতকাল রাস্তা আটকে সম্প্রীতি মিছিল শুরু করার পর বিএনপি নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির ডাকা সম্প্রীতি মিছিল পণ্ড হয়ে গেছে। মিছিলের আগেই পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ এ সময় টিয়ার শেল, লাঠিপেটা ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গতকাল মঙ্গলবার এ সংঘর্ষ বাধলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিএনপি দাবি করেছে, সংঘর্ষের সময় ৬০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত এবং শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সম্প্রীতি মিছিল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ৯টা থেকেই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। ফকিরাপুল থেকে কাকরাইলের মোড় পর্যন্ত হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে জমায়েতটি সমাবেশে রূপ নেয়। নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেন এই কর্মসূচিতে। ফলে রাস্তার দু্ই পাশে দেখা দেয় তীব্র যানজট।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানায়, কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ বানিয়ে দলটির সিনিয়র নেতারা বক্তব্য দেন। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সমাবেশ শেষ হলে মিছিল নিয়ে নাইটিংগেল মোড়ের দিকে নেতাকর্মীরা এগোনোর চেষ্টা করেন। নাইটিংগেল মোড়ে থাকা মিছিলের সামনের নেতাকর্মীদের পুলিশ বাধা দেয়। কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পুলিশ টিয়ার শেল, লাঠিপেটা ও ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করে নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। বিএনপির নেতাকর্মীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। নেতাকর্মীরা বিভিন্ন গলিতে অবস্থান নিলে কিছুক্ষণ ধাওয়াধাওয়ি চলে। এতে নয়াপল্টনসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

মিছিলটি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয় জাতীয় প্রেস ক্লাবে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল। এই কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকেই নয়াপল্টন এলাকায় বিপুলসংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল।

এদিকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনার পর দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি শেষে মিছিল করার কথা ছিল। প্রথম থেকেই পুলিশ নেতাকর্মীদের আটক শুরু করে। সমাবেশের পর নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে ঘরে ফিরে যাচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশ অতর্কিতে তাঁদের ওপর হামলা করে। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। অবিলম্বে গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি করছি।’

এদিকে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, মিছিলে পুলিশের গুলি ও হামলায় গোলাম মাওলা শাহীন, এস এম জিলানী, নজরুল ইসলামসহ ৬০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ সময় পুলিশ শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করেছে। এখনো বিভিন্ন স্থান থেকে আটকের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এর আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই দেশে সরকার পরিবর্তন এখন জনগণের দাবি। আওয়ামী লীগের আর ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। তারা কোনো সমস্যারই সমাধান করতে পারেনি। তারা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তৈরি করে, মানুষের অধিকার ব্যাহত করে, জনমানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। তাই বলব, অবিলম্বে পদত্যাগ করুন, নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিন। যাতে সবাই ভোট দিতে পারে, ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে।

মহাসচিব বলেন, ‘দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির করার জন্য সরকার পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র করেছে। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, প্রশাসনকে ধবংস করেছে, নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ করেছে এবং মিডিয়াকেও দমন করে রাখতে চায়। আমরা যাঁরা বিরোধী দল করি, আমাদের সভা করার জায়গা, মিছিল করতে দেয় না।’

সমাবেশের শেষ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মহাসচিব বলেন, ‘অনুরোধ করব, শান্তিপূর্ণভাবে যে যেখান থেকে এসেছেন, সেখানে চলে যাবেন।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য এই সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না এবং নির্বাচনে যাব না।’ স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘যেকোনো মুহূর্তে আন্দোলনের ডাক পড়বে। ঝাঁপিয়ে পড়ে শতগুণ শক্তি নিয়ে রাজপথে থাকতে হবে। আঘাত করলে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, নির্ভয়ে মাথা পেতে নেব না।’

প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির পরিচালনায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম বক্তব্য দেন। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিতাই রায় চৌধুরী, আহমেদ আজম খান, আবদুস সালাম আজাদ, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, নিপুণ রায় চৌধুরী, আফরোজা আব্বাস, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, মামুন হাসান প্রমুখ।

 



সাতদিনের সেরা