kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

নৌচলাচল থামিয়ে দেবে যে সেতু

অমিতাভ অপু, দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা)

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নৌচলাচল থামিয়ে দেবে যে সেতু

পদ্মা নদী থেকে এই খালটি দোহার উপজেলার প্রধান ব্যবসাকেন্দ্র জয়পাড়া হয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলার সাদাপুর হয়ে দীর্ঘ ইছামতী নদীতে মিশেছে। খালের বটিয়া-রাধানগর অংশে তৈরি হচ্ছে বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত সেতু। কিন্তু এই সেতুর যে উচ্চতা, তাতে এর নিচ দিয়ে যেকোনো নৌচলাচল বাধাগ্রস্ত হবে। ছবি : কালের কণ্ঠ

সারা দেশে ৮০৫টি সেতু ভেঙে ফেলার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উচ্চতা সঠিক না রেখে ভুল পরিকল্পনায় এসব সেতু নির্মাণ করায় নৌচলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এমন নির্দেশনা। প্রধানমন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এরই মধ্যে কাজও শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকার দোহার উপজেলায় গাইডলাইন না মেনে নির্মাণ করা হচ্ছে একটি সেতু। বর্ষা মৌসুমে এই সেতুর নিচ দিয়ে নৌচলাচল বাধাগ্রস্ত হবে চরমভাবে।

পদ্মা নদী থেকে একটি খাল দোহার উপজেলার প্রধান ব্যাবসাকেন্দ্র জয়পাড়া হয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলার সাদাপুর হয়ে দীর্ঘ ইছামতী নদীতে মিশেছে। এই খালের বটিয়া-রাধানগর অংশে একটি সেতু নির্মাণ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও স্বপ্ন ছিল। সেতু না থাকায় নদী পারাপারে নৌকাই ভরসা এলাকাবাসীর। অবশেষে সেই সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু তা আরেক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নৌচলাচল বাধাগ্রস্ত করে কোনো সেতু করা যাবে না—সেতু নির্মাণ গাইডলাইনের এই প্রধান শর্তটিই এ ক্ষেত্রে মানা হয়নি।

জানা যায়, এলজিইডির অর্থায়নে তিন কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে চলেছে। এরই মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ কাজও শেষ হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এখানে এত কম উচ্চতার সেতু নির্মিত হলে বর্ষা মৌসুমে নৌযান চলাচলে চরম প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি হবে। তাতে করে এই অঞ্চলের বড় বড় ব্যবসায়ীর দুর্ভোগ বাড়বে এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে অনেককে। এদিকে সেতুর উচ্চতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় গেল সপ্তাহে

কাজ বন্ধ করে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আর সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার দাবিতে তাঁরা মানববন্ধনও করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির দুই পাশের গার্ডার বসানোর কাজ শেষ পর্যায়ে। এর মধ্যে বর্ষা মৌসুমে খালের পানিতে সেতুর দুই অংশের গার্ডারের সঙ্গে ছুঁই ছুঁই করছে পানি। মাঝের অংশের গার্ডার বসানোর আগেই দেখা দিয়েছে নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা। সেতুটির পুরো অংশের কাজ শেষ হলে ভরা বর্ষায় সেতুর নিচ দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দোহারের জয়পাড়া হাট ঢাকা জেলা দক্ষিণের ঐতিহ্যবাহী একটি হাট। ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ পদ্মা নদীর এই খাল দিয়ে নৌপথে গবাদি পশুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিভিন্ন নৌপথে এই হাটে পরিবহন করে থাকে। কম উচ্চতার এই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলে এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগ ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

জয়পাড়া বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার মাঝি বলেন, ‘এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে সেতুটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন। তবে সেতুটি উঁচু না হলে নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে। তাতে এই অঞ্চলের নামকরা জয়পাড়া হাট ও বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সবচেয়ে বেশি।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একটি সেতুর নকশা প্রণয়নের ক্ষেত্রে নদীর গত ১০০ বছরের সর্বোচ্চ পানির উচ্চতা ও গত ৫০ বছরের স্বাভাবিক পানির উচ্চতা বিবেচনায় নিতে হয়। তা ছাড়া নৌ রুটভেদে বিভিন্ন সেতুর উচ্চতা কত হবে তা-ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া থাকে। কিন্তু এই সেতুর নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণে সেই গাইডলাইন মানা হয়নি।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জ্যোতি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শেখ সালাউদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, ‘কাগজপত্র ও নকশা অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। সেতুর প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ পর্যায়ে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আইনুল হক বলেন, ‘সেতুটির বিষয়ে দোহার উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি সরেজমিন পরিদর্শন করে খুব শিগগির সেতুর নকশা পাঠাবেন।’ তবে দোহার উপজেলা প্রকৌশলী মো. হানিফ মোর্শেদের দাবি, পরিকল্পিতভাবেই সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

 



সাতদিনের সেরা