kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২ ডিসেম্বর ২০২১। ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৩ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইনের দাবি

সহিংসতাবিরোধী কনসার্ট হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে (বাঁয়ে) ও শাহবাগ মোড়ে মশাল মিছিল করে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে দিনভর বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ। কর্মসূচি থেকে দেশের সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।

গতকাল শুক্রবার শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। ‘আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন), বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, ইন্টারন্যাশনাল শ্রীশ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন, বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্পী সংসদ, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র ফোরাম, জাগো হিন্দু পরিষদ, আর্য প্রতিনিধি সভা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হিন্দু লইয়ার্স অর্গানাইজেশন, বাংলাদেশ হিন্দু ভয়েস, ভক্ত সংঘ, শারদাঞ্জলি ফোরাম, বাংলাদেশ সনাতন কল্যাণ জোট, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাসংঘ ও রবিদাস হিন্দু কল্যাণ সংঘের ভক্ত-সমর্থকরা অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়। কবিতা আবৃত্তিশিল্পীরাও ওই কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন। অবস্থান কর্মসূচির এক পর্যায়ে শাহবাগ মোড় অবরোধ করা হয়। অবরোধ শেষে প্রতিবাদী মশাল মিছিল করেন তাঁরা। মিছিলটি শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে মৎস্য ভবনের সামনে দিয়ে প্রেস ক্লাবে গিয়ে শেষ হয়। 

অবস্থান কর্মসূচি থেকে ছয় দফা দাবি জানান হিন্দু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাজন কুমার মিশ্র। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ, নিহতের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ, নিহতের পরিবারের অন্য সদস্যদের সরকারি খরচে পড়ালেখার ব্যবস্থা করা, সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।’

হিন্দু পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন রায় বলেন, ‘অব্যাহতভাবে হামলার ঘটনা ঘটছে। দোষীদের ধরতে অনীহা দেখতে পাচ্ছি। প্রশাসন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে আমরা চাই সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন করা হোক।’

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি প্রজন্ম ’৭১-এর

সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি রুখতে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করে বাহাত্তরের সংবিধানে প্রত্যাবর্তন করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তানদের সংগঠন প্রজন্ম ’৭১। গতকাল রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।

সংগঠনের অন্য দাবিগুলো হলো—সব ধর্মের মানুষের নির্ভয়ে ধর্মীয় উৎসব পালনের নিশ্চয়তা দিতে হবে, স্কুল পর্যায়ে পাঠ্যপুস্তক সাম্প্রদায়িকতামুক্ত করে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পাঠ্য করতে হবে এবং এলাকাভিত্তিক ও দেশজুড়ে সম্মিলিতভাবে সাম্প্রদায়িকতা-বিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

মানববন্ধনে সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক নুজহাত চৌধুরী শম্পা বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা দেখছি পূজামণ্ডপে হামলা করতে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই সেই চেনা শত্রুদের, বারবার ছোবল দেওয়ায় আমরা বিষে নীল হয়ে মরে যাব, সেটা কিন্তু না। আমরা বারবার ফিনিক্স পাখির মতো উঠে দাঁড়াব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এ দেশ ছাড়ব না। বাংলাদেশ আমাদের বাবাদের রক্তে রঞ্জিত পবিত্র ভূমি। বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক রাখব এবং তার জন্য প্রয়োজন হলে রক্ত দেব।’

মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রজন্ম ’৭১-এর সভাপতি আসিফ মুনীর তন্ময়, সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইফুদ্দিন আব্বাস, যুগ্ম সম্পাদক বশীর আহমেদ প্রমুখ।

মানববন্ধনে অন্য বক্তারা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির সংস্কৃতি রোখা যাবে না। বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠা ও বলবৎ রাখার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অঙ্গীকার তথা বঙ্গবন্ধু প্রণীত ১৯৭২-এর সংবিধানের চার মূলনীতির অংশ ধর্মনিরপেক্ষতার মুখে কালিমা লেপন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি ও রাজনীতির চর্চাকে অবাধ করা হয়েছে সমাজের সর্বস্তরে।

ঢাবিতে সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী কনসার্ট

দেশে চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সহিংসতাবিরোধী কনসার্টের আয়োজন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতিমনা একদল শিক্ষার্থী। কনসার্টে শিরোনামহীন, মেঘদল ও সহজিয়ার গানের পাশাপাশি ছিল মূকাভিনয়, একক গান, নৃত্য ও থিমেটিক পারফরম্যান্স। গতকাল বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে প্রতিবাদী কনসার্টটি শুরু হয়ে চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। ‘সহিংসতার বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে ও ‘আক্রান্ত মাটি আক্রান্ত দেশ, এ মাটির কসম রুখবোই বিদ্বেষ’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত হয় কনসার্টটি।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, সারা দেশে চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই আয়োজন। আমরা চাই এ দেশের মানুষ হিন্দু-মুসলিম পরিচয়ের চেয়ে সবাই বাংলাদেশি পরিচয়ে পরিচিত হোক।



সাতদিনের সেরা