kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

আজ একনেকে উঠছে আট প্রকল্প

ফ্ল্যাট পাবেন পৌর এলাকার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা

তামজিদ হাসান তুরাগ   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফ্ল্যাট পাবেন পৌর এলাকার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা

২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বসবাসের জন্য দয়াগঞ্জ ও ধলপুরে নির্মিত ১০ তলাবিশিষ্ট নতুন চারটি ভবন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময় তিনি দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্যও উন্নত মানের আবাসনের ব্যবস্থা করার তাগিদ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পরিবারকে মানসম্মত আবাসিক সুবিধা দিতে সারা দেশে তিন হাজার ৪০টি ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ লক্ষ্যে ‘পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ১৪২ কোটি ২৭ লাখ টাকা। দেশের আটটি বিভাগের ৫৯টি জেলার ৬৬টি উপজেলার ৬৬টি পৌরসভায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

তবে ঠিক কিসের ভিত্তিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ফ্ল্যাট বরাদ্দ করা হবে, তা জানতে চাইলে টেলিফোনে স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিকল্পনা অধিশাখার যুগ্ম সচিব আবু মো. মহিউদ্দিন কাদেরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারা দেশে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রকল্প নিয়েছি। এর আগে আমরা যেমন দয়াগঞ্জে নির্মাণ করেছি, ঠিক সেভাবেই এ প্রকল্পের কাজগুলো করা হবে। এ ফ্ল্যাটগুলো বরাদ্দ মূলত মেয়ররাই করবেন। তবে আমি মনে করি, সেখানে অগ্রাধিকার পাবেন যাঁরা স্থায়ী কর্মী, তারাই।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই প্রকল্পগুলো একটি চলমান প্রকল্প। আমরা চাই যাঁরা আমাদের পরিবেশকে পরিষ্কার রাখেন তাঁরা যেন ভালো পরিবেশে থাকেন, একটি সুস্থ জীবন যাপন করেন।’

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম হলো ১৫ দশমিক ৬১ একর ভূমি অধিগ্রহণ। তিন হাজার ৪০টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ, ৬৬টি সুয়্যারেজ পরিশোধন, গ্রাউন্ড রিচার্জসহ রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং নির্মাণ ও গাড়ি ক্রয় । এই প্রকল্পে পরামর্শকের পেছনে ব্যয় হবে সাত কোটি ৯১ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মামুন-আল রশিদ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তাবনায় বলেছেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভায় কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে সমাজের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব হবে। সে জন্য প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে।’

সূত্র জানায়, দেশ স্বাধীনের পরপর প্রধান নগরগুলোর বাসিন্দার সংখ্যা ছিল মাত্র ৫৫ লাখ। অথচ ২০১১ সালে সেই জনসংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় তিন কোটি ৫০ লাখ। বর্তমানে শহরাঞ্চলে জনসংখ্যা ক্রমবর্ধমান। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগই বাস করে পৌর এলাকায়, যেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কাজের ভারও থাকে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের ওপর। পৌরসভা থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আবাসিক কোনো ব্যবস্থা না করায় তাঁরা শহরের বিচ্ছিন্ন স্থানে অস্থায়ী শেডে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করেন। সমাজে অবহেলিত সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র জনগোষ্ঠী তথা পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে তাঁদের কাছ থেকে উন্নত সেবাপ্রাপ্তির জন্য ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর ঢাকা সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ‘ঢাকা সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাস’ নির্মাণ নামের একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। এই প্রকল্পের আওতায় সম্পাদিত দুটি ভবন ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে উপজেলা পর্যায়েও পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাস নির্মাণের গুরুত্ব দেন। তাঁর সেই নির্দেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হচ্ছে।

একনেকে আরো উঠছে যেসব প্রকল্প

উত্তরের বিভাগ রংপুরে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার স্থাপন’, ‘হিলি বুড়িমারী ও বাংলাবান্দা এসসি স্টেশনের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ’ প্রকল্প, নদী রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য বুড়িগঙ্গা তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরভূমিতে পিলার স্থাপন, তীর রক্ষা পিলার স্থাপন, জেটি নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ (প্রথম পর্যায়) সংশোধনী; দেশের তরুণ প্রজন্মকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষা দিতে নেওয়া হয়েছে ‘অ্যাকসেলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং স্কিলস ফর ট্রান্সফরমেশন (এএসএসইটি)’ শীর্ষক প্রকল্প, আঞ্চলিক ডাল গবেষণা কেন্দ্র, মাদারীপুরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৃহত্তর বরিশাল, ফরিদপুর অঞ্চলে ডাল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প; সিরাজগঞ্জ উপজেলার যমুনা নদী থেকে পুনরুদ্ধারকৃত ভূমির উন্নয়ন এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল রক্ষা (প্রথম সংশোধনী)। এ ছাড়া সাতক্ষীরা জেলার পোল্ডার নম্বর ১৫ পুনর্বাসন প্রকল্প।



সাতদিনের সেরা