kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

সিনেট কমিটিতে পিটার ডি হাস

গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ পুরো অঞ্চলের লাভ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২২ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ পুরো অঞ্চলের লাভ

গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ থেকে পুরো অঞ্চল লাভবান হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের মনোনীত রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস। গত বুধবার রাতে ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে শুনানিতে তিনি এ কথা জানান। পিটার ডি হাস বলেন, বাংলাদেশে ২০২৩ সালের জাতীয় নির্বাচনে পূর্ণ গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকাণ্ডকে তিনি এগিয়ে নিতে চান। এ ছাড়া তিনি মানবাধিকার সুরক্ষা দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানাবেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত ৯ জুলাই পিটার ডি হাসকে বাংলাদেশে পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেন। ওই মনোনয়ন নিয়ে গত বুধবার সিনেট কমিটিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সিনেট কমিটি ওই মনোনয়ন চূড়ান্ত করলে তিনি রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশে আসবেন। এরপর তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র পেশ করার মাধ্যমে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

পিটার ডি হাস সিনেট কমিটিকে বলেন, বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই উদারতার প্রশংসা করে। প্রায় পাঁচ দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও অংশীদার হয়ে আছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে তিনি ঢাকা-ওয়াশিংটন ডিসি সম্পর্ক আরো জোরদার এবং উন্মুক্ত, স্বাধীন, আন্তঃসংযুক্ত, স্থিতিস্থাপক ও নিরাপদ অঞ্চল গড়ার নীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, জনস্বাস্থ্য এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় টেকসই সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের একসঙ্গে কাজ করার তথ্য সিনেট কমিটির সামনে তুলে ধরেন পিটার ডি হাস। তিনি বলেন, ‘আমাদের দুই দেশ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিও অঙ্গীকারবদ্ধ। আমাদের মানুষে মানুষে সম্পর্ক জোরালো হচ্ছে এবং এটি আমাদের সহযোগিতা জোরদারে সহায়তা করছে।’

হাস বলেন, ‘আমাকে যে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তা চূড়ান্ত করা হলে আমি বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের অংশীদারি আরো বিস্তৃত এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধ ও স্বার্থের পক্ষে নিরলসভাবে কাজ করব।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের পূর্ণ সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য তাদের অবশ্যই মত প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বাধীন হতে হবে। কোনো ধরনের হয়রানি বা ক্ষতির আশঙ্কা ছাড়াই বাংলাদেশে গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ সংগঠন এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সদস্য ও কর্মীদের স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনাকে উৎসাহিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর অনেক দিন ধরেই অঙ্গীকারবদ্ধ।

হাস বলেন, মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে তিনি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে উৎসাহিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাজ অব্যাহত রাখবেন। রোহিঙ্গারা যেখানেই থাকুক না কেন তাদের মানবাধিকার সুরক্ষাকে উৎসাহিত করে যাবেন।



সাতদিনের সেরা