kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

মাগুরায় চার খুন

মামলা হয়নি, গ্রাম পুরুষশূন্য

মূলত ওই গ্রামের মোল্লা গোষ্ঠীর দুটি পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরেই সহিংসতার ঘটনা ঘটে

মাগুরা প্রতিনিধি   

১৮ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মামলা হয়নি, গ্রাম পুরুষশূন্য

মাগুরায় চার খুনের ঘটনায় গতকাল রবিবার পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। গতকাল রাত সাড়ে ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সদর থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম নিহত ব্যক্তিদের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন মামলা করানোর জন্য স্বজনদের আনতে।

গত শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার জগদল ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দুই সদস্য পদপ্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা ও সৈয়দ হাসানের সমর্থকদের মধ্যে এ সহিংসতায় খুন হন রহমান মোল্লা (৫৫), সবুর মোল্লা (৫২), কবির মোল্লা (৫০) ও ইমরান হোসেন (২৫)। নিহত সবুর মোল্লা ও কবির মোল্লা দুই ভাই। রহমান মোল্লা তাঁদের চাচাতো ভাই। সবুর মোল্লা ও কবির মোল্লাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। অন্য দুজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আহত হন অন্তত ২০ জন।

মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান জানান, পুলিশ মামলা নেওয়ার জন্য শনিবার সারারাত অপেক্ষা করেছে। গতকাল দুপুর পর্যন্ত কোনো পক্ষই মামলা দিতে না আসায় সদর থানার ওসিকে নিহত ব্যক্তিদের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু নিহতদের স্বজনরা কেউ আসতে রাজি হচ্ছেন না। সময় চাইছেন।

 

ওই গ্রামে থাকা অবস্থায় সদর থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘গোটা গ্রাম প্রায় পুরুষশূন্য। সবুর মোল্লা, কবির মোল্লা ও রহমান মোল্লা হত্যার ঘটনায় তাঁদের ভাই আনোয়ার মোল্লা এবং ইমরান হত্যা মামলায় তাঁর মা ফরিদা বেগম বাদী হয়ে আজ (গতকাল) রাতের মধ্যে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। আমি নিহত ব্যক্তিদের বাড়িতে অপেক্ষা করছি। তাঁদের নিরাপত্তা দিয়ে থানায় মামলার জন্য নিয়ে যাব।’

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত ওই গ্রামের মোল্লা গোষ্ঠীর দুটি পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরেই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এর আগে ২০০৩ সালে দুই পক্ষের বিরোধে খুন হয়েছিলেন তিনজন। তখন দুই পক্ষ মীমাংসা করে নিয়েছিল। তখন আইনানুগভাবে বিচার হলে শুক্রবারের সহিংসতার ঘটনা ঘটত না।

গত শুক্রবারের সহিংসতার বিষয়ে স্থানীয় লোকজন জানায়, ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় জগদল ইউপির নির্বাচনে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য নজরুল ইসলাম মোল্লা এবারও প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে অনেক আগে থেকেই শত্রুতা চলে আসছে স্থানীয় সবুর মোল্লার। ওই ওয়ার্ডের সদস্য পদে সবুর মোল্লা তাঁর ঘনিষ্ঠ সৈয়দ হাসানকে প্রার্থী করেন। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার সন্ধ্যায় জগদল মাঝিপাড়া এলাকায় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী জানায়, ২০০৩ সালে মোল্লা গোষ্ঠীর ওই দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে তিনজন খুন হন। ওই সময় উভয় পক্ষ নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে নিয়েছিল। আইনগতভাবে বিচার না হওয়ায় খুনের দায় থেকে বেঁচে যাওয়া নজরুল মোল্লা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। ২০০৮ সালে তিনি বিএনপি থেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে স্থানীয় আধিপত্য আরো মজবুত করেন। জগদল ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের প্রশ্রয়ের কারণেও নজরুল বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নিহত সবুর মোল্লার পরিবারের অভিযোগ, রফিকুলের উপস্থিতিতেই নজরুল ও তাঁর সমর্থকরা সবুর মোল্লাকে হত্যা করেছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে জগদল ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটি মোল্লাদের গোষ্ঠীগত বিরোধ। আমি চেয়ারম্যান হওয়ার আগে থেকেই এ বিরোধ চলছে।’



সাতদিনের সেরা