kalerkantho

শুক্রবার । ৬ কার্তিক ১৪২৮। ২২ অক্টোবর ২০২১। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ

দুই নেতায়ই দুই বছর পার

মোবারক আজাদ   

৫ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুই নেতায়ই দুই বছর পার

২০১৯ সালের ১৪ জুলাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) রেজাউল হক রুবেলকে সভাপতি ও ইকবাল হোসেন টিপুকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। নির্দেশনা দেওয়া হয়, এক বছরের জন্য অনুমোদিত এই কমিটি যেন দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দেয়। কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে তিন বছরে পা রেখেও তারা সেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে জমা দিতে পারেনি।

চবি ছাত্রলীগের বেশির ভাগ নেতাকর্মীই এত দীর্ঘ সময়েও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ার জন্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার অভাবকেই দুষছেন। তাঁরা দুই সদস্যের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি চান। তবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দাবি করছেন, করোনার কারণে লকডাউনে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা সম্ভব হয়নি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি না পেয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। সঠিক সময়ে কমিটি না হওয়ায় একনিষ্ঠভাবে ছাত্রলীগ করেও পদপদবি ছাড়াই অনেকের শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে।

চবি ছাত্রলীগের এক গ্রুপ নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সমর্থক, অন্য গ্রুপ শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী। ছাত্রলীগের এ দুই মূল গ্রুপের মধ্যে আবার বিভিন্ন নামে ১১টি উপগ্রুপ রয়েছে।

চবি ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিজয় গ্রুপের নেতা মো. ইলিয়াস বলেন, ‘এক বছরের জন্য অনুমোদনকৃত এ কমিটিকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুই বছর পার হলেও তাঁরা এখনো পূর্ণাঙ্গ করতে পারেননি। এখন তো মেয়াদই নেই। করোনা সারা বিশ্বের জন্য অভিশাপ হলেও ওই দুই নেতার জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। কমিটির কথা বললেই তাঁরা করোনার দোহাই দেন। সারা দেশেই তো কমিটি হচ্ছে। তাঁদের আরো পাঁচ বছর সময় দিলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারবেন না। সংগঠন গতিশীল রাখতে দ্রুত নতুন কমিটি দেওয়ার আহ্বান জানাই।’

চবি ছাত্রলীগের ভিএক্স গ্রুপের নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয় বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম দ্রুত কমিটি পূর্ণাঙ্গ হোক। কিন্তু দুই সদস্যের এ কমিটি আমাদের চাওয়াকে গুরুত্ব দেয়নি এবং আন্তরিকতার সঙ্গে নেয়নি। বিভিন্ন অজুহাতে হল কমিটি, ফ্যাকাল্টি কমিটি দেবে দেবে করে ৯ মাস পার করেছে। কিন্তু এ পর্যন্ত একটা হল কমিটি, ফ্যাকাল্টি কমিটিও দিতে পারেনি। করোনা আসার পর করোনার অজুহাত দেখাচ্ছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের মধ্যেও সাংগঠনিক কার্যক্রম যেখানে চলছে, সেখানে কমিটি দিতে আপত্তি কোথায়?’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রলীগকর্মী বলেন, ‘যাঁরা ছাত্ররাজনীতি করেন তাঁরা সবাই কমবেশি পদপদবির আশা করেন। কিন্তু যাঁরা দায়িত্ব পেয়েছেন তাঁরা পরে অন্য কর্মীদের পদ পদবির কথা ভাবেন না। এতে অনেকে দীর্ঘ সময় ছাত্ররাজনীতি করেও কোনো ধরনের পদপদবি না পেয়ে হতাশা নিয়ে শিক্ষাজীবন শেষ করছেন। তাই অনুরোধ থাকবে, এ কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি দেওয়া হোক।’

জানতে চাইলে চবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনা আসার পর সব কিছুই প্রায় স্থবির। তাই ক্যাম্পাস না খুললে কমিটি দেওয়া সম্ভব নয়।’ করোনার আগে এক বছর মেয়াদের এ কমিটির ৯ মাসেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ না করতে না পারার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সে সময়ও তো আমরা কার্যক্রম চালিয়েছি। কর্মীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করে যাচাই-বাছাইয়ের কাজও করছিলাম। করোনায় আর কমিটি করা সম্ভব হয়নি। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুললে কমিটি করার সুযোগ নেই।’

চবি ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনা-লকডাউনে আমার কী করার আছে।’ করোনার আগে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে না পারার বিষয়ে তিনি বলেন. ‘যাচাই-বাছাই করে অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকিয়ে ত্যাগী ও আদর্শ কর্মীদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে গিয়ে সে সময় হয়ে ওঠেনি।’ তবে বিশ্ববিদ্যালয় খুললেই পূর্ণাঙ্গ কমিটিসহ অন্যান্য কমিটি করে ফেলবেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।



সাতদিনের সেরা