kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

বেসরকারি হাসপাতালে বেশি ডেঙ্গু রোগী, সরকারিতে করোনা

► ঢাকার ৭১ শতাংশ ডেঙ্গু রোগী বেসরকারিতে, ৬৬ শতাংশ মৃত্যুও সেখানে
► সরকারিতে করোনা রোগী এক হাজার ৭০৫ বেসরকারিতে ৬৪১ জন

তৌফিক মারুফ   

২৮ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




বেসরকারি হাসপাতালে বেশি ডেঙ্গু রোগী, সরকারিতে করোনা

প্রতিদিন ডেঙ্গু আক্রান্ত যত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে তাদের বেশির ভাগই যায় বেসরকারি হাসপাতালে। এখন পর্যন্ত এর হার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর ৭১ শতাংশ। অন্যদিকে ডেঙ্গুতে মৃত্যুও বেশি বেসরকারি হাসপাতালে, ৬১ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে এমন চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে করোনা রোগীর ভিড় বেশি সরকারি হাসপাতালে।

ওই তথ্য অনুসারে সরকারি হাসপাতালের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তদের সর্বোচ্চ ভিড় থাকছে শুধু রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে।

জনস্বাস্থ্যবিদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এডিস মশা যেহেতু সাধারণত পরিষ্কার জমানো পানিতে জন্মে, ফলে এমন উৎসস্থলের ভবনগুলোতেই বেশি লোক ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছে। আমাদের জরিপেও এর প্রমাণ আসে বারবার। সেই তুলনায় নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাসস্থলে সাধারণত পরিষ্কার পানি জমে থাকার মতো পরিবেশ কম। বরং নোংরা পানিই বেশি। যেখানে কিউলিকস মশার উৎস বেশি থাকে। এর ভিত্তিতে বলা যায়, সাধারণত ডেঙ্গু আক্রান্তদের বেশির ভাগই তুলনামূলক কিছুটা সচ্ছল পরিবারেই। ফলে তাদের মধ্যে যাদের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পড়ে তারা প্রথমেই পছন্দ করে বেসরকারি হাসপাতালকে। এ ছাড়া এবার আরেকটি কারণ হচ্ছে সরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেকেই ওই সব হাসপাতালে যেতে চায় না। এর পরও যাদের তুলনামূলক সচ্ছলতা কম তারা সরকারি হাসপাতালেই বেশি যায়।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. ফরিদ হোসেন মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের তথ্যও বলছে করোনা রোগীরা বেশি সরকারি হাসপাতালে আর ডেঙ্গু আক্রান্তরা বেশি যায় বেসরকারি হাসপাতালে। কিন্তু আমাদের নির্ধারিত নতুন ছয়টি ডেঙ্গু বিশেষায়িত হাসপাতাল ছাড়াও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বড় প্রায় সব হাসপাতালেই করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গুর চিকিৎসাও হয়। যেখানে প্রায় সবটাই ফ্রি। পরীক্ষায়ও কোনো টাকা দিতে হয় না। মানুষও সেটা জানে। এর পরও মানুষ বেসরকারিতে বেশি যায় তাদের সচ্ছলতার কারণে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে চলতি ডেঙ্গু মৌসুমে ঢাকায় হাসপাতালে ভর্তি মোট আট হাজার ৪৬৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের মধ্যে ছয় হাজার ৭৮ জনই ভর্তি হয়েছে ৩০টি বেসরকারি হাসপাতালে। বাকি দুই হাজার ৩৮৭ জন ভর্তি হয় ১২টি সরকারি হাসপাতালে। সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে দুই হাজার চারজন। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ এক হাজার ৪৫১ জনই ভর্তি হয় রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। অন্যদিকে ডেঙ্গুতে মৃত ৪০ জনের মধ্যে ৩৬ জনই ঢাকায়। তাদের মধ্যে ১২ জন সরকারি হাসপাতালে (সাতজন ঢাকা শিশু হাসপাতালে ও পাঁচজন মিটফোর্ডে) মারা গেছে। ২৪ জন মারা গেছে বেসরকারি হাসপাতালে। মোট সুস্থ হওয়া সাত হাজার ৪৬৪ জনের মধ্যে পাঁচ হাজার ৪৬০ জন ছিল বেসরকারি হাসপাতালে। এমনকি এখনো ঢাকায় মোট হাসপাতালে ভর্তি থাকা ৯৬৫ জনের মধ্যে ৫৯৪ জন বেসরকারি হাসপাতালে ও ৩৭১ জন সরকারি হাসপাতালে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাবিষয়ক সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, এখন ঢাকার ১৭টি সরকারি হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তি আছে এক হাজার ৭০৫ জন। অন্যদিকে ২৯টি বেসরকারি হাসপাতালে আছে ৬৪১ জন।

অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমদ বলেন, করোনা চিকিৎসার খরচের দিক থেকে বেসরকারি হাসপাতাল আর সরকারি হাসপাতালের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান, ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে তেমনটা নয়। অর্থাৎ ডেঙ্গু চিকিৎসার খরচ করোনার চিকিৎসার মতো অত বেশি নেওয়ার খুব একটা সুযোগ নেই; যদি না নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি হওয়ার দরকার পড়ে।

 



সাতদিনের সেরা