kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

শিল্পকলায় সাধু মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিল্পকলায় সাধু মেলা

লালনের ১৩১তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে সাঁইজি স্মরণ উৎসব ও সাধু মেলায় গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমিতে ভক্তরা গাইলেন, ‘জাত গেল জাত গেল বলে একি আজব কারখানা।’ এ যেন সম্প্রতি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিরুদ্ধে ঘটে চলা অপতৎপরতার বিরুদ্ধেই শিল্পিত প্রতিবাদ। কাঙালিনী সুফিয়া, পাগলা বাবলু, নাসরিন আক্তার বিউটি, কহিনুর আক্তার গোলাপী, শফি মণ্ডল প্রমুখ শিল্পীর পরিবেশনায় একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া  লালনপ্রেমীরা ডুব দিলেন ভিন্ন এক ভাবের সাগরে।

এসো হে এসো দয়াল, আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে, আমি এক দিনও না দেখিলাম তারে, মদিনায় রাসুল নামে কে এলরে ভাই, এমন সমাজ কবে গো সৃজন হবে, কবে সাধুর চরণ ধূলি মোর লাগবে গায়, দেখনা রে সব হাওয়ার খেলা, তোমার দয়া বিনে চরণ সাধবো কিমতে, গুরু গত না হইলে প্রেমের প্রেমিক না হলে, মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপারে তুই, ভজ মুরশিদের চরণেই বেলা—এসব গানে গানে বাউলরা সুরের মূর্ছনায় ভিন্ন এক জগৎ সৃষ্টি করেন। শ্বেতবসনে হাতের একতারা উঁচিয়ে সাঁইজির এসব ভক্ত  গতকালের শেষ শারদীয় সন্ধ্যাকে উপভোগ্য করে তোলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর।

একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে এতে স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির সচিব মো. আছাদুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে লালন সাঁইয়ের ওপর গবেষণা ও সাধনায় বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রথমবারের মতো সাতজন লালন গবেষক ও সাধককে সম্মাননা দেয়।

লালন গবেষণায় সম্মাননা স্মারক পেলেন অধ্যাপক ড. আবুল আহসান চৌধুরী ও অধ্যাপক ড. শক্তিনাথ ঝা (ভারত)। লালন সাধনায় সম্মাননা  পেলেন পার্বতী দাস বাউল (ভারত), ফকির মোহাম্মদ আলী শাহ (কুষ্টিয়া), ফকির আজমল শাহ্ (ফরিদপুর), নিজাম উদ্দিন লালনী (মাগুরা) ও শুরু বালা রায় (ঠাকুরগাঁও)। সম্মাননা স্মারক হিসেবে প্রত্যেকে  পেলেন ক্রেস্ট, স্মারকপত্র ও ২৫ হাজার টাকা।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকে প্রতি মাসের পূর্ণিমা তিথিতে সাধু মেলার আয়োজন করে আসছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। লালন স্মরণোৎসব ও সাধু মেলার এটি ৩১তম আসর। ফকির লালন সাঁইজির অবদান মূল্যায়ন, জাতীয় পর্যায়ে এই মহৎ পদকর্তার সংগীত ভাণ্ডারকে আরো জনপ্রিয় ও লোকগ্রাহ্য করে তার আলোকে জীবন ও সমাজ গঠনে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে সাধু মেলার আয়োজন করা হয়।

বঙ্গবন্ধু লোকশিল্প প্রদর্শনী

গতকাল শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় জাদুঘরে ‘বঙ্গবন্ধু লোকশিল্প প্রদর্শনী’ জাদুঘরের জাতিতত্ত্ব ও অলংকরণ শিল্পকলা বিভাগের উদ্যোগে গতকাল শনিবার প্রতিষ্ঠানটির নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী গ্যালারিতে শুরু হয় এই প্রদর্শনী। উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড।

পাটশিল্প, সূচিশিল্প, ফোক পেইন্ট, টেরাকোটা ও মাটি, রিকশা পেইন্টিং, নকশিকাঁথা, পাটিশিল্প, বাঁশ ও বেত শিল্প, ধাতবশিল্প, শোলাশিল্প, সিনেমা ব্যনার, কাঠের শিল্পের নানা কর্ম তুলে ধরা হয়েছে এতে। ২৬ অক্টোবর শেষ হবে ১০ দিনের এই প্রদর্শনী।

প্রদর্শনীর উদ্বোধন শেষে কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘লোকগানে বঙ্গবন্ধু’ শিরোনামে এক মনোজ্ঞ সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংগীতানুষ্ঠানে লোকগান পরিবেশন করেন আবদুল কুদ্দুস বয়াতি, শিল্পী শাহানাজ বাবু, বাউল গরীব মোক্তার এবং শিল্পী পূর্ণ চন্দ্র রায়। গানে গানে শিল্পীরা বঙ্গবন্ধুকে মূর্ত করে তোলেন।



সাতদিনের সেরা