kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

সাঙ্গু নদে পাউবোর খনন স্থানীয়দের অসন্তোষ

প্রকল্প পরিচালক বলছেন আশঙ্কার কিছু নেই

মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম   

১৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাঙ্গু নদে পাউবোর খনন স্থানীয়দের অসন্তোষ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বালুর কারণে সাঙ্গু নদের ভাটি এলাকার তলদেশ ভরাট হয়ে অনেক এলাকায় জেগে উঠেছে চর। এ কারণে প্রতি বর্ষায় সাঙ্গুতীরের দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলা, বান্দরবান সদরসহ আশপাশের এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে সৃষ্টি হয় ভাঙন। এ পরিস্থিতিতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও ভাঙন রোধে সাঙ্গু নদের প্রায় ২১ কিলোমিটার ভাটি এলাকা খননকাজে ৩৫৫ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। খননকাজের জন্য এরই মধ্যে পাউবো ঠিকাদারদের কার্যাদেশও দিয়েছে।

সাঙ্গু নদ খননকাজ অপরিকল্পিতভাবে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া) নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষায় পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গুর দুই পারে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙন রোধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দোহাজারী ব্রিজের উজান ও ভাটির বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী ব্লক বসানো হয়েছে। বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা নিয়ন্ত্রণে যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে তাতে ব্লকের নিচে খননকাজের পরিকল্পনা করেছে।’

তিনি বলেন, ‘সাঙ্গুর ভাঙন রোধে চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী ব্রিজের পাশ থেকে চাগাচর, বৈলতলী ইউনিয়নের জাফরাবাদ গ্রাম, সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া উইনিয়নের জোরারকুল, আমীরখিলসহ ভাঙনপ্রবণ এই পাঁচ কিলোমিটার এলাকা ছাড়াও চরবরমা এলাকায় আলাদা আলাদাভাবে ব্লক বসানো হয়েছে। এ ছাড়া সাঙ্গু ব্রিজের উজানে চন্দনাইশ অংশের ধোপাছড়ি, সাতকানিয়া অংশের ধর্মপুর, পুরানগড়, বাজালিয়া ও কালিয়াইশ এলাকায়ও ব্লক রয়েছে। এসব এলাকার নদীর গভীরে পাউবোর খননকাজ হলে ব্লকগুলো নদীতে মিশে যাবে। এতে নদীপারের শত শত বসতবাড়ি ঝুঁকিতে পড়বে।’

তবে এই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে সাঙ্গু নদ খনন প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী তনয় কুমার ত্রিপুরা বলেন, ‘সাঙ্গুর খননকাজের নকশা যেভাবে করা হয়েছে তাতে আশঙ্কার কিছু নেই। যেখানে যেখানে ব্লক রয়েছে আমরা তার উল্টো পাশে খনন করব। ব্লকের কাজও আমরা করেছি। সব জেনেই খননকাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। আর ব্লকের বাইরে সাঙ্গু নদের দোহাজারী ব্রিজ পয়েন্টের দুই কিলোমিটার ভাটিতে নলুয়া পয়েন্ট থেকে খননকাজ শুরু করা হয়েছে। এতে যেসব এলাকায় ব্লক বসানো হয়েছে তার কোনো ক্ষতি হবে না।’

সাঙ্গুর ২১ কিলোমিটার খননকাজ দেওয়া হয়েছে চার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান—ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং, একোয়া মেরিন ড্রেজিং, এসএসআরআাাই ও ডিনসেন্ট ড্রেজারকে।

এদিকে ঠিকাদাররা জমির মালিকদের অনুমতি না নিয়েই প্রায় ২০ একর কৃষিজমিতে খনন করা বালু ফেলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সাতকানিয়ার খাগরিয়া ইউনিয়নের মৈশামুড়া এলাকার বাসিন্দারা জানান, খনন করা বালু এভাবে ফেলতে থাকলে অন্তত ৫০০ কৃষকের বিপুল জমি অনাবাদি হয়ে যাবে।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার সোহেল আরাফাত রানা এ নিয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘কৃষিজমি নষ্ট করে বালু রাখতে দেওয়া হবে না। ঠিকাদারদের লোকজন বালু রাখতে সম্প্রতি জমিতে বেষ্টনী দিতে গেলে কৃষকরা বাধা দিয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে প্রভাবশালীরা হুমকি দিচ্ছেন।’

জানা গেছে, ২০১৯ সালে সাঙ্গুর বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও ভাঙন রোধে একটি সমীক্ষা চালায় ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডাব্লিউএম)। তাদের পরামর্শে প্রকল্পটি হাতে নেয় পাউবো।



সাতদিনের সেরা