kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

বাড়ছে ডলারের দাম

জিয়াদুল ইসলাম   

১৯ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বাড়ছে ডলারের দাম

রপ্তানি আয়ে ধীরগতি ও প্রবাসী আয়ের নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্যে বিভিন্ন পণ্যের আমদানি চাহিদা বাড়ায় ব্যাংকগুলোতে মার্কিন ডলারের সংকট দেখা দিয়েছে। ঘাটতি মেটাতে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে মার্কিন ডলার কিনছে। এ কারণে প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে ডলারের দাম। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত রবিবার ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে প্রায় পাঁচ পয়সা। অর্থাৎ ডলারের দাম বেড়েছে। গতকাল সোমবার আন্ত ব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা ৬৫ পয়সায়। এর প্রভাব পড়েছে খোলাবাজারেও। খোলাবাজারে প্রতি ডলার কিনতে এখন খরচ হচ্ছে প্রায় ৮৯ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত ৫ আগস্ট আন্ত ব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়। ওই মাসে খোলাবাজারে ডলার বিক্রি হয়েছে ৮৭ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায়। আড়াই মাসেরও কম সময়ে ডলারের বিপরীতে টাকা ৮৫ পয়সা দর হারিয়েছে। আর খোলাবাজারে কমেছে প্রায় দেড় টাকা।

ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে বাজারে ডলার বিক্রি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১৩ দিনে বিক্রি করা হয়েছে প্রায় ৩৫ কোটি ডলার। এটি আগস্ট মাসের পুরো সময়ের চেয়ে চার কোটি ডলার বেশি। সব মিলে গত আড়াই মাসে প্রায় ১২৯ কোটি ডলার বিক্রি করা হয়েছে। দেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা।

সাধারণত ডলারের দাম বাড়লে প্রবাসী ও রপ্তানিকারকরা লাভবান হন। আর ক্ষতিগ্রস্ত হন আমদানিকারক ও সাধারণ মানুষ। কারণ ডলারের দাম বাড়লে পণ্যমূল্যও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক হওয়ায় এখন আমদানি বেশ বাড়ছে। আবার বিলম্বে পরিশোধ শর্তে যেসব পণ্য আমদানি করা হয়েছিল, সেগুলোও পরিশোধ করতে হচ্ছে। করোনার টিকা আমদানির অর্থও পরিশোধ করতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দামও বাড়ছে।’ তবে সংকট সামাল দিতে বাজারে প্রয়োজনীয় ডলার সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ার পর দেশে আমদানির গতি বাড়ছে। মূলধনী যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল, শিল্পের মধ্যবর্তী পণ্য, খাদ্যপণ্য, জ্বালানি তেলসহ সব পণ্যের আমদানিই এখন বেশ ঊর্ধ্বমুখী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) এক হাজার ৭৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের (২০২০-২১) একই সময়ের চেয়ে ৪৫.৩১ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে একই সময়ে এক হাজার ২১৩ কোটি ডলারের বিভিন্ন পণ্য আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে। এই অংশ গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৮.৬০ শতাংশ বেশি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কালের কণ্ঠকে বলেন, বাজারের সরবরাহের চেয়ে ডলারের ঘাটতি রয়েছে। বেশির ভাগ ব্যাংকেই চলছে ডলারের সংকট। এর কারণ রপ্তানি আয়ের ধীরগতি ও প্রবাসী আয় কমে যাওয়া। কিন্তু আমদানি বাড়ছে বেশ গতিতে। তিনি আরো বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক খুব প্রয়োজন ছাড়া কোনো ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করছে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত জুন থেকে প্রবাসী আয় কমছে। সেপ্টেম্বর মাসে দেশে যে পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে, তা আগের মাসের চেয়ে প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ এবং গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ কম। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের হিসাবে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কমেছে প্রায় সাড়ে ১৯ শতাংশ। আর চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১৪ দিনে দেশে এসেছে মাত্র ৮৮ কোটি ডলার।

অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে মাত্র ১১.৩৭ শতাংশ।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে দেশে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে একই জায়গায় ‘স্থির ছিল ডলারের দর। গত ৫ আগস্ট থেকে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বাড়তে শুরু করে। এখন প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে দাম।

বাজার স্থিতিশীল রাখতে গত আগস্ট মাসে রেকর্ড পরিমাণ ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই মাসে ৬৪ কোটি ১০ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়। তবে সেপ্টেম্বর মাসে বিক্রির পরিমাণ কিছুটা কমে হয় ৩০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আর অক্টোবর মাসের প্রথম ১৩ দিনে বিক্রি করা হয়েছে ৩৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সব মিলে চলতি অর্থবছরের আগস্ট থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ১২৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়েছে। অথচ চাহিদা না থাকায় চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসেও কোনো ডলার বিক্রি করতে হয়নি বাংলাদেশ ব্যাংককে। উল্টো জুলাইয়েও ব্যাংকগুলো থেকে ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। গত অর্থবছরে প্রায় ৮০০ কোটি ডলার কেনা হয়েছিল।

নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো চাইলেও বাড়তি ডলার নিজেদের কাছে রাখতে পারে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, একটি ব্যাংক তার মূলধনের ১৫ শতাংশের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা নিজেদের কাছে রাখতে পারে। এর অতিরিক্ত হলেই তাকে বাজারে ডলার বিক্রি করতে হবে।



সাতদিনের সেরা