kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

সাক্ষাৎকার : মাইকেল কুগেলম্যান

যুক্তরাষ্ট্রের সব অর্জন এখন বড় ঝুঁকিতে পড়েছে

১৯ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্রের সব অর্জন এখন বড় ঝুঁকিতে পড়েছে

প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি আফগান জনগণের চোখে তালেবানের চেয়েও বড় ‘ভিলেন’ হয়ে উঠেছিলেন—এমনটিই মনে করেন ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া প্রগ্রামের উপপরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান। গতকাল বুধবার  ভোরে কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র বিশেষ প্রতিনিধি মেহেদী হাসান।

 

কালের কণ্ঠ : ২০ বছর আগে আফগানিস্তানে যাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করেছিল, তারাই আবার ক্ষমতায় এলো। তাহলে আফগানিস্তানে গত ২০ বছরে কী অর্জন করল?

মাইকেল কুগেলম্যান : যুক্তরাষ্ট্রের বড় অর্জনগুলো এসেছে যুদ্ধের শুরুর দিকে। যুক্তরাষ্ট্র তখন আফগানিস্তান থেকে আল-কায়েদার ‘অভয়াশ্রম’ উচ্ছেদ এবং তাদের আশ্রয়দাতা তালেবানকে ক্ষমতা থেকে উত্খাত করেছিল। এ ছাড়া মানব উন্নয়ন, সাক্ষরতা, জনস্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো ক্ষেত্রে আফগানের অগ্রযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের অর্জন। তবে এসব অর্জন এখন সত্যিকারের ঝুঁকিতে পড়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : এত প্রশিক্ষিত আফগান নিরাপত্তা বাহিনী এভাবে তালেবানের কাছে কার্যত বিনা বাধায় হেরে গেল! এর কারণ কী?

মাইকেল কুগেলম্যান : আফগানিস্তানের সামরিক বাহিনী তালেবানের শক্তির কাছে হারেনি। তারা হেরেছে নিজেদের দুর্বলতার কাছে। তালেবান অবশ্যই শক্তিশালী। বিগত বছরগুলোতে তালেবান আফগানিস্তানের বিশাল এলাকা, অস্ত্রশস্ত্র ও অর্থসম্পদ নিজেদের দখলে নিয়েছে। কিন্তু আফগান সামরিক বাহিনী তুলনামূলক কম কার্যকর সরঞ্জাম, বড় ধরনের দুর্নীতি ও নাজুক মনোবল নিয়ে হিমশিম খেয়েছে। 

 

কালের কণ্ঠ : তাই বলে কি আফগান সামরিক বাহিনী কোনো প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টাই করবে না?

মাইকেল কুগেলম্যান : আসলে, নাজুক মনোবলের কারণে আফগান বাহিনী যুদ্ধ করার আগ্রহই হারিয়ে ফেলেছিল। তারা ব্যাপকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রশস্ত্র ও অর্থের ওপর নির্ভরশীল ছিল। দুর্নীতি ও দুর্বল মনোবল আফগান বাহিনীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এগুলোই তাদের পতনে সহায়ক হয়েছে। এসব সমস্যা এত জটিল ও গভীর যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সমাধান করা কঠিন ছিল।

 

কালের কণ্ঠ : আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি বলেছেন যে রক্তপাত এড়াতেই তিনি চলে গেছেন। আফগানিস্তানে এই ক্ষমতার পালাবদলের জন্য তিনি কতটা দায়ী?

মাইকেল কুগেলম্যান : আশরাফ গনির সরকারের পতন হয়েছে তাঁর একগুঁয়ে মনোভাব ও জেদের কারণে। দেশের স্বার্থে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেয়ে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতেই বেশি চেষ্টা ছিল তাঁর। শেষ দিকে আফগান জনগণের চোখে তালেবানের চেয়েও বড় ভিলেন হয়ে উঠেছিলেন প্রেসিডেন্ট গনি। আফগানিস্তানে একের পর এক শহর, প্রাদেশিক রাজধানী তালেবানের দখলে যাচ্ছিল। তখনো তাঁর সরকার নিরাপত্তা বাহিনীকে কোনো দিকনির্দেশনা বা কৌশল দিতে পারেনি।

 

কালের কণ্ঠ : যুক্তরাষ্ট্র কী করল?

মাইকেল কুগেলম্যান : কয়েক বছর আগে সেনা প্রত্যাহার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান সমঝোতা ছিল কার্যত তালেবানের কাছে আফগান বাহিনীর ‘ভার্চুয়াল’ আত্মসমর্পণ। ওয়াশিংটন পোস্টের গবেষণা প্রকল্প ‘আফগানিস্তান পেপারসের’ যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথি থেকে আমরা এখন জানি, যুক্তরাষ্ট্র বেশ আগে থেকেই জানত পরিস্থিতি কতটা খারাপের দিকে যাচ্ছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা হাসিমুখে ক্রমবর্ধমান অজনপ্রিয় এই যুদ্ধ নিতে ইতিবাচক গল্পগুলোই তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। আর এটাই আজ আমাদের এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।

 

কালের কণ্ঠ : আফগানিস্তানে এই পরিবর্তন ভারত ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলবে?

মাইকেল কুগেলম্যান : আফগানিস্তানে ক্ষমতার পরিবর্তন ভারতের জন্য কঠিন স্ট্র্যাটেজিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এটি কেবল তালেবানের রাষ্ট্রক্ষমতায় ফেরার কারণে নয়। ভারতের স্ট্র্যাটেজিক প্রতিযোগী চীন ও পাকিস্তানের জোরালো পদচিহ্নও এখন আফগানিস্তানে দেখা যাবে।

 

কালের কণ্ঠ : পাকিস্তানেও তালেবান আছে। তাদের ক্ষেত্রে আফগানিস্তানে ক্ষমতার পালাবদলের প্রভাব কী হতে পারে?

মাইকেল কুগেলম্যান : আফগান তালেবান আর পাকিস্তানি তালেবান একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তাদের আদর্শ এক। তারা আফগানিস্তানে বিভিন্ন অভিযানে সহযোগিতা করেছে। এখন পাকিস্তান যদি আফগান মাটিতে পাকিস্তানি তালেবানকে (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান, সংক্ষেপে টিটিপি) দমনের জন্য আফগানিস্তানকে অনুরোধ করে তাহলে আফগান সরকার কতটা শুনবে তা নিয়েও সন্দেহ আছে।

 

কালের কণ্ঠ : এবার তালেবান আসলে কতটা বদলাবে?

মাইকেল কুগেলম্যান : তালেবান যা যা চেয়েছিল সবই হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা আফগানিস্তান ছেড়ে গেছে। আশরাফ গনি পদত্যাগ করেছেন এবং আফগানিস্তান ছেড়েছেন। তালেবান এরপর রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়েছে। গত কয়েক দিনে কাবুল থেকে কিছু ভয়ংকর ছবি পাওয়া গেছে। তবে তালেবানের প্রথম সংবাদ সম্মেলন ছিল নিরেট পরাবাস্তব।

 

 



সাতদিনের সেরা