kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন

গড়ে পাঁচজনেরও বেশি নৌকা চান

তৈমুর ফারুক তুষার   

৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গড়ে পাঁচজনেরও বেশি নৌকা চান

আগামী মাসে হতে যাওয়ায় দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলের মনোনয়ন পেতে মরিয়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের স্থানীয় নেতারা। প্রথম ধাপের তুলনায় মনোনয়ন চাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এবার গড়ে প্রতি ইউপিতে মনোনয়নের জন্য দলের কাছে আবেদন করেছেন পাঁচজনেরও বেশি। প্রথম ধাপের এ হার ৫-এর মধ্যেই ছিল।

প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি মাঠে না থাকায় আওয়ামী লীগের নির্বাচন প্রতীক নৌকা পেলেই জনপ্রতিনিধি হওয়া যাবে, এমন ভাবনা থেকে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সংখ্যা বাড়ছে। দলের কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা এমনই মনে করছেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রতিনিধি হয়ে ‘আখের গোছানোর’ পথ সুগম করার উদ্দেশ্যেই মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সংখ্যা বাড়ছে।

দ্বিতীয় ধাপে ৮৫৩ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন আবেদন ফরম সংগ্রহ ও জমাদানের শেষ দিন ছিল গতকাল বুধবার। গত শনিবার ফরম বিতরণ শুরু হয়।

গত রাতে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া কালের কণ্ঠকে জানান, গত পাঁচ দিনে মনোনয়ন আবেদন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন চার হাজার ৪৫৮ জন। এই হিসাবে প্রতিটি ইউনিয়নে গড়ে ৫.২৩ জন দলের মনোনয়ন চেয়েছেন। এ বছরের জুনে প্রথম ধাপের ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন এক হাজার ৮৫৩ জন। গড়ে প্রতি ইউনিয়নে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন পাঁচজনের একটু কম।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা মনে করেন, দেশের পুরনো দল হিসেবে তৃণমূল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের বিশাল কর্মী-সমর্থক বাহিনী রয়েছে। এ ছাড়া টানা তিন মেয়াদ দল ক্ষমতায় থাকায় দেশের আপামর জনগণের মতো নেতাকর্মীদেরও ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে। আর্থিক সামর্থ্য বাড়ায় তাঁদের নির্বাচনের প্রতি আগ্রহও বেড়েছে। এ ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে নৌকা পেলেই জনপ্রতিনিধি হওয়া যায়। ফলে নৌকা প্রতীক পাওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে।

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিরোধী দল নির্বাচনে এলে হয়তো এমন চিত্র হতো না। সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুন্দর নির্বাচন হলে জনগণ ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ বেশি পেত, নির্বাচনে জনমতের প্রতিফলন ঘটার সুযোগ বাড়ত। তখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রার্থী হওয়ার হারও কমে যেত।’

রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বড় দল হিসেবে প্রার্থী বেশি থাকাটা স্বাভাবিক। প্রতিটি ইউনিয়নেই আমাদের অনেক যোগ্য নেতা রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই জনপ্রতিনিধি হতে চান।’

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া মানেই জয় অনেকটা নিশ্চিত। সে জন্য এ দলের মনোনয়ন পেতে ভিড় হবে, সেটাই স্বাভাবিক। তবে আমাদের দেখতে হবে, রিটার্নিং অফিসারের যাচাই-বাছাইয়ে প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর আগের নির্বাচনের তুলনায় এবার প্রার্থীর সংখ্যা কমেছে না বেড়েছে। তাতে ধারণা করা যাবে, এ নির্বাচনে অন্য দলের বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের আগ্রহ কেমন।’

নাগরিক সংগঠন ‘সুজন’ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ভিড় করবেন, এটাই স্বাভাবিক। কারণ পদটি আকর্ষণীয়। এই পদ পেলে অনেক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়, অন্যায় করে পার পাওয়া যায়। এটি ব্যাবসায়িক কার্যক্রমের একটি অংশে পরিণত হয়েছে। অন্য কোনো নীতি-আদর্শ এখানে নেই। এটি ফায়দাভিত্তিক রাজনীতিরই প্রতিফলন। এ নিয়ে দলের মধ্যেও মারামারি-হানাহানি হচ্ছে। দলীয় মনোনয়ন দেওয়াতে স্থানীয় সরকারের এ প্রতিষ্ঠানটিকে চরমভাবে কুলষিত করা হচ্ছে।’

আয় প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা

দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন আবেদন ফরম বিক্রি করে আওয়ামী লীগের আয় হয়েছে দুই কোটি ২২ লাখ ৯০ হাজার টাকা। প্রতিটি ফরমের দাম রাখা হয় পাঁচ হাজার টাকা। গতকাল পর্যন্ত মোট ফরম বিক্রি করা হয় চার হাজার ৪৫৮টি। প্রথম দিন শনিবার ২১১টি, দ্বিতীয় দিন ৪৩০টি, তৃতীয় দিন এক হাজার ৪৩২টি, চতুর্থ দিন এক হাজার ৮৯২টি এবং শেষ দিন গতকাল ৪৯৩টি ফরম বিক্রি করা হয়।

 



সাতদিনের সেরা