kalerkantho

বুধবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৮। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২১ সফর ১৪৪৩

প্রতারণার অর্ধশত ফাঁদ চিকিৎসক ঈশিতার

‘রিমান্ডে অনেক অভিযোগের ব্যাপারেই দায় স্বীকার করে কথা বলছেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




প্রতারণার অর্ধশত ফাঁদ চিকিৎসক ঈশিতার

দেশ-বিদেশ থেকে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নিতে অর্ধশত প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিলেন চিকিৎসক ইশরাত রফিক ঈশিতা। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার অর্ধশতাধিক অভিযোগ পওয়া গেছে। রিমান্ডে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অনেক প্রশ্নের উত্তরেই দায় স্বীকার করছেন।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদকারী ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) শাহ আলী থানার এক কর্মকর্তা বলেন, চিকিৎসক ঈশিতা ফাঁদ পেতে প্রতারণা করতেন। এসব বিষয়ে রিমান্ডে জানতে চাইলে তিনি অনেক প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন। এসব অপকর্মের কারণে দেশ ও মানুষের অনেক ক্ষতি হয়েছে, তা স্বীকার করে তিনি অনুতাপও প্রকাশ করছেন।

প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঈশিতা ও তাঁর সহযোগীরা পরস্পর যোগসাজশে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার ভুয়া সদস্য, কর্ণধার বা দূত হিসেবে দেশ-বিদেশে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। ঈশিতা ইয়াং ওয়ার্ল্ড লিডারস ফর হিউম্যানিটি নামের সংগঠনটিতে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বা জনমনে গ্রহণযোগ্যতা পেতে পারে এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি যুক্ত করে অ্যাডভাইজার, ভাইস চেয়ারম্যান, ইন্টারন্যাশনাল ভাইস চেয়ারম্যানসহ নানা পদে থাকার ভুয়া প্রচার চালাতেন। এভাবে প্রতারণা করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিতেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানতে পেরেছেন, আট বছর আগে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের বাইরে চিকিৎসা বিষয়ে ঈশিতার আর কোনো সনদ কিংবা ডিগ্রি নেই। অথচ তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্যান্য মাধ্যমে নিজেকে কখনো তরুণ চিকিৎসাবিজ্ঞানী আবার কখনো বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে প্রচার করতেন। পাশাপাশি ক্ষেত্র বুঝে নিজেকে মানবাধিকারকর্মী, সংগঠক, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে তুলে ধরতেন। শুধু তা-ই নয়, ঈশিতা বিভিন্ন সাইটে চিকিৎসাশাস্ত্রে গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ প্রকাশ করতেন। বিভিন্ন গবেষণাধর্মী প্রকাশনা নিজের নামে প্রকাশ করতেন। ঈশিতা ও তাঁর সহযোগী শহিদুল ইসলাম ওরফে দিদার গ্রেপ্তার হলেও তাঁদের আরো বেশ কয়েকজন সহযোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের ধরতে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্র জানায়, চিকিৎসক ঈশিতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো, তিনি করোনা মহামারিকে পুঁজি করে ভার্চুয়াল জগতে প্রতারণায় সক্রিয় ছিলেন। রিমান্ডে নিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দায় স্বীকার করেন। পাশাপাশি প্রশিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে অনলাইনে করোনা প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করে সনদ প্রদান করে প্রচার চালানোর বিষয়ে তিনি জানান, কিছু সহকর্মীর মাধ্যমে তিনি এটা করেছেন। বিদেশিদের অর্থের বিনিময়ে সনদ নিতে আকৃষ্ট করা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি নীরব থাকেন।