kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

ইউপি নির্বাচন

সহিংসতা এড়াতে বাড়তি উদ্যোগ নেই ইসির

কাজী হাফিজ   

২০ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সহিংসতা এড়াতে বাড়তি উদ্যোগ নেই ইসির

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতা এড়াতে বাড়তি কোনো উদ্যোগ নেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। আগের কমিশনগুলোর মতো বর্তমান কমিশন কেন্দ্রীয়ভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধান বা প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছে না। নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিল নির্বিঘ্ন করতে এবং বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা এড়াতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। নির্বাচনের নিরাপত্তায় ইসি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের ওপরই নির্ভরশীল। নির্বাচন কমিশনাররা বিভিন্ন জেলা সফরে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। আজ বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা মাগুরায় যাচ্ছেন। অন্য নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মাহবুব তালুকদার তাঁর সফরসূচি এখনো নির্ধারণ করেননি। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী আজ যাচ্ছেন টাঙ্গাইল। বেগম কবিতা খানম চট্টগ্রাম অঞ্চলের কয়েকটি জেলা সফরে রয়েছেন। মো. রফিকুল ইসলাম অসুস্থ। তিনি আপাতত কোথাও যাচ্ছেন না।

নির্বাচন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগামী ১১ নভেম্বর দেশের ৬৩ জেলায় অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের আগে যে সময় পাওয়া যাবে, তাতে সব জেলায় নির্বাচন কমিশনারদের যাওয়া সম্ভব নয়।

এ ধাপের নির্বাচন ঘিরে গত শনিবার মধ্যরাতে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় নেথোয়াই মারমা নামের আওয়ামী লীগ মনোনীত চিত্মরম ইউপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। একই দিন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের বাকা গ্রামে মেম্বার পদে মনোনয়ন এবং একটি হত্যা মামলার মীমাংসাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় ১০ জন আহত হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার নির্বাচন ঘিরে মাগুরা সদরের জগদল এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছে। গত বুধবার বগুড়ায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী শোভাযাত্রায় হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে শিবগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে।

এই পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, “ইউপি নির্বাচনে ‘গেম চেঞ্জ’ হয়ে গেছে। যা কিছু হচ্ছে তা সরকারি দলের মধ্যেই হচ্ছে। এ অবস্থায় সহিংসতায় কারা মরছে, কতজন মরছে তা নিয়ে উৎকণ্ঠাও কম। এ নিয়ে কেউ আর মাথা ঘামাচ্ছে না। এটি অবহেলার নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের একটা দায় আছে। যেকোনোভাবে এই দায় সারা হচ্ছে। এ কারণেই নির্বাচন নিরপেক্ষ, অবাধ, সুষ্ঠু করতে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বাড়তি কোনো উদ্যোগ নেই।”

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইউপি নির্বাচনের নিরাপত্তাব্যবস্থা জেলা পর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে করা হচ্ছে। নিজ নিজ জেলার জনবল দিয়েই এ কাজ সম্পন্ন করা হবে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেই আমরা এ নির্বাচন চার ধাপে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছি।’

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খন্দকার বিষয়টি নিয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন থেকে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে কোনো বৈঠক হয়নি, হওয়ার পরিকল্পনাও নেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য নির্বাচন কমিশনাররা বুধবার (আজ) থেকে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা পরিদর্শনে যাবেন। সেখানে তাঁরা মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন।’

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এর আগে কাজী রকিবউদ্দিন আহমদের কমিশন প্রথম দুই ধাপের ইউপি নির্বাচনের পর ২০১৬ সালের ১৩ এপ্রিল কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার ও কোস্ট গার্ডের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করে। সে বৈঠকে আগের দুই ধাপের নির্বাচনে সহিংসতা ও অনিয়ম এড়ানোর ক্ষেত্রে করণীয় নির্ধারণ করা হয়। এর আগে ২০১১ সালের ১৯ এপ্রিল এ টি এম শামসুল হুদা কমিশনের সময় ইউপি নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক হয়।

এই কর্মকর্তারা জানান, দেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ইতিহাস স্বস্তির নয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতিটিতেই সহিংসতার নজির রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রাণহানি ঘটে ১১০ জনের। ওই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ক্ষমতাসীন দলের (বিদ্রোহীসহ) ২১৮ জন প্রার্থী বিনা ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে ইউপি নির্বাচনে কমিশন কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। তবে ডেমক্রেসিওয়াচ তাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে জানায়, ওই বছরের ৬ মে থেকে ২০ জুন পর্যন্ত নির্বাচনী সহিংসতায় ২৭ জন নিহত হয়। আহত হয় ৪৩৬ জন। গুলিবিদ্ধ হয় ১৫ জন।



সাতদিনের সেরা