kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সাবেক মন্ত্রীর এপিএস গ্রেপ্তার রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও ফরিদপুর   

১৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাবেক মন্ত্রীর এপিএস গ্রেপ্তার রিমান্ডে

ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সাবেক এপিএস ও ফরিদপুর জেলা যুবলীগের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক এ এইচ এম ফোয়াদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে ফরিদপুরে নেওয়া হয়। তিনি ফরিদপুরের আলোচিত সহোদর বরকত-রুবেলের সঙ্গে দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেকে পলাতক ছিলেন।

পাঁচ বছর আগের ফরিদপুর বাসস্ট্যান্ডে ছোটন হত্যা মামলায় গতকাল বুধবার তাঁকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। ফরিদপুরের ১ নম্বর আমলি আদালত তাঁর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সাবেক মন্ত্রীর এপিএস ও যুবলীগের আহ্বায়কের পদে থেকে প্রভাব খাটিয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ আছে ফোয়াদের বিরুদ্ধে। হত্যা, হামলা, ভাঙচুর, অর্থপাচারসহ তাঁর বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে। তিনটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তিনি পালিয়ে ছিলেন।

গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) জামাল পাশা বলেন, ফোয়াদ আলোচিত দুই হাজার কোটি টাকা মানি লন্ডারিং মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত পলাতক আসামি। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, এরই মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। তিনটি মামলায় তাঁর নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। ২০১৫ সালের ১৫ জুন ফরিদপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছোটন নামের এক বাস শ্রমিককে হত্যা করা হয়। এ মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।   পুলিশ জানায়, ফোয়াদের বিরুদ্ধে হাতুড়ি বাহিনী, হেলমেট বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনী গঠন করে চাঁদাবাজি, বিভিন্ন এলাকার হাট-বাজারের ইজারা নিয়ন্ত্রণ, জমি দখল, টেন্ডার বাণিজ্য করে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং হামলা ও হত্যার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ২১ মার্চ ফোয়াদ ফরিদপুর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হন। গেল বছরের ২৩ আগস্ট জেলা যুবলীগের ওই আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। ছাত্রাবস্থায় তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের এপিএস ছিলেন। গত বছরের ১৬ মে রাতে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে হামলার ঘটনায় ১৮ মে কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়। ওই মামলায় ৬ জুন রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে শহর আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত এবং তাঁর ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গাঢাকা দেন ফোয়াদ।  

 



সাতদিনের সেরা