kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

২৭ সেপ্টেম্বরের পর খোলা যাবে বিশ্ববিদ্যালয়

এনআইডি না থাকলে ইউজিসির ওয়েবলিংকে নিবন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




২৭ সেপ্টেম্বরের পর খোলা যাবে বিশ্ববিদ্যালয়

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সুরক্ষা অ্যাপে টিকার নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। যেসব শিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই, তাঁদের আগামী বৃহস্পতিবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ওয়েবলিংকে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে ২৭ সেপ্টেম্বরের পর যেকোনো দিন বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে পারবে।

গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এসংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যেসব শিক্ষার্থীর এনআইডি আছে, অথচ টিকার নিবন্ধন এখনো করেননি, তাঁরা ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সুরক্ষা অ্যাপে টিকার নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টার থেকেও টিকা নিতে পারবেন। আর যেসব শিক্ষার্থীর এনআইডি নেই তাঁরা জন্মসনদ ব্যবহার করে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে শিক্ষার্থী হিসেবে ইউজিসির ওয়েবলিংকে প্রবেশ করে নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন। শিক্ষার্থী নিবন্ধন সম্পন্ন করার পর সুরক্ষা অ্যাপে টিকার নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবেন। আর যাঁদের জন্ম সনদও নেই তাঁরা আগে জন্ম সনদ করে নিয়ে তারপর শিক্ষার্থী নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন। শিক্ষার্থী নিবন্ধনের পর সুরক্ষা অ্যাপে টিকার নিবন্ধন করে টিকা নিতে হবে।

সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও এর অধিভুক্ত কলেজের সব ছাত্র-ছাত্রীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হবে। সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

জানা যায়, ইউজিসির এই ওয়েবলিংক সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও শিক্ষার্থী নিবন্ধন লিংক পাওয়া যাবে। ইউজিসি আগামী বৃহস্পতিবার এ লিংকটি প্রকাশ করবে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দ্রুত টিকা দেওয়া সম্পন্ন করতে কারিগরি সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা একটি অ্যাপ বানাব। আশা করছি আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে অ্যাপ তৈরির কাজ শেষ হবে।’

বৈঠকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। তাঁরা অন্তত এক ডোজ টিকা নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পক্ষে মত দেন। তবে কত দ্রুত খুলে দেওয়া যায় সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে বলে সভায় জানানো হয়।

দীর্ঘ দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হয়েছে। এখনো বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। যদিও মধ্য অক্টোবরের পর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে এরই মধ্যে যেহেতু স্কুল-কলেজ খোলা হয়েছে, তাই আরো আগে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা যায় কিনা সে ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে পাঠদান বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় শ্রেণিকক্ষে পরীক্ষা নিচ্ছে।

বৈঠকে যুক্ত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী  মো. মহিবুল হাসান চৌধুরী, ইউজিসির সদস্যরা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা  বিভাগের  সচিব  মো. মাহবুব হোসেন,  স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া,  পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক, কভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা