kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাপা মহাসচিব জিয়া উদ্দীন আহমেদ বাবলু চলে গেলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাপা মহাসচিব জিয়া উদ্দীন আহমেদ বাবলু চলে গেলেন

সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব জিয়া উদ্দীন আহমেদ বাবলু রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গতকাল শনিবার সকাল ৯টা ১২ মিনিটে চিকিৎসকরা জিয়া উদ্দীন আহমেদকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।

জাতীয় পার্টির মহাসচিবের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন।

জিয়া উদ্দীন আহমেদের পরিবার জানায়, সেপ্টেম্বর মাসের গোড়ার দিকে তিনি করোনায় আক্রান্ত হন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৬ সেপ্টেম্বর তাঁকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তাঁকে শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হয়।

জিয়া উদ্দীন আহমেদ স্ত্রী, এক ছেলেসহ অনেক গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

জাতীয় পার্টির মহাসচিবের মরদেহ দুপুর ১টার দিকে দলের কাকরাইল কার্যালয়ে নেওয়া হয়। দলীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা সেখানে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। বিকেল ৪টা পর্যন্ত মরদেহ জাপার কাকরাইল কার্যালয়ে রাখা হয়। এরপর বাদ এশা গুলশানের আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে তাঁর লাশ মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আজ রবিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় পার্টির বনানী কার্যালয়ে জিয়া উদ্দীন আহমেদ বাবলুর স্মরণে শোকসভার আয়োজন করেছে জাতীয় পার্টি।

দলটির চেয়ারম্যানের প্রেসসচিব খন্দকার দেলোয়ার জালালীর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মহাসচিবের মৃত্যুতে জাতীয় পার্টি তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে। ৪ অক্টোবর পর্যন্ত জাপার বনানী ও কাকরাইল কার্যালয়ে স্বাক্ষরের জন্য শোক বই রাখা হবে।

জিয়া উদ্দীন আহমেদ ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। স্কুলজীবনেই তাঁর রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ১৯৮২-৮৩ মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ছিলেন। পড়াশোনা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পর ডাকসুসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদ নিষিদ্ধ করেন। এর জের ধরে ডাকসুর ওই সময়ের সহসভাপতি (ভিপি) আখতারউজ্জামান ও জিএস জিয়া উদ্দীন আহমেদ বাবলুসহ ছাত্রনেতারা এরশাদবিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। ১৯৮৩ সালে এসে মত পরিবর্তন করে এরশাদের দলে যোগদান করেন জিয়া উদ্দীন আহমেদ বাবলু। প্রথমে তাঁকে এরশাদের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য, উপমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯০ সালে জাতীয় পার্টি ক্ষমতাচ্যুত হলেও জিয়া উদ্দীন আহমেদ দল পরিবর্তন করেননি। পরবর্তী সময়ে দুই দফা দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। প্রথম দফায় ২০১৪ সাল থেকে দুই বছর এবং দ্বিতীয় মেয়াদে ২০২০ সালের ২৬ জুলাই থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।

প্রথম স্ত্রী ফরিদা আকতার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের ভাগ্নি মেহেজেবুন্নেসাকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে কোনো সন্তান নেই তাঁদের।



সাতদিনের সেরা