kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মহৎ উদ্যোগ

বাবা পেলেন কাজ ছেলে ফিরল স্কুলে

মাহফুজ শাকিল, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার)   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাবা পেলেন কাজ ছেলে ফিরল স্কুলে

হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া এই ছাত্রীর মতো আরো অনেককে কাজ থেকে স্কুলের গণ্ডিতে ফিরিয়ে এনেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনায় অন্য অনেকের মতো সিলেটের কুলাউড়ার দিনমজুর ময়না মিয়ার রোজগারে টান পড়ে। ছেলে নবম শ্রেণিতে পড়ে। বন্ধ থাকায় স্কুলে যেতে হচ্ছে না তার। এ অবস্থায় ছেলেকে একটি হোটেলের কাজে লাগিয়ে দেন। ছেলেটির উপার্জনে চলছিল পরিবার।

সম্প্রতি স্কুল খুলে দিলেও ছেলেটির আর স্কুলে ফেরা হচ্ছিল না। তবে কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসন ময়না মিয়াকে কিছু ত্রাণ সহায়তা দেওয়াসহ কাজের ব্যবস্থা করেছে। এতে ক্লাসে ফিরেছে ছেলেটি। এতে সে খুব খুশি। সে গতকাল কালের কণ্ঠকে বলে, ‘এখন আমি খুব খুশি। স্কুলে যাচ্ছি। বন্ধুদের সঙ্গে আবার দেখা হচ্ছে।’

ময়না মিয়া বলেন, ‘করোনার সময় আমিও কোনো কাজ পাচ্ছিলাম না। অনাহারে দিন কাটছিল। তাই ছেলেকে হোটেলে দিয়েছিলাম। কিন্তু ইউএনও স্যার জানার পর আমাকে ত্রাণ দিলেন এবং বললেন ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে। আমি তাঁদের মাধ্যমে এখন ছোটখাটো কাজ পাচ্ছি। এ কারণে বাচ্চাটা স্কুলে যাচ্ছে।’

ময়না মিয়ার ছেলেটিকে কাজ থেকে স্কুলের গণ্ডিতে ফেরাতে বড় ভূমিকা রেখেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘শিশুটিকে (ময়না মিয়ার ছেলে) হোটেলে দেখেই মনে হয়েছিল সে পড়াশোনা করত। করোনার কারণে তাকে কাজে পাঠানো হয়েছে।’ দেড় বছর ক্লাস না হওয়ায় ঝরে পড়ার হার বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে স্কুলে যাচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঝরে পড়ার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করছি। সে অনুযায়ী শিক্ষকদের ঝরে পড়া শিশুদের বাড়িতে বাড়িতে পাঠাচ্ছি। নিজেও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলছি।’

পৌর শহরের বিএইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর অভিভাবক জানালেন, তাঁর মেয়েকে ঢাকায় একটি বাসায় কাজে পাঠিয়েছিলেন কিছু আয়ের আশায়। কিন্তু পাশের বাড়ির একজন বললেন, মেয়েটি যদি স্কুলে না যায়, তাহলে ইউএনও বাড়িতে আসবেন পুলিশ নিয়ে। মেয়েকে ঢাকা থেকে নিয়ে এসেছেন। সে এখন স্কুলে যায়।

সিঙ্গুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃপাসিন্ধু চক্রবর্তী বলেন, ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী এখনো ক্লাসে ফেরেনি। কোনো শিক্ষার্থী যেন ঝরে না পড়ে সে জন্য ইউএনও স্যার নিজে বিদ্যালয় পরিদর্শন করছেন। অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলছেন। তাঁরাও সব শিক্ষার্থীকে ক্লাসে ফেরাতে চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।

 



সাতদিনের সেরা