kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই নিরীহ পারুলকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই নিরীহ পারুলকে হত্যা

পারুল বেগম

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার একটি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী মেম্বার প্রার্থীকে ফাঁসাতে এক তরুণীকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী মেহেরপুরের গাংনীর পারুল বেগম নামের এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়। পরে পারুলকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ঢাকার সাভারে বাসা ভাড়া করা হয়। প্রথম দিনই ওই তরুণীকে হত্যা করে লাশের পাশে প্রতিপক্ষ সেই মেম্বার প্রার্থীর ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি ফেলে পালিয়ে যায় খুনি। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ওই জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপির সূত্র ধরে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার এবং হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হালিম হাওলাদার, জামাল হাওলাদার ও মশিউর রহমান ওরফে মিলন। জামাল ও মিলন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে পিবিআই সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআইয়ের প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার।

এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার সাভারের বক্তারপুর নামাবাজার এলাকার একটি বাসা থেকে পারুলের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত পারুলের বাড়ি মেহেরপুর জেলার গাংনী সিন্দুর কোটা মটমোড়া এলাকায়।

ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মোংলা থানার ৬ নম্বর চিলা ইউনিয়নের নির্বাচন হয় গত ২০ সেপ্টেম্বর। ওই নির্বাচনে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী ছিলেন হালিম হাওলাদার, বেলাল সরদার ও এশারাত। এর মধ্যে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত মেম্বার ছিলেন হালিম হাওলাদার। বেলাল নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বলে হালিম ভাবছিলেন তিনি পরাজিত হবেন। তাই বেলালকে নির্বাচন থেকে সরাতে ষড়যন্ত্র করেন হালিম। এরপর তিনি পূর্বপরিচিত পিরোজপুরের জামাল হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বেলালকে ফাঁসাতে একটি খুনের পরিকল্পনা করেন তাঁরা। ৩০ হাজার টাকায় খুনের কন্ট্রাক্ট পেয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী পারুল বেগম নামের এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের অভিনয় শুরু করেন জামাল। পরে তাঁকে বিয়ের প্রলোভনে গত ৭ সেপ্টেম্বর সাভারের বক্তারপুরের একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে খুন করেন। ঘটনাস্থলে বেলাল সরদারের এনআইডির ফটোকপি ফেলে পালিয়ে যান তিনি। ওই ঘটনায় সাভার থানায় অজ্ঞাতপরিচয়  ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হয়।

পিবিআই প্রধান বলেন, ‘তদন্তের এক পর্যায়ে আমরা জানতে পারি, ঢাকায় মশিউরের সঙ্গে হালিমের ঘন ঘন যোগাযোগ হয়। এরপর ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে পিবিআই। তাঁর নাম জামাল হাওলাদার। তাঁর ছবি সাভারের ওই বাসার কেয়ারটেকারকে দেখালে সবাই জামালকে শনাক্ত করেন। তাঁরা বলেন, পারুলকে নিয়ে জামালই বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। এরপর জামালকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। মূলত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বেলালকে ফাঁসাতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। নির্বাচনের কারণে পিবিআই হালিমকে তািক্ষণক গ্রেপ্তার করেনি। ২০ সেপ্টেম্বর নির্বাচন শেষ হওয়ার পর গত সোমবার হালিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। নির্বাচনে বেলাল বা হালিম কেউ জেতেননি। জয় পেয়েছেন তৃতীয় প্রার্থী এশারাত।

বনজ কুমার বলেন, ওই তরুণীকে হত্যার পর জামাল ও হালিম বেশ কয়েকবার ফোনে কথা বলেছেন। প্রতিপক্ষ গ্রেপ্তার না হলে ফাঁসাতে আরো খুন করার পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা।



সাতদিনের সেরা