kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

৫ কেজি আইসসহ ঢাকায় গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৫ কেজি আইসসহ ঢাকায় গ্রেপ্তার ২

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে গতকাল শনিবার ভোরে পাঁচ কেজি আইসসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এটিই দেশের সবচেয়ে বড় আইসের চালান। গ্রেপ্তার দুজন হলেন হাছেন ওরফে খোকন (৩৩) ও তাঁর সহযোগী মোহাম্মদ রফিক (৩২)। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দুটি মোবাইল ফোনসেট, মিয়ানমারের একটি সিম কার্ড ও দুটি দেশি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও কক্সবাজারের র‌্যাব-১৫-এর সদস্যরা একটি কারবারিচক্রকে অনুসরণ করে দুজনকে গ্রেপ্তার করেন। গতকালের অভিযানেই এখন পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে বড় আইসের চালানটি জব্দ হলো। এর আগে সর্বোচ্চ দুই কেজির চারটি চালান জব্দ করেছিল র‌্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

গতকাল দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘টেকনাফকেন্দ্রিক সিন্ডিকেটের সদস্যরা সাধারণত নৌপথ ব্যবহার করে মাদকের চালান দেশে নিয়ে আসে। আগে তারা ইয়াবা নিয়ে আসত। কয়েক মাস ধরে তারা আইসের কারবার করছে। টেকনাফের নাফ নদীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তল্লাশি চৌকি থাকলেও গ্রেপ্তার হওয়া আইস সিন্ডিকেটের সদস্যরা রাতের আঁধারে নৌকায় নিজস্ব লাইটার সিগন্যালের মাধ্যমে পাশের দেশের মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইস নিয়ে আসে। আইসের চালান তারা টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম হয়ে সড়কপথে ঢাকায় নিয়ে আসে।’

এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আচারের প্যাকেট, বিভিন্ন চায়ের ফ্লেভারের প্যাকেট এবং বার্মিজ কাপড়ের প্যাকেটে ঢাকায় আনা হচ্ছে আইস ও ইয়াবা। এই সিন্ডিকেটে ২০ থেকে ২৫ জন রয়েছে, তাদের কয়েকজন ওখানে রয়েছে। ঢাকায়ও আছে। তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘টেকনাফের খোকন এর আগেও বেশ কয়েকটি আইসের চালান নিয়ে এসেছিল। তার নামে একাধিক মামলাও রয়েছে। আগে কয়েক শ গ্রাম করে চালান আনত। এবার চালানটি গুলশান, বনানী, ধানমণ্ডি, উত্তরা ও মোহাম্মদপুরের কয়েকজন কারবারির নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তাদের বিষয়ে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে।’

তিনি জানান, মিয়ানমারে এক গ্রাম আইসের দাম দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। আর বাংলাদেশে এর দাম ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। প্রতি গ্রামে ১৩ থেকে ২৩ হাজার টাকা বেশি লাভের আশায় মিয়ানমার থেকে দেশে আইস নিয়ে আসে খোকন। তারা মূলত অবৈধভাবে হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন করে।

র‌্যাবের কর্মকর্তা মঈন আরো বলেন, ‘মিয়ানমারের কারবারিদের সঙ্গে এদের এতটাই সখ্য গড়ে উঠেছে যে, যদি কোনো চালান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে তাহলে সেই চালানের টাকাও তাদের পরিশোধ করতে হয় না। প্রলুব্ধ করার জন্য এ রকম একটি ব্যাবসায়িক কৌশল নিয়েছে তারা।’

শ্যামপুরে হেরোইন অস্ত্র গুলিসহ দুজন গ্রেপ্তার : এদিকে রাজধানীর শ্যামপুরের পোস্তগোলা থেকে গত শুক্রবার রাতে রানা ওরফে পিচ্চি রানা (৩২) ও আকাশ (২০) নামের দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ১০০ গ্রাম হেরোইন, একটি ওয়ান শ্যুটার গান ও এক রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়।



সাতদিনের সেরা