kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

ইলিশ ধরতে সমুদ্রযাত্রা জেলেদের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইলিশ ধরতে সমুদ্রযাত্রা জেলেদের

প্রস্তুতি : ২২ দিন বন্ধ থাকার পর গতকাল মধ্যরাতে আবার শুরু হয়েছে ইলিশ শিকার। শিকারে নামার আগে জেলেদের প্রস্তুতি। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকার পদ্মা নদীর তীর থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার জেলেরা গতকাল সোমবার রাত থেকেই ইলিশ ধরতে সমুদ্রে যাওয়া শুরু করেছেন। গতকাল রাত ১২টার পর ইলিশ ধরার ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায়  তাঁরা সমুদ্রে রওনা দেন। কয়েক দিন ধরে মাছ ধরার ট্রলার, জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম মেরামতের কাজে ব্যস্ত ছিলেন জেলেরা। এদিকে আগামী ১ নভেম্বর থেকে সুন্দরবনের দুবলার চরের শুঁটকি মৌসুমও শুরু হচ্ছে। সেখানে যেতেও জেলেদের তৎপরতা শুরু হয়েছে।

তবে ইলিশ কতটা ধরা পড়বে তা নিয়ে উদ্বেগ ও শঙ্কা দেখা গেছে জেলেদের মধ্যে। মৌসুমের শেষ মুহূর্তে এসে ইলিশ ধরতে যাওয়ার উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি উপকূলীয় জেলা বাগেরহাট, বরগুনাসহ চাঁদপুরের জেলেদের মধ্যেও শঙ্কা দেখা গেছে। প্রত্যাশামতো ইলিশ না পেলে জেলেরা ঋণের ফাঁদে পড়ার আতঙ্কে রয়েছেন। বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের সংবাদে বিস্তারিত—

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, উপজেলার মহিপুরে মৎস্যবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, ট্রলারের জেলে-মাঝিরা জাল, জ্বালানি, খাদ্যসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ গুছিয়ে নিচ্ছেন।

মহিপুর মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. ফজলুল হক গাজী অভিযোগ করেন, কোটি কোটি টাকা লগ্নি করে লাখ টাকার মাছও পাওয়া যায় না। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সাগরে ভারতীয় জেলেদের উপদ্রব ছিল।

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি জানান, আগামী ১ নভেম্বর থেকে দুবলার চরের শুঁটকি মৌসুম শুরু হচ্ছে, চলবে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত। জেলেরা টানা পাঁচ মাস দুবলার চরে থাকবেন। এ জন্য শুঁটকি বানানোর সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী ও জেলেরা তাঁদের প্রস্তুতি শেষ করেছেন। আজ মঙ্গলবার থেকেই তাঁদের যাত্রা শুরু হবে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, যাওয়ার পথে সুন্দরবনের কোনো নদী-খালে প্রবেশ ও অবস্থান করতে পারবেন না এ জেলেরা। দুবলার চরে অবস্থানকালে সাগর ছাড়া সুন্দরবনের খালে প্রবেশ এবং সেখানে মাছ ধরতে পারবেন না।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, এ বছর জেলেদের থাকা এবং শুঁটকি সংরক্ষণের জন্য সাড়ে ৯ শতাধিক ঘর ও পঞ্চাশের ওপরে ডিপো স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। জেলেদের নিরাপত্তায় বন বিভাগের পাশাপাশি থাকছে র‌্যাব ও কোস্ট গার্ড।

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি জানান, জেলার আমতলী ও তালতলী উপজেলার জেলেরা গতকাল সোমবার রাত থেকেই ট্রলার ও জাল নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন সমুদ্রের উদ্দেশে। যাওয়ার আগে পায়রা (বুড়িশ্বর) নদীসংলগ্ন জেলেপল্লীর একাধিক জেলে জানান, ইলিশ ধরার যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করেছেন তাঁরা। প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকায় তারা ঋণগ্রস্ত হয়েছেন।

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি জানান, উপজেলার জেলে এবং মাছ ধরায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশঙ্কা করছেন, এই মৌসুমে তাঁদের বিনিয়োগের টাকা উঠে আসবে না। বারবার নিষেধাজ্ঞায় তাঁরা ক্ষুব্ধ। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তোলেন। ট্রলারমালিক মাসুম মিয়া জানান, ইলিশ মৌসুমের জ্যৈষ্ঠ থেকে আশ্বিন পর্যন্ত মোট ৮৭ দিন সরকারি নিষেধাজ্ঞা ছিল। মৌসুমের বাকি দুই মাসের মধ্যে একাধিকবার লঘুচাপ, নিম্নচাপ ও অন্যান্য দুর্যোগ ছিল। সে কারণে প্রত্যাশা মতো  ইলিশ ধরতে পারেননি তাঁরা।

চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, চাঁদপুরের পদ্মা, মেঘনাসহ দেশের অভয়াশ্রমে মাছ ধরা শুরু হয়েছে। ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরের জেলেরাও আজ থেকে পুরোদমে মাছ ধরবেন। জেলা সদরের হরিণাঘাটের জেলে বিল্লাল মিসৌরী জানান, গত ২২ দিনের সরকারের দেওয়া ২০ কেজি চাল পেয়েছেন; কিন্তু তাতে এক সপ্তাহ পার হয়েছে। সংসার চালাতে ধারদেনা করতে হয়েছে। এবার মাছে পেলে সেই সমস্যা কিছুটা কাটানো যাবে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, অ্যাকোয়াকালচার অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এ বছরও সরকারের ইলিশ প্রজনন কালের অবরোধের ফলে মাছের বংশ বৃদ্ধি হবে। প্রথম সপ্তাহে শিকার করা মাছের পেটে ডিমের পরিমাণ দেখে বোঝা যাবে নিষেধাজ্ঞা কেমন হলো। অনুমান করা যাচ্ছে, শীত মৌসুমে পর্যাপ্ত মাছ পাবেন জেলেরা।’



সাতদিনের সেরা