kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলব

‘সরকার ও গণমাধ্যমকে মুখোমুখি করার অপচেষ্টা’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘সরকার ও গণমাধ্যমকে মুখোমুখি করার অপচেষ্টা’

সাংবাদিকদের নির্বাচিত শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) যে চিঠি দিয়েছে, তা সরকার ও গণমাধ্যমকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সাংবাদিক নেতারা। তাঁরা বলেছেন, সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলব করার মধ্য দিয়ে তাঁদের প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে সংগঠনগুলোকে এবং পুুরো সাংবাদিকসমাজকে। সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে এই ঘটনার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও প্রতিকারও দাবি করেন তাঁরা।

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয় প্রেস ক্লাব, বিএফইউজে, ডিইউজে ও ডিআরইউ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এই দাবি জানানো হয়। এ ঘটনায় আজ রবিবার দুপুর ১২টায়  বিক্ষোভ সমাবেশ করার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে সংবাদ সম্মেলন থেকে।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সুনির্দিষ্ট কারণে যেকোনো ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব তলব করতে পারে। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে—ব্যাংকে অস্বাভাবিক লেনদেন, জঙ্গি অর্থায়ন ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ। কিন্তু এমন কোনো অভিযোগ আমাদের বিরুদ্ধে আসেনি। সরকারের অনেক সংস্থার সঙ্গেও আমরা আলাপ করেছি। তাঁরা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। ঘটনাটি উদ্বেগজনক।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান। এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইজে) সভাপতি এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী।

লিখিত বক্তব্যে মসিউর রহমান খান বলেন, দেশের পেশাদার সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ব্যাংক হিসাব এভাবে তলব করা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। কেননা এর আগে কোনো দিন, কোনো সময়ে এ রকম ঘটনা ঘটেনি।

তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তদন্ত হতেই পারে। কিন্তু সাংবাদিকতা পেশায় প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নামে ঢালাওভাবে এ ধরনের পদক্ষেপ উদ্দেশ্যমূলক বলে আমরা মনে করি। নির্বাচিত শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সব সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকতা পেশাকে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) কেন, কী কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। বিষয়টি সারা দেশের সাংবাদিকদের মনে নানা ধরনের আশঙ্কারও সৃষ্টি করেছে।’

তিনি বলেন, ‘অনেকে বিএফআইইউর এই পদক্ষেপকে সাংবাদিকদের মনে ভয়ভীতি সৃষ্টির কৌশল বলেও মনে করছেন। আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ করেছেন, এ বিষয়টি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার হচ্ছে। এতে দেশের ভাবমূর্তিও নষ্ট হচ্ছে। কারণ গোটা বিশ্বে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দেশের সরকার ও সচেতন সমাজ মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি কিংবা কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগের কৌশল মেনে নেয় না, নিতে পারে না।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে আজ দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।



সাতদিনের সেরা