kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

চন্দ্রিমা উদ্যানে পুলিশ বিএনপি সংঘর্ষ

► আহত অর্ধশতাধিক আটক ২০
► ঢাকায় আজ প্রতিবাদ বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চন্দ্রিমা উদ্যানে পুলিশ বিএনপি সংঘর্ষ

রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে গতকাল জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয় পুলিশের। এতে বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। গ্রেপ্তার করা হয় ২০ জনকে। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীতে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ, ব্যাপক লাঠিপেটা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতারা শেরেবাংলানগরে চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ আগ্রাসী হয়ে হামলা চালিয়েছে উল্লেখ করে এর প্রতিবাদে আজ বুধবার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে থানায় থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

পুলিশের সঙ্গে এই সংঘর্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, সদস্যসচিব আমিনুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টিসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় প্রায় ২০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করেন বলে জানা গেছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) শহীদুল্লাহসহ বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিএনপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ঘিরে চন্দ্রিমা উদ্যান এলাকায় গতকাল সকাল থেকেই পুলিশের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মহানগর বিএনপির নবগঠিত দুই কমিটির নেতারা কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক নিয়ে জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানাতে চন্দ্রিমা উদ্যানের সামনে জড়ো হন। নেতাকর্মীরা জিয়ার কবরের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। পুলিশও এ সময় লাঠিপেটা শুরু করে। এক পর্যায়ে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এ সময় আমানউল্লাহ আমানসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

কিছু সময় পর মহানগর উত্তরের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে জিয়ার কবর অভিমুখী সড়কে যেতে শুরু করলে পুলিশ আবারও কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে। নেতাকর্মীরা এদিক-ওদিকে ছুটতে থাকেন। পুলিশ ধাওয়া করে তাঁদের চন্দ্রিমা উদ্যানের সীমানার বাইরে বের করে দেয়।

সংঘর্ষের কিছু সময় পর আমানউল্লাহ আমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচির ব্যাপারে পুলিশকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ আগ্রাসী হয়ে বিনা উসকানিতে হামলা ও গুলি চালিয়েছে। আমাদের সদস্যসচিব আমিনুল হককে গুলি করে রক্তাক্ত করা হয়েছে।’

এদিকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময়ে শেরেবাংলানগর, ফার্মগেট ও আশপাশের রাস্তায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা রাস্তায় নেমে শতাধিক যানবাহন ভাঙচুর করেন। পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. জয়নুল বারীর গাড়িও ভাঙচুরের শিকার হয়।

পরিকল্পনাসচিব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চন্দ্রিমা উদ্যানের কর্নারে আসার পর হঠাৎ বেশ কিছু যুবক এসে আমার গাড়ি ভাঙচুর শুরু করে। আমি কোনো রকমে গাড়ি থেকে নেমে পুলিশের আশ্রয় নিই। গাড়ি থেকে দ্রুত নেমে যাওয়ায় আমার কোনো ক্ষতি হয়নি।’

এদিকে সংঘর্ষের পর বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনার জন্য পুলিশকে দায়ী করা হয়। দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেন, মহানগর বিএনপির নবগঠিত কমিটির নেতাদের পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া অনুষ্ঠানের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল। কর্মসূচি পালনের জন্য পুলিশের কাছ থেকে নিয়ম অনুযায়ী অনুমতিও নেওয়া ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, অনুষ্ঠানের এক ঘণ্টা আগে থেকেই পুলিশ পুরো এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে রাখে এবং সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে নেতাকর্মীদের ওপর গুলি, টিয়ার গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে।

সালাম বলেন, পুলিশের লাঠিপেটা ও রাবার বুলেটে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহপ্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির শহীদুল ইসলাম বাবুল, মকবুল আহমেদ সরদার, মোহাম্মদ নাঈম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শরীফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীনসহ ঢাকা জেলা যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, জাসাসসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতারা গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এ জে এম শামসুল হক, কৃষক দলের নেতা শাহজাহান সম্রাটসহ আরো অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে শেরেবাংলানগর থানার ওসি জানে আলম মুন্সী বলেন, ‘চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ও একজন এডিসিসহ আমরা বেশ কয়েকজন আহত হয়েছি। আমিসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। বাকিরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’ ওসি জানান, ঘটনাস্থল থেকে বিএনপির ১০ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।