kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

বিশেষজ্ঞ মত

বজ্রপাতে ছাউনি বা গাছের নিচে দাঁড়ানো যাবে না

অধ্যাপক ড. তৌহিদা রশীদ

৫ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বজ্রপাতে ছাউনি বা গাছের নিচে দাঁড়ানো যাবে না

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে যে মৃত্যুর ঘটনা ঘটল তার পেছনে বড় কারণ মানুষের অসচেতনতা। কারণ বর্ষাকালে বজ্রপাত বেশি হয়। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওই এলাকা মূলত নদী-বিলবেষ্টিত। বরযাত্রীরা যে ছাউনির নিচে আশ্রয় নিয়েছিল, সেটাও ঠিক হয়নি। কারণ খোলা জায়গার মধ্যে যেখানে উঁচু জায়গা থাকবে সেখানেই বজ্র আগে পড়ে। গ্রামের মানুষের জন্য আমি প্রথমে বলব, বর্ষাকাল বা এর আশপাশের সময়ে আবহাওয়ার সংবাদ শুনে ঘর থেকে বের হতে হবে। কারণ যেকোনো কাজের চেয়ে মানুষের জীবনের মূল্য অনেক বেশি।

এর পরও যদি কেউ ঘর থেকে বের হয়, তাহলে তাকে বজ্র পাতের সময় এমন এক জায়গায় আশ্রয় নিতে হবে, যার ছাদ আছে ও চারপাশে ইটের দেয়াল আছে। সেটা না পাওয়া গেলে টিনের ঘরও হতে পারে, তবে এর চারপাশে অবশ্যই ঘেরা থাকতে হবে। কোনো অবস্থায়ই শুধু ওপরে ছাউনি থাকা ঘরে দাঁড়ানো যাবে না। এ ছাড়া গাছের নিচেও দাঁড়ানো যাবে না। কারণ বজ্র পাত প্রথমেই খোঁজে উঁচু গাছ। যদি একান্তই কিছু পাওয়া না যায়, তাহলে গাছের গোড়া থেকে অন্তত পাঁচ-সাত ফুট বা আরো নিরাপদ দূরত্বে জড়সড় হয়ে শুধু পায়ের পাতার ওপর ভর করে বসে পড়তে হবে।

শহরের ক্ষেত্রেও একই পরামর্শ থাকবে। যারা রাস্তায় চলাফেরা করবে, তারা অবশ্যই চারপাশে ঘেরা ছাদযুক্ত জায়গায় অবস্থান নিতে হবে। এ সময় মোটরসাইকেল চালানো যাবে না। গাড়িতে থাকলে সেখানেই বসে থাকা যাবে। কিন্তু ছাদ বা পাশে খোলা এমন গাড়িতে বসা যাবে না। বজ্র পাতের সময় গাড়ির মাঝামাঝি জায়গায় অর্থাৎ চারপাশের মেটালযুক্ত ছাউনি বা দরজা থেকে কিছুটা দূরে থাকতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বজ্র পাতের সংখ্যা বাড়ছে। অনেক দেশই এমনকি আমাদের পাশের দেশ ভারতের কিছু জায়গায়ও বজ্র পাতের ৩০ মিনিট আগে সাইরেন বাজাচ্ছে। কিন্তু এটা খুব ব্যয়বহুল। তবে বজ্র পাত নিরোধক দণ্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া অনেক দেশই তালগাছ লাগিয়ে বজ্র পাত দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে রাখছে। কারণ বজ্র পাত সব সময়ই উঁচু জায়গা খোঁজে। ফলে ওই গাছগুলো বজ্র পাতের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করে। আমাদের দেশেও তাল বা সুপারির মতো গাছ বেশি করে লাগানো যেতে পারে।

বজ্র্র পাতকে সরকার জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। আমরাও সরকারের সঙ্গে কাজ করছি। কিন্তু মানুষকে সচেতন করার ক্ষেত্রে আমরা এখনো অনেকটাই পিছিয়ে আছি। এখন মানুষের হাতে হাতে মোবাইল ফোন। মোবাইল ফোনেই রেডিও শোনা যায়। সরকার খুব সহজে বজ্র পাতের আগেই মানুষকে বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে এর পূর্বাভাস কৃষক পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে। আর মানুষজনকেও বুঝতে হবে বজ্র পাত থেকে বাঁচতে সচেতনতাই হচ্ছে আসল। বজ্র পাতের আগে ও পরের মুহূর্তগুলো বুঝতে হবে। বজ্র পাতের সময় ঘরে থাকতে হবে।

লেখক : চেয়ারম্যান, আবহাওয়াবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়



সাতদিনের সেরা