kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

নাগরিক প্ল্যাটফর্মের প্রশ্ন

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও কেন হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও কেন হামলা

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গতকাল সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে নাগরিক প্রতিবাদ অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে হামলার ঘটনায় জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও কেন হামলা চলমান থাকে? কেন সর্বশেষ রংপুরের পীরগঞ্জে হামলা করা হয়? গতকাল বৃহস্পতিবার নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত নাগরিক সভায় এই প্রশ্ন করা হয়।

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা সৃষ্টির পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িতদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশনাও দেন তিনি।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সরকারের বিচারহীনতা ও প্রশাসনের ব্যর্থতার কথাও তুলে ধরেন বক্তারা। 

নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এ ধরনের ঘটনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সারা জীবনের আন্দোলন এবং দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপনের চেতনাবিরুদ্ধ। পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন এবং রাজনীতিতে ধর্মীয় অপশক্তির সঙ্গে মীমাংসা ও প্রশ্রয় এবং সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মের ব্যবহারের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরো বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকে সামনে আনার জন্য বর্তমান সরকার বিশেষ কমিশন গঠন করেছিল। সেই কমিশন প্রতিবেদন জমা দিলেও সে অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া নাসিরনগর বা রামুতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হয়নি।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘বিচার বিভাগীয় তদন্ত বলে আইনে কিছু নেই। এর আইনগত কোনো মূল্য নেই। যে ঘটনাগুলো হয়েছে, আমি ৯৯ শতাংশ গ্যারান্টি দিচ্ছি, কোনো রেজাল্ট হবে না। এত আসামি, এত সাক্ষ্য দিয়ে বিচার করার সামর্থ্য আমাদের ব্যবস্থার নেই। ৩০০, ৫০০, ৮০০ আসামির কথা উল্লেখ করে পুলিশ আগেই জানান দিয়ে দিচ্ছে, এখানে আমাদের কিছু করার নেই। যেটা উদ্দেশ্য, তা হলো গ্রেপ্তার বাণিজ্য। আগে আমি ভাবতাম এখানে অন্য কিছু আছে। কিন্তু এখন আমার ধারণা ক্রমেই দৃঢ় হচ্ছে। রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। কাজ করার জন্য যে যোগ্যতা-দক্ষতা প্রয়োজন, সেটা এখন নেই।’

অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সন্ত্রাস কমে গেছে। আমি ভেবেছিলাম, এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না। আমি খুবই বিব্রত এবং মর্মাহত। এগুলো কেন ঘটল, কারা ঘটাচ্ছে এবং কারা ঘটতে দিচ্ছে। এদের সবাই সমানভাবে দায়ী। আমাদের বিচারহীনতার কথা বলা হচ্ছে। এই বিচারহীনতা দূর করতে হবে। না হলে এ রকম ঘটনা ঘটতেই থাকবে।’

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা বারবারই ঘটছে। দ্রুত প্রতিকার হোক, এমন প্রত্যাশা করি।’

মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ যে উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়েছিল, আজকে আমাদের এই বাংলাদেশ দেখতে হবে, তা কখনো কল্পনাও করিনি। এর আগে সাম্প্রদায়িক হামলা ঘটেনি, তা নয়; কিন্তু বিচ্ছিন্নভাবে ঘটত।’ সাম্প্রদায়িক হামলা নিয়ে একটি কমিশন গঠনের দাবিও তোলেন তিনি। 

সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘দেশ বিচারহীনতার মধ্যে চলছে, যে কারণে একটার পর একটা ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। আমাদের তরুণ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আমার মতে, এই দেশটা এমনভাবে যাচ্ছে, যেখানে ভিন্নমতের, ভিন্ন পরিচয়ের আর কোনো জায়গা রাখা হয়নি। আমরা পূজা করতে যাচ্ছি, পুলিশ চাচ্ছি, পুলিশ পাচ্ছি না। কেমন পূজা করব যে পূজা করার সময় পুলিশ লাগবে। তাহলে ঈদ করার সময় কি পুলিশ লাগবে? এটা তো একটা উৎসব। এখানে পুলিশ নিয়ে, আর্মি নিয়ে সেটা করব?’ কুমিল্লার ঘটনায় যাকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তা-ও রাজনীতির অংশ বলে দাবি করেন তিনি।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘পুলিশের দৈন্য এবং অনেকে রাজনীতির কথা বলেছেন; আমি সে বিষয়টিও এড়াব না। আমরা নির্বাচনব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলেছি। সেখানে এমপি সাহেব কোন দুঃখে আক্রান্তদের কাছে যাবেন?’

বাংলাদেশ পেশাজীবী আন্দোলনের নেতা সরয়ার আলী বলেন, ‘আমি কয়েক দিন ধরে যেটা ভেবেছি, বাংলাদেশ যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, সেটা বলার সাহস ক্রমেই হারিয়েছি। বাংলাদেশের যে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি, তারা সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ ও প্রশাসনের ব্যর্থতা রয়েছে।



সাতদিনের সেরা