kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

মুগদা জেনারেল হাসপাতাল

হঠাৎ বিস্ফোরণ দগ্ধ, আহত ৯

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হঠাৎ বিস্ফোরণ দগ্ধ, আহত ৯

রাজধানীর মুগদা হাসপাতালের একটি খালি ইউনিটে বিস্ফোরণের পর রোগীদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালের একটি খালি ইউনিটে বিস্ফোরণের ঘটনায় নার্স, ওয়ার্ডবয়সহ ৯ জন দগ্ধ ও আহত হয়েছেন। সেখানে ক্যাথল্যাব, আইসিইউ ইউনিট ও অপারেশন থিয়েটার পাশাপাশি। ষষ্ঠ তলার ওই আইসিইউ ইউনিটে আগে কভিড রোগী রাখা হতো। করোনা সংক্রমণ কমে আসায় এখন সাধারণ রোগী রাখার জন্য ইউনিটটি প্রস্তুত করা হচ্ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ষষ্ঠ তলার ওই ইউনিটের ভেতর ক্যাথল্যাবে বিস্ফোরণের পর আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।

বিস্ফোরণের আধাঘণ্টার মধ্যেই আগুন নিভিয়ে আহত-দগ্ধদের উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতালের কর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার সময় সেখানে কোনো রোগী ছিল না। কর্মীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছিলেন। উদ্ধারকারী ও চিকিৎসকরা জানান, বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে, কাচ পড়ে এবং হুড়াহুড়ি করে নামতে গিয়ে অনেকে আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আইসিইউয়ের ইনচার্জ নার্স শাহিনা আক্তার (৪০), নার্স মেরি আক্তার (২৬), ক্যাথল্যাবের নার্স মনিকা প্যারেরা (৪০), আয়া রুমি খাতুন (৪০), ওয়ার্ডবয় (আউটসোর্সিং) আলমগীর হোসেন (২৮), নাজমুল হাসান (২১), টেকনিশিয়ান জহিরুল হক মজুমদার (৪৫), টিকা নিতে আসা সাইদুল ইসলাম (৩৮) এবং ওষুধ কম্পানির বিক্রয়কর্মী ওমর ফারুককে (৩০) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জহিরুল হক মজুমদারের ৩০ শতাংশ, মেরি আক্তারের ২০ শতাংশ, রুমি খাতুনের ৮ শতাংশ, মনিকা প্যারেরার ৬ শতাংশ দগ্ধ এবং নাজমুল হোসেনের শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাঁদের শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি  ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। আর সাইদুল, আলমগীর ও ফারুক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। বার্ন ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘এদের মধ্যে কারো কারো অবস্থা তেমন ভালো নয়। তবে বড় বিপদের আশঙ্কা করছি না। জহিরুল ও মনিকাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।’

মুগদা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডা. নিয়াতউজ্জামান বলেন, ‘বিস্ফোরণ বা আগুন লাগার কারণ আমরা প্রাথমিকভাবে বুঝতে পারছি না। এ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটির সদস্যরা প্রতিবেদন জমা দেবেন।’

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপরাশেন) লে. কর্নেল জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতাল ভবনের ষষ্ঠ তলার আইসিইউতে দুপুর ১২টার দিকে বিস্ফোরণ থেকে আগুন লাগে। সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও গ্যাসের যন্ত্রপাতি ছিল। রোগী না থাকায় ক্যাথল্যাব কক্ষটিও আবদ্ধ ছিল। তদন্তে সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।

তিনি আরো জানান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দুপুর ১টার দিকে আগুন নিভিয়ে আহত ও দগ্ধ কর্মীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। অন্য তলা থেকেও রোগীদের নিরাপদে সরানো হয়।

আহত ওয়ার্ডবয় নাজমুল, আয়া রুমি খাতুন জানান, তিন দিন ধরে ষষ্ঠ তলার আইসিইউ-১ খালি আছে। কভিড থেকে নন-কভিড বা সাধারণ আইসিইউ করার কাজ চলছিল। ১ নভেম্বর থেকে সেখানে আবার রোগী রাখার কথা ছিল। গতকাল আইসিইউয়ের ভেতরে ঝাড়ু দিচ্ছিলেন এবং জীবাণুমুক্ত করার কাজ করছিলেন কয়েকজন। হঠাৎ বিকট শব্দে ক্যাথল্যবের গ্লাস ভেঙে ছিটকে আসে। আইসিইউয়ের অন্য অংশেও ধোঁয়া ও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। অনেক জায়গার কাচও ভেঙে পড়ে। এতে অনেকের শরীর পুড়ে যায়। ভয়ে কর্মীরা ছোটাছুটি শুরু করেন। ভবনটির অন্য তলা থেকেও রোগী ও স্বজনরা বাইরে বের হয়ে যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে উদ্ধারকাজ শুরু করেন ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতালের কর্মীরা। দায়িত্বরত নার্স রুমা বিশ্বাস বলেন, করোনার রোগী কমে যাওয়ায় আইসিইউটিকে সাধারণ আইসিইউতে রূপান্তর করার কাজ চলছিল। সেখানে ১৪টি বেড। গতকাল তাঁরা পাঁচজন নার্সসহ কয়েকজন স্টাফ কাজ করছিলেন। তিনি অন্য পাশে ছিলেন। হঠাৎ শুনতে পান ক্যাথল্যাব অংশ থেকে বিস্ফোরণ ও ধসে পড়ার শব্দ। এরপর আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। আইসিইউয়ের অন্য অংশে দায়িত্বরত কয়েকজন আহত হয়েছেন।

টিকা নিতে যাওয়া সাইদুল জানান, তিনি একজনের খোঁজে ষষ্ঠ তলায় গিয়ে আহত হন। ওষুধ কম্পানির বিক্রয়কর্মী ফারুক জানান, কাচ ছিটকে এসে তাঁর শরীরে লাগে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতাল ভবনের ষষ্ঠ তলায় আইসিইউ কমপ্লেক্সের উল্টো দিকে অপারেশন থিয়েটার ও পোস্ট-অপারেটিভ। পঞ্চম তলায় কার্ডিওলজি, গাইনি ও প্রসূতি বিভাগ। চতুর্থ তলায় পরিচালকের কার্যালয়সহ অফিস। তৃতীয় তলায় কভিড-১৯ আইসিইউ, এইচডিইউ ও প্যাথলজি বিভাগ। দ্বিতীয় তলায় বহির্বিভাগ ও প্যাথলজি বিভাগ।

গতকাল বিস্ফোরণের পর আইসিইউ ও এইচডিইউয়ের স্পর্শকাতর রোগী ছাড়া অন্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করেছে। দুর্ঘটনাস্থলে গেছে র‌্যাব ও পুলিশের দল।



সাতদিনের সেরা