kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

পাঁচ শতাধিক অভিবাসীবোঝাই নৌকা ইতালিতে

‘কিছু বাংলাদেশিও আছে’

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৩০ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাঁচ শতাধিক অভিবাসীবোঝাই নৌকা ইতালিতে

ইতালির ল্যাম্পেডুসা দ্বীপের কাছ থেকে পাঁচ শর বেশি অভিবাসীসহ একটি মাছ ধরার নৌকা উদ্ধার করা হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত

পাঁচ শরও বেশি অভিবাসী নিয়ে মাছ ধরার একটি নৌকা গত শনিবার ইতালির ল্যাম্পেডুসা দ্বীপে পৌঁছেছে। ইউরো নিউজ জানিয়েছে, জরাজীর্ণ নৌকাটি ইতালির নৌবাহিনীর নৌযানের সহায়তায় ওই দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপটিতে পৌঁছে। নৌকাটিতে ৫৩৯ জন অভিবাসী আছে। তাদের কয়েকজন বাংলাদেশি।

ল্যাম্পেডুসায় ডক্টরস উইদাউট বর্ডারসের কার্যক্রমে নিয়োজিত নার্স অ্যালিডা সিরাচিয়েরি জানান, নৌকাটির আরোহীদের মধ্যে তিনজন নারী এবং অভিভাবকহীন কয়েকটি শিশু রয়েছে। কোস্ট গার্ডের দুটি ও কাস্টমসের একটি নৌযান অভিবাসীদের কয়েক দলে ভাগ করে তীরে নিয়ে আসে।

অভিবাসীদের নিয়ে লিবিয়ার উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করা মাছ ধরার ওই নৌকা কত দিন সাগরে ছিল, তা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারসের নার্স অ্যালিডা সিরাচিয়েরি বলতে পারেননি। তবে তিনি বলেছেন, ওই অভিবাসীরা ইউরোপে পৌঁছার জন্য পাচারকারীদের নৌকায় ওঠার আগে লিবিয়ায় কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস অপেক্ষা করেছিল।

নার্স অ্যালিডা সিরাচিয়েরি বলেন, নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন আছে এমন অন্তত ২০ জন অভিবাসীকে চিকিৎসকদল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে।

তিনি বলেন, ‘তাদের শরীরে আগুনে পোড়া ও অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন। তাদের জীর্ণশীর্ণ অবস্থা। অনেকে পানিশূন্যতায় ভুগছিল।’

ইউরো নিউজ জানায়, ওই অভিবাসীদের অনেকেই উত্তর আফ্রিকা বা পশ্চিম আফ্রিকার। তবে অনেকে বাংলাদেশের। এর আগে গত শনিবার এবং আরো আগের দিকে প্রায় ১৫ জন করে অভিবাসী নিয়ে দুটি ছোট নৌকা ল্যাম্পেডুসার জলসীমায় পৌঁছে। স্থানীয় সময় গত শনিবার বিকেলের দিকে ২০ জন আরোহী নিয়ে আরেকটি নৌকা ল্যাম্পেডুসার দিকে এগুচ্ছিল।

ল্যাম্পেডুসা দ্বীপের যে হাউজিং কমপ্লেক্সে এভাবে সাগরপথে অবৈধভাবে আসা অভিবাসীদের রাখা হয় সেটির ধারণক্ষমতা প্রায় ২৫০ জন। ওই হাউজিং কমপ্লেক্স থেকে অভিবাসীদের আশ্রয়ের জন্য আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। গত শনিবার এক নৌকাতেই পাঁচ শতাধিক অভিবাসী আসার ফলে সেখানে আগে অবস্থানরতদেরসহ মোট সংখ্যা প্রায় এক হাজার দুই শতে পৌঁছেছে। তাদের অনেকেই সিসিলি বা ইতালির মূল ভূখণ্ডে স্থানান্তরের অপেক্ষায় আছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছা অভিবাসীদের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি। তারা ইউরোপে নিজেদের থাকার যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে না  পারলে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সরকার ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ (এসওপি) সই হয়েছে। নভেল করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অনিয়মিত অভিবাসীদের ফিরিয়ে আনতে দেরি করায় ইইউ বাংলাদেশিদের জন্য ভিসার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ এবং ভিসার সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।

 



সাতদিনের সেরা