kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

জাতিসংঘের তদন্ত কর্মকর্তা

আদালতে মিয়ানমারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য-প্রমাণ তুলে দিচ্ছি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আদালতে মিয়ানমারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য-প্রমাণ তুলে দিচ্ছি

জাতিসংঘের তরফ থেকে রোহিঙ্গা নিপীড়নসহ মিয়ানমারে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য-প্রমাণ আন্তর্জাতিক আদালত (আইসিজে) ও আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (আইসিসি) কাছে তুলে দিচ্ছে জাতিসংঘ। ২০১১ সাল থেকে মিয়ানমারে সংঘটিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ও আইনের লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্ত ও বিশ্লেষণে জাতিসংঘ গঠিত ‘ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমারের (আইআইএমএম) প্রধান নিকোলাস কুমজিয়ান শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন।

বিশ্ব সংস্থা জাতিসংঘের সংবাদ ও মিডিয়া বিভাগের অংশ ইউএননিউজে শুক্রবার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে নিকোলাস কুমজিয়ান মিয়ানমার বিষয়ে তাঁদের কার্যক্রমের বিশদ বর্ণনা দেন। তিনি এতে বলেন, আইআইএমএম তাদের সংগ্রহে থাকা ২০ লাখেরও বেশি তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করছে। এগুলো  বিচারকাজের জন্য আইসিজে ও আইসিসিকে দেওয়া হবে। তাঁরা মনে করেন, তথ্য-প্রমাণগুলো অপরাধীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।

এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ থেকে অপরাধের ধরন সম্পর্কে তারা প্রাথমিক কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন কি না জানতে চাইলে নিকোলাস কুমজিয়ান বলেন, আইআইএমএম কোনো আদালত বা কৌঁসুলি নয়। তারা সাক্ষ্য, তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে নথি তৈরি করছে মাত্র। সেগুলোর ভিত্তিতে কোনো আদালত বা বিচারিক কাঠামো অপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নিতে পারে।

আইআইএমএম প্রধান সাক্ষাৎকারে জানান, তাঁদের কর্মকর্তারা আলামত সংগ্রহের জন্য এখনো মিয়ানমারে ঢুকতে পারেননি। এ পরিস্থিতি কবে বদলাবে তা-ও বলা কঠিন। আইআইএমএম মিয়ানমারে শিগগিরই ঢুকতে পারবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে কুমজিয়ান বলেন, ‘আমি মনে করি না, এটি শিগগিরই হবে। তবে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইন ও সাধারণভাবে ইতিহাসের ক্ষেত্রেই ভবিষ্যৎ অনুমান করা খুব কঠিন। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব। আশা করি, শেষ পর্যন্ত মিয়ানমারে ঢোকার সুযোগ পাব।’

মিয়ানমারে সম্ভাব্য মানবাধিকার তথা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ আইআইএমএম গঠন করে এবং ৫৯ জন কর্মী নিয়োগ দেয়। জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের স্বাধীন সত্যানুসন্ধানী মিশনের সুপারিশ অনুযায়ী এটি গঠিত হয়।

মিয়ানমারে ঢুকতে না পারাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করে কুমজিয়ান বলেন, মানবাধিকার পরিষদ সুনির্দিষ্টভাবে মিয়ানমারকে বলেছে, আইআইএমএমকে সহযোগিতা করতে।

ইউএন নিউজকে কুমজিয়ান আরো বলেন, মিয়ানমারের গত ফেব্রুয়ারি মাসের সামরিক অভ্যুত্থান, সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষকে ছুড়ে ফেলা ইত্যাদি আন্তর্জাতিক আইনে গুরুতর অপরাধ হলেও তাদের তদন্তের এখতিয়ারভুক্ত নয়।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারজুড়ে ধারাবাহিকভাবে ব্যাপক মাত্রায় গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে উল্লেখ করে কুমজিয়ান বলেন, ‘আমরা সেসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছি।’

আইআইএমএম প্রধান জানান, বিভিন্ন সূত্র স্বেচ্ছায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য দিচ্ছে। অভ্যুত্থানের পর প্রথম পাঁচ মাসে তারা দুই লাখেরও বেশি তথ্য পেয়েছিলেন। আরো অনেকে আইআইএমএমের সঙ্গে কথা বলতে ও তথ্য দিতে চায়। ফলে তদন্তের কিছু সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেশী কম্বোডিয়ার খেমাররুজবিষয়ক ট্রাইব্যুনালের উদাহরণ দিয়ে কুমজিয়ান বলেন, মিয়ানমারের অপরাধীদের বিচারের জন্য হয়তো সে রকম ৪০ বছর অপেক্ষা করতে হবে না। সংঘাত-সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া লোকজন বাড়ি ফিরতে চায় জানিয়ে কুমজিয়ান বলেন, দুূর্ভাগ্যজনকভাবে এখনো সংঘাত হওয়ায় অন্যরা বাড়ি ফেরাকে নিরাপদ মনে করছে না।

মিয়ানমারে অপরাধ করে দায়মুক্তি পেয়ে আসা ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে—এ অভিমত দিয়ে জ্যেষ্ঠ এ তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, বিচার হলে তা ভবিষ্যতে অপরাধ ঠেকাতে সহায়ক হবে। দুর্ভোগের শিকার মিয়ানমারের জনগণ এখন কিছুটা হলেও আশা করতে পারে, এসব অপরাধ থামবে। তাদের পরিবারগুলো কিছুটা হলেও ন্যায়বিচার পাবে।



সাতদিনের সেরা