kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার

অর্থনীতিতে গতি আনতে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে হবে

অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান সম্মাননীয় ফেলো, সিপিডি

১৩ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অর্থনীতিতে গতি আনতে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে হবে

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে অর্থনীতিতে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রশমন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস করতে না পারলে অর্থনীতি আগের ধারায় ফিরে আসবে না। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন সজীব হোম রায়।

 

কালের কণ্ঠ : করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যু দুটিই বেড়েছে। সরকার বাধ্য হয়ে লকডাউন দিচ্ছে। লকডাউন অর্থনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে?

মুস্তাফিজুর রহমান : লকডাউন দিলে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ে। করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময় ৬০ শতাংশ মানুষ বেকার হয়েছিল। দারিদ্র্যের হার ৩৫ শতাংশে উঠেছে। মানুষের আয় কমেছে, আয়বৈষম্য বেড়েছে, সম্পদবৈষম্য বেড়েছে। অনেকেই বেকার হয়ে গ্রামে ফিরে গেছে। তারা হয়তো কোনোমতে টিকে ছিল। কিন্তু তাদের আয় আগের জায়গায় ফিরে আসেনি। প্রবাসীরা কাজ হারিয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছিল। তারাও পরিবারের বোঝায় পরিণত হয়েছে। এসব যখন কাটিয়ে উঠে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই দ্বিতীয় ধাক্কাটা এসেছে। এতে অর্থনীতিতে আবারও প্রভাব পড়েছে। তবে লকডাউন প্রয়োজন ছিল, লকডাউনের প্রয়োজনীয়তা আছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রশমন করে ইতিবাচক ভবিষ্যতের দিকে যাত্রার জন্যই লকডাউনের প্রয়োজনীয়তা আছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি সামাল দিতে না পারলে অর্থনীতি সমস্যায় পড়বে। সরকার যে প্রণোদনা প্যাকেজগুলো দিয়েছে, সেগুলো ভালো। সরকার গরিবদের নগদ সহায়তা করেছে। এতে তারা সরাসরি উপকার পেয়েছে। তবে এই উপকারভোগীর সংখ্যা ১৭ লাখ থেকে আরো বাড়াতে হবে।

 

কালের কণ্ঠ : চলতি বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। করোনা মোকাবেলায় বরাদ্দও রাখা হয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে এসব পদক্ষেপ সন্তোষজনক বা পর্যাপ্ত কি না?

মুস্তাফিজুর রহমান : চলতি অর্থবছরের বাজেটে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা কাটিয়ে ওঠা বা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার কোনো কথা, রূপরেখা নেই। বাজেট দেখে মনে হয়েছে, করোনা কেটে গেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য সব ঠিক আছে। অর্থনীতিতে তেজিভাব থাকবে। যদিও বাজেটে করোনা মোকাবেলায় কিছু বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কিন্তু বড় কোনো পদক্ষেপের কথা বলা নেই।

 

কালের কণ্ঠ : লকডাউনের পর অর্থনীতি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকারকে কী কী উদ্যোগ নিতে হবে?

মুস্তাফিজুর রহমান : করোনায় সৃষ্টি হওয়া নতুন দরিদ্রদের আয় বাড়ানোয় সহায়তা দিতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়াতে হবে। খাদ্য সহায়তা দিতে হবে। বর্তমানে ১৬ লাখ টন খাদ্য মজুদ আছে। সেটা আরো বাড়াতে হবে। মূল্য সহনীয় রাখতে হবে। তবে মূল কাজ, স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস করতে হবে। করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সবাইকে টিকার আওতায় আনতে হবে। সরকার টিকার জন্য নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন উৎস থেকে টিকা কেনা হচ্ছে। এগুলো ভালো, প্রশংসনীয়। তবে এর ব্যাপকতা আরো বাড়াতে হবে। যত দ্রুত এই কাজ আমরা করতে পারব, অর্থনীতি তত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে। সরকারের পাশাপাশি কমিউনিটি বেইজড অর্গানাইজেশনগুলোকে দিয়ে সহায়তা বাড়াতে হবে। কুটির শিল্প, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আরো বেশি প্রণোদনা দিতে হবে। প্রণোদনায় এসব কমিউনিটি বেইজড অর্গানাইজেশন এবং এনজিওদের কাজে লাগাতে হবে। এনজিওর মাধ্যমে প্রণোদনার ঋণ বিতরণ করতে হবে। এনজিওগুলো এসব কাজে অভিজ্ঞ।

করোনার প্রথম ধাক্কায় কৃষি খাতে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল। এবার সে রকম কিছু দেখিনি। দ্বিতীয় ধাক্কায় যেন নতুন করে ভর্তুকিতে কৃষি ঋণ পায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যক্তি খাতকে চাঙ্গা করতে হবে। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ ২৪ শতাংশের মধ্যে ঘোরাঘুরি করছে অনেক দিন ধরে, সেটা বাড়াতে হবে। প্রণোদনার ঋণ পেতে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। এখন প্রবৃদ্ধির দিকে নজর দেওয়ার সময় নয়, সরকারকে বাস্তবসম্মতভাবে অর্থনীতি পরিচালনা করতে হবে। রপ্তানিটাকে আবার আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হবে। মানুষের আয় কমে গেছে, সঞ্চয় ফুরিয়ে এসেছে। অনেকের হয়তো সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। ব্যবসা করার মতো পুঁজি নেই। তাই সরকারকে ব্যাপকভাবে কর্মসৃজন কর্মসূচি হাতে নিতে হবে।

 

কালের কণ্ঠ : অর্থনীতিকে আবার আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে মোটা দাগে সরকারকে কী করতে হবে?

মুস্তাফিজুর রহমান : তিনটি বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। অর্থনীতিকে গতিময় করতে টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস করতে হবে। খোলাবাজারে পণ্য বিক্রিসহ অন্যান্য সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়াতে হবে। সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ বাড়বে।

 



সাতদিনের সেরা