kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

অবৈধ সম্পদ অর্জন

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরের আট বছর জেল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরের আট বছর জেল

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের মামলায় বিএনপি সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবরকে আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭-এর বিচারক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০০৮ সালের ১৩ জানুয়ারি লুত্ফুজ্জামান বাবরের বিরুদ্ধে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করে। তিনি পৃথক দুটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

গতকাল সকাল পৌনে ১১টায় আসামি বাবরকে আদালতে হাজির করা হয়। সকাল ১০টা ৫১ মিনিটে তাঁর উপস্থিতিতে আদালত রায় পড়া শুরু করেন। পড়া শেষে ১১টা ১৯ মিনিটে রায় ঘোষণা করেন বিচারক। রায়ের আদেশে বলা হয়, আসামি বাবরের বিরুদ্ধে দুদক ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় এবং ২৭(১) ধারায় অভিযোগ  সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ জন্য তাঁকে দুদক ২০০৪ এর ২৬(২) ধারায় তিন বছর এবং একই আইনের ২৭(১) ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হলো। আসামির উভয় সাজা একত্রে চলবে। আসামি এই মামলায় হাজতবাস করলে তা সাজার মেয়াদ থেকে বাদ যাবে। আসামির জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ২৬ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৮ টাকাসহ আসামির প্রাইম ব্যাংকের গুলশান শাখায় জমাকৃত মালিকানাবিহীন ১০ লাখ ইউএস ডলার রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হলো।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, ‘আসামি লুত্ফুজ্জামান বাবর প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়েও সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়ের উৎসর সঙ্গে অসংগতিপূর্ণভাবে সম্পদ অর্জন করায় তাঁকে দুদক আইন ২০০৪-এর যথাক্রমে ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় শাস্তি প্রদান যুক্তিযুক্ত মনে করি। তবে আসামির অস্ত্র মামলায় ১৭ বছর কারাদণ্ড এবং অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তির বিষয়টি বিবেচনাক্রমে আসামির সম্পদের তথ্য গোপনের জন্য দুদক আইনের ২৬(২) ধারায় তিন বছর এবং ২৭(১) ধারায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপন মামলাটির বাদী দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১-এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ১৬ জুলাই দুদকের উপসহকারী পরিচালক রূপক কুমার সাহা আদালতে অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগপত্রে বাবরের বিরুদ্ধে সাত কোটি পাঁচ লাখ ৯১ হাজার ৮৯৬ টাকার অবৈধ সম্পদ রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি দুদকে ছয় কোটি ৭৭ লাখ ৩১ হাজার ৩১২ টাকার সম্পদের হিসাব জমা দেন। তাঁর অবৈধ সম্পদের মধ্যে প্রাইম ব্যাংক এবং এইচএসবিসি ব্যাংক দুটি এফডিআরে ছয় কোটি ৭৯ লাখ ৪৯ হাজার ২১৮ টাকা এবং বাড়ি নির্মাণ বাবদ ২৬ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৮ টাকা গোপনের কথা উল্লেখ করা হয়। একই বছরের ১২ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। বিচার চলাকালে আদালত অভিযোগপত্রে উল্লিখিত ৯ জন সাক্ষীর মধ্যে সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে বাবর নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। ৪ অক্টোবর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন আদালত।

সাবেক বিএনপি নেতা লুত্ফুজ্জামান বাবর ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তিনি ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায়ও ফাঁসির আসামি। ২০০৭ সাল থেকে কারাগারে থাকা বাবর ১৯৯১ সালে নেত্রকোনা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।



সাতদিনের সেরা