kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আইনমন্ত্রী জানালেন

খালেদার মুক্তির মেয়াদ ৬ মাস বাড়ানোর মতামত দেওয়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খালেদার মুক্তির মেয়াদ ৬ মাস বাড়ানোর মতামত দেওয়া হয়েছে

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এমপি বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ আরো ছয় মাস বাড়ানোর পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে। এসংক্রান্ত ফাইল এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য এখনো ফাইল পাঠানো হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে ফিরলে তা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে হলে তাঁকে আবার জেলে গিয়ে নতুন করে আবেদন করতে হবে।

বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আইন কমিশনের রজত জয়ন্তী উদযাপন ও আইন দর্পণ স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষে গতকাল রবিবার দুপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এমপি। তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে বিষয়টি আমাদের কাছে এসেছিল। আমরা মতামত দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। তখন আমি বলেছিলাম, প্রধানমন্ত্রী যতক্ষণ অনুমোদন না করছেন ততক্ষণ কিছুই বলতে পারব না। কিন্তু শনিবার একজন সাংবাদিক আমাকে জানিয়েছিলেন যে এটা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অনুমোদন হয়ে এসেছে। এ প্রেক্ষাপটে কী মতামত দিয়েছি, সে বিষয়ে আমি বলেছিলাম। কিন্তু আমি রাতে খোঁজ নিয়ে দেখেছি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রসচিব (সুরক্ষা বিভাগ) সরকারি কাজে বিদেশে আছেন। এ কারণে ওটা এখনো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়নি।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি খালেদা জিয়ার আবেদনের বিষয়ে এর আগে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছি। খালেদা জিয়ার আবেদনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার আবেদন হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এই আবেদনের ভিত্তিতে সরকার নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত রেখে শর্তসাপেক্ষে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়। আমি এখনো বলছি, যে আবেদনের ওপর খালেদা জিয়ার মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেই আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এ অবস্থায় এটা পরিবর্তন করার আইন নেই। যদি এটা করতে হয় তবে আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি, তাঁকে আবার জেলখানায় গিয়ে এটা বাতিল করতে হবে। এরপর তাঁকে নতুন করে আবেদন করতে হবে। এই নতুন আবেদন তাঁরা করবেন কি না, সেটা তাঁদের ব্যাপার। তবে আইন মতে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো ছাড়া এখন আমাদের করার কিছুই নেই।’ তিনি বলেন, ‘এর আগেও দুইবার একই শর্তে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। এবারও আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, আরো ছয় মাস বাড়ানো হোক।’

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি ছিলেন খালেদা জিয়া। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে পরিবারের সদস্যদের আবেদনে তাঁর সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখে তাঁকে সাময়িক সময়ের জন্য মুক্তি দেয় সরকার। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১(১) ধারার ক্ষমতাবলে সরকার শর্তসাপেক্ষে এই মুক্তির আদেশ দেয়। এই আদেশে গত বছর ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে মুক্তি পান খালেদা জিয়া। এরপর খালেদা জিয়া রাজধানীর গুলশান এভিনিউয়ের নিজের বাসভবন ফিরোজায় যান। সেই থেকে তিনি সেখানেই আছেন। এরই মধ্যে তাঁর মুক্তির মেয়াদ আরো বাড়ানো হয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর মুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এ অবস্থায় খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তথা সরকারের কাছে নতুন করে আবেদন করা হয়। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মতামতের জন্য  আইন মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠায়। এ অবস্থায় আইন মন্ত্রণালয় মতামত দিয়ে এসংক্রান্ত ফাইল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।



সাতদিনের সেরা