kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

সবিশেষ

স্তন ক্যান্সার সারাতে পারে চা!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অস্ত্রোপচার করাতে হবে না? অস্ত্রোপচারের পরও দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যেতে হবে না কেমোথেরাপি? সহ্য করতে হবে না কেমোথেরাপির ওষুধবিষুধের জোরালো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ধাক্কা? এবার কি তবে ওষুধেই পুরোপুরি সারানো যাবে স্তনের সবচেয়ে ভয়ংকর রোগ ‘ট্রিপল নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সার’?

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে ভেটারেন অ্যাফেয়ার্স মেডিক্যাল সেন্টারের দুই অধ্যাপক সুশান্ত ও স্নিগ্ধা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁদের গবেষক ছাত্র অম্লান দাস এমন একটি রাসায়নিক মিশ্রণ তৈরি করেছেন, যা দিয়ে ওষুধ বানানো হলে স্তনের সবচেয়ে ভয়ংকর ক্যান্সারও সেরে যেতে পারে। সেই মিশ্রণের প্রধান যৌগটি থাকে গ্রিন টি, ব্ল্যাক টি—সব ধরনের চায়েই। গ্রিন টিতে থাকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে। তাঁদের গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা গবেষণা পত্রিকা ফার্মাকোলজি : রিসার্চ অ্যান্ড পারস্পেক্টিভসে।

গবেষকরা যে রাসায়নিক মিশ্রণটি তৈরি করেছেন, তা ইঁদুরের ওপর পরীক্ষায় পুরোপুরি সফল হয়েছে। গবেষকরা প্রথম পর্যায়ের (ফেজ-ওয়ান) ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরুর চেষ্টা চালাচ্ছেন। নিশ্চিত হওয়ার জন্য অবশ্য মানবশরীরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে।

অধ্যাপক সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রায় ১০ বছর ধরে গবেষণা চালিয়ে আগেই দেখা গিয়েছিল, মানবদেহে ‘সিসিএন-৫’ নামের একটি বিশেষ জিন রয়েছে, যা টিউমার সাপ্রেসর হিসেবে কাজ করে; ক্যান্সার কোষগুলোর বৃদ্ধি রুখে দেয়। এও দেখা গিয়েছিল, বাইরে থেকে দেহে সিসিএন-৫ জিনটি ঢোকানো হলে ট্রিপল নেগেটিভ স্তন ক্যান্সারের কোষগুলোর আর বৃদ্ধি ঘটছে না। সেই কোষগুলোর মধ্যে ক্যান্সারের ধর্ম (অনকোজেনিক প্রপার্টিজ) কমে যাচ্ছে। কমছে ক্যান্সার স্টেম সেলের পরিমাণও। এ-ও দেখা যায়, ট্রিপল নেগেটিভ স্তন ক্যান্সারের রোগীর দেহে এই সিসিএন-৫ জিন আদৌ সক্রিয় থাকে না।

এপিডেমিওলজির বিভিন্ন গবেষণায় এর আগে দেখা গেছে, পৃথিবীর যেসব দেশের মানুষ বা যেসব জনগোষ্ঠী কয়েক শ বছর ধরে মূলত গ্রিন টি নিয়মিত খেতে অভ্যস্ত, তারা স্তন ক্যান্সারে ততটা আক্রান্ত হয় না। এর জন্য গ্রিন টিতে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকা একটি যৌগের বড় ভূমিকা থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিল বিভিন্ন গবেষণা। যৌগটির নাম ‘ইজিসিজি’ বা ‘এপিগ্যালোক্যাটেচিন’। এটি থাকে সব রকমের চায়েই। তবে গ্রিন টিতে যে পরিমাণে থাকে, অন্য রকমের চায়ে থাকে তার চেয়ে অনেক কম। আগের গবেষণাগুলোতে এ-ও দেখা যায়, স্তন ক্যান্সার রুখতে এই ইজিসিজি যৌগটির তেমন চটজলদি কোনো ভূমিকা নেই। দীর্ঘদিন ধরে যেসব দেশের মানুষ বা জনগোষ্ঠী গ্রিন টি খেতে অভ্যস্ত, শুধু তাদের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম। এর কারণ একটাই—গ্রিন টিতে থাকা এই যৌগকে বেশিক্ষণ মানবশরীর ধরে রাখতে পারে না।

মূল গবেষক অম্লান দাস জানাচ্ছেন, তাঁদের মূলত দুটি লক্ষ্য ছিল—এক. গ্রিন টিতে খুব বেশি পরিমাণে থাকা এই ইজিসিজি যৌগটিকে কোনোভাবে মানবশরীরে অনেক বেশি সময় ধরে রাখা সম্ভব কি না তা দেখা।  সূত্র : আনন্দবাজার।



সাতদিনের সেরা