kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আজ শূন্য কার্বন নিঃসরণ দিবস

জীবাশ্ম জ্বালানি মুক্ত পৃথিবী গড়ার আহ্বান

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জীবাশ্ম জ্বালানি মুক্ত পৃথিবী গড়ার আহ্বান

আজ জিরো এমিশন ডে বা শূন্য কার্বন নিঃসরণ দিবস। আজকের এই দিনটিতে কার্বন নিঃসরণের হার একেবারে শূন্যে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে এই আহ্বান ও দিবসটি নিয়ে নানা আয়োজন শুরু হয় ২০০৮ সাল থেকে কানাডার নোভা স্কটিয়া শহর থেকে। সিএলসি (ক্লাইমেট লিডারশিপ কোয়ালিশন) নামের একটি সংগঠন দিবসটি পালনের উদ্যোক্তা।

কার্বন ও কার্বন যৌগ গ্যাসগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী চিহ্নিত হওয়ার পর থেকে দুনিয়াব্যাপী কার্বন নিঃসরণ কমানোর দাবিতে জোরদার আন্দোলন শুরু করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, কার্বন নিঃসরণ অব্যাহত থাকলে ভূমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকবে, যার ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘনঘটা যেমন বাড়বে, তেমনি একটি সময়ে পৃথিবী অবাসযোগ্য স্থানে পরিণত হবে। জলবায়ু সম্মেলনের প্যারিস বৈঠকে (কপ-১৬) তাপমাত্রা ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার বিষয়ে জাতিগুলো ঐকমত্য পোষণ করে। তবে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বৈশ্বিক প্রতিবেদনে (আইপিসিসি রিপোর্ট) এই মাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। এই বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে সিএলসি একটি দিন কার্বন নিঃসরণ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে।

সিএলসি হচ্ছে ইউরোপের একটি বৃহত্তম অলাভজনক ব্যাবসায়িক নেটওয়ার্ক। এর সদস্য সংখ্যা ৮৭; যার মধ্যে ৫৮টি কম্পানি, সাতটি ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান, ছয়টি শহর, পাঁচটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, একটি ফাউন্ডেশন এবং একটি ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন রয়েছে। এ ছাড়া এতে ৪৭ জন সদস্য রয়েছেন। ফিনিশ কম্পানি অ্যাক্টে এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত। এরা মূলত জীবাশ্ম জ্বালানিবিরোধী প্রচারণা করে থাকে। যেহেতু কার্বন নিঃসরণের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানিকে প্রধানত দায়ী করা হয়, তাই তারা জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত পৃথিবী গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।

আগামী নভেম্বর মাসে যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো শহরে জলবায়ু সম্মেলন (কপ-২১) অনুষ্ঠিত হবে। ওই সম্মেলনে প্যারিস চুক্তির আলোকে দেশগুলোর দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে। করোনা মহামারির কারণে সীমিতসংখ্যক পর্যবেক্ষকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠেয় ওই সম্মেলনে তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য আলোচনা হবে।

শূন্য কার্বন নিঃসরণ দিবসটির তাৎপর্য সম্পর্কে বেসরকারি সংগঠন ক্লিনের প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী কালের কণ্ঠকে বলেন, মূলত জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাসগুলো (কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, সিএফসি, সালফার ডাই-অক্সাইড প্রভৃতি) আমাদের জন্যে ক্ষতিকর, যা বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে পৃথিবীকে আবাসযোগ্য করে তুলছে। আমাদের উচিত, কার্বন নিঃসরণের জন্যে দায়ী জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত পৃথিবী গড়ে তোলা। এ কারণে শূন্য কার্বন নিঃসরণ দিবসের তাৎপর্য অনেক।



সাতদিনের সেরা