kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

অনলাইনে মত প্রকাশের সূচকে পিছিয়েছে বাংলাদেশ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অনলাইনে মত প্রকাশের সূচকে পিছিয়েছে বাংলাদেশ

অনলাইনে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে আগের তুলনায় স্বাধীনতা অনেক কমেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন অলাভজনক গবেষণা সংস্থা ফ্রিডম হাউস। সংস্থাটির দৃষ্টিতে মূলত দুটি কারণে স্বাধীনতা খর্ব হয়েছে। এর একটি হচ্ছে—ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় বলবৎ রাখা হয়েছে ধরপাকড়। অন্য কারণটি হলো অভিনব উপায়ে সরকারি নজরদারির খবর বেরোচ্ছে।

ফ্রিডম হাউসের ‘ফ্রিডম অন দ্য নেট ২০২১’ প্রতিবেদন তৈরিতে ২০২০ সালের ১ জুন থেকে চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত ঘটনাবলি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ২০২০ সালের প্রথম ৯ মাসে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আট শতাধিক মামলা হয়েছে। সরকারের সাইবার ট্রাইব্যুনালের তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালের অক্টোবরে আইনটি প্রণয়নের পর থেকে মামলা দায়ের হয়েছে প্রায় দুই হাজার।

প্রতিবেদনটিতে বিশ্বের ৭০টি দেশের ঘটনা পর্যালোচনা করা হয়েছে। ইন্টারনেটে বাকস্বাধীনতার সূচকে ১০০-তে বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে ৪০ পয়েন্ট। গত বছর এই পয়েন্ট ছিল ৪২। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ২০১৯ সালে ৪৪, ২০১৮ সালে ৪৯, ২০১৭ সালে ৪৬ ও ২০১৬ সালে বাংলাদেশ পেয়েছিল ৪৪ পয়েন্ট। প্রাপ্ত পয়েন্টের ভিত্তিতে দেশগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। পয়েন্ট ১০০ থেকে ৭০-এর মধ্যে থাকলে ‘মুক্ত’, ৬৯ থেকে ৪০-এর মধ্যে থাকলে ‘আংশিক মুক্ত’ এবং ৩৯-এর নিচে হলে ‘মুক্ত নয়’। আংশিক মুক্ত শ্রেণির তলানিতে বাংলাদেশ। অবশ্য ২০১৩ সাল থেকে বরাবরই আংশিক মুক্ত দেশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে বাংলাদেশ।

বিশ্বব্যাপী টানা ১১ বছর ধরে ইন্টারনেটে স্বাধীনতা কমছে বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে। সূচকে ৯৬ পয়েন্ট পেয়ে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে আইসল্যান্ড। আর সবচেয়ে করুণদশা চীনের, দেশটি মাত্র ১০ পয়েন্ট পেয়েছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে কেবল পাকিস্তান। ২৫ পয়েন্ট পেয়ে ‘মুক্ত নয়’ তকমা জুটেছে দেশটির। ভারত ও শ্রীলঙ্কার পয়েন্ট যথাক্রমে ৪৯ ও ৫১। সার্কভুক্ত অন্য দেশগুলো প্রতিবেদনে নেই।

ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের ৯টি সূচকের মধ্যে সাতটি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে। এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বাধা, ওয়েবসাইট বন্ধ, ইন্টারনেট বন্ধ, সরকারপন্থী ভাষ্যকার, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী আটক, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও কারিগরি হামলা।

ইন্টারনেটে স্বাধীনতার স্তর নির্ণয়ে তিন ধরনের মোট ২১টি প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে এতে। এই তিন ধরন হলো সেবা ব্যবহারে বাধা, কনটেন্টের সীমাবদ্ধতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন। সেখানে উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর মধ্যে আছে—রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট সেবা বন্ধের বিষয়টি। প্রায় এক বছর পর ২০২০ সালের আগস্টে তা চালু করা হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় গত মার্চে চলমান আন্দোলনে তিন দিনের জন্য ফেসবুক ও ফেসবুক মেসেঞ্জার বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তা ছাড়া আলজাজিরা ও হারেেজর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বলা হয়, ইসরায়েলি নজরদারি সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নজরদারি, হ্যাকিং ও মুঠোফোন থেকে তথ্য সংগ্রহের প্রযুক্তি কিনেছে বাংলাদেশ। ফ্রিডম হাউস উল্লেখ করেছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটক লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনটির বিরুদ্ধে গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিবাদ শুরু হয়। করোনা মোকাবেলায় সরকারের সমালোচনা করে দেওয়া ফেসবুক পোস্টের জেরে গত বছরের মে মাসে আটক হন মুশতাক। সূত্র : এএফপি, গার্ডিয়ান।

 



সাতদিনের সেরা