kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

স্বাস্থ্যসেবায় ২৫ লাখ ছাত্র-ছাত্রী

ওরা ‘খুদে ডাক্তার’

তৌফিক মারুফ   

২৫ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ওরা ‘খুদে ডাক্তার’

খুদে শিক্ষার্থীরা তাদের সহপাঠীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য শিক্ষা দিচ্ছে। ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ৫৬ নম্বর চরবাগাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ছবি : সংগৃহীত

কেউ প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী, কেউ বা দশম শ্রেণির। গায়ে চিকিৎসকদের মতো অ্যাপ্রোন; স্কুলের গণ্ডি পার না হতেই তাদের পরিচয় মিলছে ‘ডাক্তার’ হিসেবে। বয়স ৫ থেকে ১৬ বছর। তাদের ওই পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ‘খুদে’ শব্দটিও। এককথায় তারা সবাই ‘খুদে ডাক্তার’।

এই খুদে শিক্ষার্থীরা তাদের সহপাঠীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য শিক্ষা দিচ্ছে, মাস্ক ব্যবহার, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, উচ্চতা মেপে দেখা, ওজনেরও মাপ রাখার ব্যাপারে সচেতন করছে। খাবার আগে হাত না ধুয়ে নিলে কী হয়, টয়লেট ব্যবহারের পরে কিভাবে সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হয়, হাত-পায়ের নখ ঠিকমতো কাটা হয়েছে কি না, স্যান্ডেল ব্যবহার করছে কি না, নিয়মিত দাঁত ব্রাশ হচ্ছে কি না—এর সব কিছুই দেখভাল করছে এই খুদে ডাক্তাররা। শুধু তা-ই নয়, নিজ ক্লাসের সহপাঠীদের দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা আছে কি না, সেটাও দেখছে তারা। ব্ল্যাকবোর্ডের লেখা কিংবা বইয়ের লেখাগুলো দেখতে অসুবিধা হচ্ছে কি না, তা-ও জনে জনে জিজ্ঞেস করে জানছে এই খুদে ডাক্তাররা।

স্কুলে স্কুলে গত শনিবার থেকে শুরু হয়েছে এই কার্যক্রম, যা চলবে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। শুধু এই কাজই নয়, ৩০ অক্টোবর থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানোর কাজেও সহায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে এই খুদে ডাক্তারের দল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সারা দেশের এক লাখ ২০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলছে এই খুদে ডাক্তারের কার্যক্রম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার উপকর্মসূচি ব্যবস্থাপক ডা. মো. আখতারুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতি ক্লাসে তিনজন করে ছাত্র-ছাত্রীকে বাছাই করা হয়েছে। দেশের এক লাখ ২০ হাজার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলে প্রায় ২৫ লাখ স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করা হয়েছে। যাদের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা প্রথমে প্রাথমিক স্বাস্থ্য শিক্ষার বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত করে তাদের দায়িত্ব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এর পরই তারা যার যার ক্লাসের সহপাঠীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যশিক্ষা বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। সেই সঙ্গে যার যার স্কুলের শিক্ষক ও স্বাস্থ্য বিভাগের স্থানীয় কর্মীরাও তাদের সঙ্গে উপস্থিত থাকেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সহজেই শিশু-কিশোররা নিজ নিজ স্বাস্থ্য ভালো রাখতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। খুদে ডাক্তাররা শুধু স্কুলেই নয়, নিজ নিজ এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সহপাঠীদের সচেতন করার কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে। এ ছাড়া আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের চার কোটি শিশুকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানোর কাজেও এই খুদে ডাক্তাররা বড় ভূমিকা রাখবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই ‘খুদে ডাক্তার’ বাংলাদেশে প্রথম চালু করে ২০১১ সালে। ওই বছর শুধু প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিটিতে প্রতি ক্লাসে তিনজন করে ১৫ জন খুদে ডাক্তার তৈরি করা হয়েছিল। ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই কার্যক্রম ঢিমেতালে চালু ছিল। এরপর বন্ধই হয়ে যায়। চলতি বছর আবার ওই কার্যক্রম চালু করে প্রাথমিকের সঙ্গে প্রথম যুক্ত করা হয়েছে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহম্মেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খুদে ডাক্তার’ কার্যক্রমটি শুরুতে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ ছিল। শুভেচ্ছা হিসেবে তাদের ‘খুদে ডাক্তার’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল। দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির তুলনামূলক মেধাবী ১৫ জন ছাত্র-ছাত্রীকে নিয়ে স্বাস্থ্যসেবায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমে বিশেষ স্বেচ্ছাসেবক টিমই হলো খুদে ডাক্তার।



সাতদিনের সেরা